যে দেশে বেতনের বিনিময়ে মা-বাবাকে সময় দেন সন্তানরা
কল্পনা করুন, চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত কাজ। এমন পরিস্থিতিতে যদি আপনার নিজের মা-বাবাই আপনাকে মাসিক বেতনের বিনিময়ে ‘পূর্ণকালীন সন্তান’ (Full-time children) হিসেবে নিয়োগ দেন, তবে বিষয়টি কেমন হবে? শুনতে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও চীনের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন এক ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা। কী এই ‘ফুল টাইম চিলড্রেন’ বা পূর্ণকালীন সন্তান? চীনে বর্তমানে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও বেকারত্বের কারণে অনেক তরুণ প্রথাগত চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে মা-বাবার ‘ফুল টাইম’ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে পছন্দ করছেন। এর বিনিময়ে মা-বাবা তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক বেতনও প্রদান করেন। এই বেতনের পরিমাণ সাধারণত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ইউয়ানের (চীনা মুদ্রা) মধ্যে হয়ে থাকে, যা মূলত নির্ভর করে মা-বাবার পেনশন বা মাসিক আয়ের ওপর। দায়িত্ব ও কর্তব্য একজন ‘ফুল টাইম চাইল্ড’ হিসেবে এই তরুণদের দায়িত্ব মোটেও হালকা নয়। তারা তাদের মা-বাবাকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দেন এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মা-বাবাকে অভ্যস্ত করা, যেমন—মোবাইল অ্যাপ চালানো শেখানো, অনলাইনে প্রয়োজ
কল্পনা করুন, চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত কাজ। এমন পরিস্থিতিতে যদি আপনার নিজের মা-বাবাই আপনাকে মাসিক বেতনের বিনিময়ে ‘পূর্ণকালীন সন্তান’ (Full-time children) হিসেবে নিয়োগ দেন, তবে বিষয়টি কেমন হবে? শুনতে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও চীনের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন এক ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা।
কী এই ‘ফুল টাইম চিলড্রেন’ বা পূর্ণকালীন সন্তান?
চীনে বর্তমানে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও বেকারত্বের কারণে অনেক তরুণ প্রথাগত চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে মা-বাবার ‘ফুল টাইম’ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে পছন্দ করছেন। এর বিনিময়ে মা-বাবা তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক বেতনও প্রদান করেন। এই বেতনের পরিমাণ সাধারণত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ইউয়ানের (চীনা মুদ্রা) মধ্যে হয়ে থাকে, যা মূলত নির্ভর করে মা-বাবার পেনশন বা মাসিক আয়ের ওপর।
দায়িত্ব ও কর্তব্য
একজন ‘ফুল টাইম চাইল্ড’ হিসেবে এই তরুণদের দায়িত্ব মোটেও হালকা নয়। তারা তাদের মা-বাবাকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দেন এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মা-বাবাকে অভ্যস্ত করা, যেমন—মোবাইল অ্যাপ চালানো শেখানো, অনলাইনে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে দেওয়া, গাড়ি চালানো এবং মা-বাবার ভ্রমণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করার মতো কাজগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন তারা।
বেকারত্ব ও কর্পোরেট তিক্ততা: কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
চীনে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এই সংকটের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের বিষাক্ত পরিবেশও তরুণদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিয়াওইয়া নামের এক তরুণীর গল্পটি এখানে প্রাসঙ্গিক। সহকর্মীদের বাজে ব্যবহারের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আগের চাকরিটি ছেড়ে দেন। এরপর সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি মা-বাবার অধীনে মাসিক ৩ হাজার ইউয়ানের বিনিময়ে ১৫ মাস ‘ফুল টাইম চাইল্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও পরবর্তীতে তার মা-বাবা তাকে পুনরায় বাইরের কর্মজগতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন।
আবার এলা নামের আরেক তরুণী এই পেশা বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ আবেগীয় জায়গা থেকে। তার দাদার মৃত্যুর পর তার বাবা যখন তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন, তখন তাকে সঙ্গ দিতেই এলা নিজের ক্যারিয়ারের চেয়ে বাবার পাশে থাকাকেই বড় দায়িত্ব হিসেবে বেছে নেন।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ
What's Your Reaction?