যে কারণে টেস্ট দলে জোড়া চমক ও তিন পেসার বিশ্রামে

  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে জোড়া চমক রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকরা। তাওহীদ হৃদয়কে টেস্টে ফেরানো হয়েছে, একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ডাকা হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার রবিউল হককে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কোয়াড ঘোষণার পর দুইজনকে দলে নেওয়ার ব্যাখা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। ২০২৪ সালে সিলেট টেস্টের আগে চোটে পড়েন মুশফিকুর রহিম। তার জায়গায় দলে ডাকা হয় তাওহীদ হৃদয়কে। তখন অভিষেক হয়নি তার। এরপর আর দলেও ডাক পাননি। ২ বছর ২ মাস পর আবার লাল বলের ক্রিকেটে ডাক পেয়েছেন হৃদয়। তাওহিদ হৃদয়কে দলে নেওয়ার ব্যাখা করতে গিয়ে হাবিবুল বাশার বলছিলেন, ‘হৃদয় সাদা বলে নিয়মিতই খেলে। তবে আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলতে চাই, আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটেও সে খুব ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। আপনারা দেখেছেন, সম্প্রতি আমরা কিন্তু ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলছি। আমার মনে হয়, সে খুব ভালো একটি অপশন হতে পারে।’ ১৬ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৯৮৩ রান করেছেন হৃদয়। ৩ সেঞ্চুরি, ৪ ফিফটির সঙ্গে আছে একটি ডাবল সেঞ্চুরিও। হাবিবুল বাশার আত্মবিশ্বাসী হৃদয়

যে কারণে টেস্ট দলে জোড়া চমক ও তিন পেসার বিশ্রামে

 

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে জোড়া চমক রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকরা। তাওহীদ হৃদয়কে টেস্টে ফেরানো হয়েছে, একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ডাকা হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার রবিউল হককে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কোয়াড ঘোষণার পর দুইজনকে দলে নেওয়ার ব্যাখা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

২০২৪ সালে সিলেট টেস্টের আগে চোটে পড়েন মুশফিকুর রহিম। তার জায়গায় দলে ডাকা হয় তাওহীদ হৃদয়কে। তখন অভিষেক হয়নি তার। এরপর আর দলেও ডাক পাননি। ২ বছর ২ মাস পর আবার লাল বলের ক্রিকেটে ডাক পেয়েছেন হৃদয়।

তাওহিদ হৃদয়কে দলে নেওয়ার ব্যাখা করতে গিয়ে হাবিবুল বাশার বলছিলেন, ‘হৃদয় সাদা বলে নিয়মিতই খেলে। তবে আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলতে চাই, আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটেও সে খুব ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। আপনারা দেখেছেন, সম্প্রতি আমরা কিন্তু ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলছি। আমার মনে হয়, সে খুব ভালো একটি অপশন হতে পারে।’

১৬ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৯৮৩ রান করেছেন হৃদয়। ৩ সেঞ্চুরি, ৪ ফিফটির সঙ্গে আছে একটি ডাবল সেঞ্চুরিও। হাবিবুল বাশার আত্মবিশ্বাসী হৃদয় ব্যাট হাতে দলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট পরিসংখ্যান দেখেছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার রেকর্ডও খারাপ নয়। আর সে যখন ব্যাটিং করে, যে জায়গাতেই ব্যাটিং করুক না কেন, খুব কার্যকর ইনিংস খেলার সামর্থ্য রাখে। তাই এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। আমি তার ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী। লাল বলে সুযোগ পেলে সে ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

অন্যদিকে রবিউল হককে দলে নেওয়ার সময় পেস বোলিং অলরাউন্ডারের কথা মাথায় রেখেছেন নির্বাচকরা। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘রবিউল হকের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আমি আগেও বলেছি, আমরা একজন বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। সামনে সুযোগ পেলে আরও কয়েকজনকে আমরা দেখতে পারি। রবিউল হককে আমরা বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেই দলে নিয়েছি।’

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩২ ম্যাচে ১০৭ উইকেট নিয়েছেন রবিউল। ৪ ও ৫ উইকেট নিয়েছেন সমান ৪ বার। একই সময়ে ২ ফিফটিতে ৬০২ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট খেলেছেন হাসান মাহমুদ। বর্তমানে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ইংল্যান্ডে থাকা এই ক্রিকেটার দলে ফিরলেন ৬ মাস পর। তাকে নিয়ে হাবিবুল বাশারের মূল্যায়ন, ‘আমার মনে হয়, হাসান মাহমুদ আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার, সব ফরম্যাটেই। এই মুহূর্তে যদিও সে ওয়ানডে বা সাদা বলের ক্রিকেট খেলছে না, তবুও আমরা তাকে লাল বলের ক্রিকেটে সবসময় বিবেচনায় রাখি। আসলে সে সব দলের স্কোয়াডেই বিবেচনায় থাকে। এটা তার জন্যও একটি বড় সুযোগ। ভালো পরিবেশে, ভালো মানের ক্রিকেট খেলতে পারছে। সে কাউন্টি ক্রিকেটে দুটি ম্যাচ খেলবে, এরপর জিম্বাবুয়েতে দলের সঙ্গে যোগ দেবে।’

পেস আক্রমণ থেকে নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে বিশ্রাম দিয়েছে নির্বাচকরা। বিদেশের মাটিতে টেস্টে পেস আক্রমণের বড় নাম বিশ্রাম দেওয়ার পিছনে ওয়ার্কলোডের কথা বলেছেন হাবিবুল বাশার। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজের জন্য আমরা দলে কিছু পরিবর্তন এনেছি। সামনে আমাদের অনেক ব্যাক-টু-ব্যাক সিরিজ রয়েছে। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—অনেক ম্যাচ খেলতে হবে। তাই অবশ্যই আমরা কিছু খেলোয়াড়কে দেখতে চাই। এছাড়া ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কারণেই আমরা কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। আমাদের টেস্ট দলের নিয়মিত যে ফাস্ট বোলাররা আছেন, তাদের এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে।’

এসকেডি/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow