যে কারণে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে গিয়েও বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

মাসের পর মাস আলোচনা ও মধ্যস্থতাকারীদের দৌড়ঝাঁপের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা অধরাই রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশ একাধিকবার চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নানা ইস্যুতে তা ভেস্তে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মূল বিরোধ এখন আর শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নয়; বরং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, আঞ্চলিক সংঘাত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক আস্থাহীনতাসবকিছু মিলিয়ে আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। গত কয়েক মাসে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার দাবি করেছেন যে দুই দেশ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি খুব ভালো চুক্তিচ করতে চলেছেন। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও। তিনি এমনকি এক পর্যায়ে দাবি করেন, যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে। তবে আশাবাদী এসব বক্তব্যের পরও যুদ্ধবিরতি বারবার ভঙ্গ হয়েছে এবং নতুন করে সামর

যে কারণে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে গিয়েও বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

মাসের পর মাস আলোচনা ও মধ্যস্থতাকারীদের দৌড়ঝাঁপের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা অধরাই রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশ একাধিকবার চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নানা ইস্যুতে তা ভেস্তে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মূল বিরোধ এখন আর শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নয়; বরং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, আঞ্চলিক সংঘাত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক আস্থাহীনতাসবকিছু মিলিয়ে আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

গত কয়েক মাসে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার দাবি করেছেন যে দুই দেশ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি খুব ভালো চুক্তিচ করতে চলেছেন। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও। তিনি এমনকি এক পর্যায়ে দাবি করেন, যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে।

তবে আশাবাদী এসব বক্তব্যের পরও যুদ্ধবিরতি বারবার ভঙ্গ হয়েছে এবং নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনা ঘটছে। ফলে চুক্তির সম্ভাবনা প্রতিবারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বর্তমান অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ। ইরান দাবি করছে, সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করতে হবে। তেহরানের মতে, এটি কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়; বরং পারস্পরিক আস্থার পরীক্ষা।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এই অর্থ ছেড়ে দিলে ইরানের ওপর তাদের অন্যতম প্রধান চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার দুর্বল হয়ে পড়বে।

উল্টো সম্প্রতি এমন তথ্য সামনে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর পুনর্গঠন কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। এতে দুই দেশের দূরত্ব আরও বেড়েছে।

চুক্তির পথে আরেকটি বড় বাধা হরমুজ প্রণালি। ইরান চায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের ভূমিকাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। পাশাপাশি তেল রপ্তানি ও বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবিও জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এসব বিষয়ে বড় ধরনের ছাড় দিতে রাজি হয়নি।

এ ছাড়া লেবানন, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতও আলোচনাকে জটিল করে তুলছে। ইরান বারবার বলছে, আঞ্চলিক সংকট সমাধান ছাড়া স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়। তাই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। এই পরিস্থিতি শান্তি আলোচনার পরিবেশকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল সমস্যাটি হলো আস্থার সংকট। ইরান এখনো মনে করে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন কোনো চুক্তিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করবে।

ফলে দুই দেশ একাধিকবার চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই এমন ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যা একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ এখনও দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত চুক্তি কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। কারণ আলোচনার টেবিলে থাকা প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।

সূত্র : আল জাজিরা

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow