যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিধাবিভক্ত ট্রাম্পের উপদেষ্টারা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করায় যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তার উপদেষ্টাদের একাংশ ভিন্ন চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের চাওয়া, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় বিশেষ করে অর্থনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী তা তিনি জনসমক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কড়া ভাষণের পরও প্রশাসনের ভেতরে ইরানে হামলার পক্ষে এখনো ‘একক সমর্থন’ নেই। উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে অর্থনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অনিশ্চিত ভোটারদ

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিধাবিভক্ত ট্রাম্পের উপদেষ্টারা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করায় যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তার উপদেষ্টাদের একাংশ ভিন্ন চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের চাওয়া, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় বিশেষ করে অর্থনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী তা তিনি জনসমক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।

এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কড়া ভাষণের পরও প্রশাসনের ভেতরে ইরানে হামলার পক্ষে এখনো ‘একক সমর্থন’ নেই। উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে অর্থনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অনিশ্চিত ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।

হোয়াইট হাউসের আরেক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি আমেরিকান জনগণের জন্য সরাসরি সাফল্য এনে দিয়েছে। তার সব পদক্ষেপই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ।

রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচন ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না তা নির্ধারণ  করবে। ডেমোক্র্যাটরা এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে প্রেসিডেন্টের শেষ মেয়াদে নীতিনির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ রব গডফ্রে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ইরান সংঘাত ট্রাম্প ও তার দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকভিত্তি ঐতিহ্যগতভাবে বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার বিপক্ষে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ অবসানের কথা বলেছিলেন।

গত মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ঘরানার অনেকেই সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে ইরান তুলনামূলকভাবে অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ। ফলে এখানে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ট্রাম্প শুক্রবার আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান ‘ন্যায্য চুক্তিতে; না এলে ফল ভুগতে হবে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ইরান কঠোর জবাবের হুমকি দেয়। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানে জয়ী হন। এ সময়ে তিনি মুদ্রাস্ফীতি কমানো ও ব্যয়বহুল বিদেশি সংঘাত এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জনমত জরিপ বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাতে তিনি এখনো ভোটারদের পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেননি।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ লরেন কুলি জানান, হামলা যদি সীমিত ও দ্রুত ফলদায়ক হয়, তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেন। তবে যে কোনো পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে।

ট্রাম্প সম্ভাব্য হামলার কারণ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি ইরানে বিক্ষোভ দমনের কঠোরতার প্রতিক্রিয়ায় হামলার হুমকি দিলেও পরে সরে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি তুলেছেন এবং কখনও কখনও ‘শাসন পরিবর্তনের’ কথাও বলেছেন। তবে বিমান হামলা কীভাবে সেই লক্ষ্য পূরণ করবে, তা পরিষ্কার নয়।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেন। কিন্তু ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow