যে ৫ অভ্যাস নীরবে হাড় দুর্বল করে

হাড়ের দুর্বলতা বা ভঙ্গুরতা যেকোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে। এর পেছনে ভিটামিন বা মিনারেলের অভাব কিংবা আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের আয়তন ও ঘনত্ব কমতে থাকে, যা বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে একটি অতি সাধারণ সমস্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ২ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৪ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস হাড়কে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নিচে এমন ৫টি অভ্যাস ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো: ১. খাবারে লবণের অতিরিক্ত ব্যবহার খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে হাড় ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। হাড়কে মজবুত রাখতে খাবারে লবণের ব্যবহার সীমিত করা জরুরি। ২. দীর্ঘ সময় বসে থাকা ৪০ বছর বয়সের পর হাড়ের ঘনত্ব প্রাকৃতিক নিয়মেই কমতে শুরু করে। বর্তমানে আমাদের কর্মঘণ্টার বেশিভাগ সময় বসে কাটে। শারীরিক সক্রিয়তা কম হওয়ায় হাড়ের গঠনগত শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাড়কে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে ন

যে ৫ অভ্যাস নীরবে হাড় দুর্বল করে
হাড়ের দুর্বলতা বা ভঙ্গুরতা যেকোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে। এর পেছনে ভিটামিন বা মিনারেলের অভাব কিংবা আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের আয়তন ও ঘনত্ব কমতে থাকে, যা বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে একটি অতি সাধারণ সমস্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ২ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৪ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস হাড়কে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নিচে এমন ৫টি অভ্যাস ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো: ১. খাবারে লবণের অতিরিক্ত ব্যবহার খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে হাড় ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। হাড়কে মজবুত রাখতে খাবারে লবণের ব্যবহার সীমিত করা জরুরি। ২. দীর্ঘ সময় বসে থাকা ৪০ বছর বয়সের পর হাড়ের ঘনত্ব প্রাকৃতিক নিয়মেই কমতে শুরু করে। বর্তমানে আমাদের কর্মঘণ্টার বেশিভাগ সময় বসে কাটে। শারীরিক সক্রিয়তা কম হওয়ায় হাড়ের গঠনগত শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাড়কে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাঁটাচলা, জগিং কিংবা ওজন তোলার মতো ব্যায়াম করা উচিত, যা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ৩. সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে, যা হাড়ের জন্য অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। ভিটামিন ডি ছাড়া শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না। ফলে শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকলেও ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ২৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন, যা সূর্যের আলো ছাড়াও মাছ, দুধ, ডিম এবং গরুর কলিজা থেকে পাওয়া সম্ভব। ৪. মিষ্টি পানীয় বা সফট ড্রিংকস অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় বা সফট ড্রিংকস পানের অভ্যাস হাড়ের ব্যাপক ক্ষতি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের পানীয় হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে সেগুলোকে দুর্বল করে দেয়। ৫. অতিরিক্ত চা বা কফি পান যদি আপনি চা বা কফির প্রতি আসক্ত হন, তবে সাবধান! গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অত্যধিক পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বোনাস টিপস ধূমপান ত্যাগ করুন। কারণ, এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো হাড়ের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের হাড় ভাঙার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে এবং কোনো কারণে হাড় ভেঙে গেলে তা জোড়া লাগতেও দীর্ঘ সময় লাগে। সুস্থ ও সবল হাড় পেতে আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে একটি সক্রিয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হোন। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow