যেভাবে কম বাজেটে শাড়ি কিনবেন

3 weeks ago 9

পোশাক হিসেবে শাড়ির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। দেশ হোক কিংবা বিদেশ শাড়ির কদর সবখানেই আছে। যদি কোনো পোশাকে একজন নারীকে রাজকীয় দেখায় তা হল শাড়ি। সব যুগে সমান জনপ্রিয় নারীদের কাছে। মা, দাদি, নানি বা খালার শাড়ি অথবা তাদের উপহার দেওয়া শাড়ির আবেদন সব সময়ই বর্তমান। আমাদের দেশে মানুষের কাছে বাজেটবান্ধব কেনাকাটা করতে হলে দর কষাকষি করতে হয়।

বাংলাদেশে প্রায় সবখানেই শাড়ি পাওয়া যায়। বিশেষ এলাকার বিশেষ শাড়ির দোকানও খুব কম নয়। ঢাকায় বড় বড় শপিং মল, ব্র্যান্ডেড শপ ও অনলাইনেও নিত্য নতুন শাড়ির ছড়াছড়ি। কোথায় আপনি সস্তায় সেরা মানের শাড়ি পেতে পারেন এবং দরকষাকষির সময়ে কোন বিষয় মাথায় রাখবেন তা দেখে নেওয়া যাক-

>> জামদানি কিনতে চাইলে ডেমরার জামদানি হাট থেকে কিনতে পারেন। প্রতি বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার স্থানীয় তাঁতিরা তাদের তৈরি জামদানি বিক্রি করতে আসেন। সেখান থেকে কম দামে কিনতে পারেন আপনার পছন্দের যেকোনো জামদানি শাড়ি।

যেভাবে কম বাজেটে শাড়ি কিনবেন

>> বেনারসির কিনতে চাইলে মিরপুর বেনারসি পল্লীতে যেতে পারেন। তবে বেনারসি পল্লী জনপ্রিয় বিয়ের বাজারের জন্য। মিরপুর ১০, ১১ ঘিরে প্রায় শ’খানেক বেনারসি শাড়ির দোকান আছে। নিজস্ব কারিগর দিয়েই তৈরি হয় কাতান, বেনারসি, জর্জেট, সিল্ক, হাফসিল্ক, সুতি সব ধরণের শাড়ি পাবেন এখানে।

>> ঢাকা কলেজের বিপরীতে গাউছিয়া মার্কেট লাগোয়া ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের পুরোটাতেই রয়েছে রকমারি শাড়ির দোকান। আর এখানে কম দামে সব ধরণের অনুষ্ঠানের শাড়ি পাবেন।

>> এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছতলায় বসে শাড়ির হাট। সেখান থেকে কম দামে শাড়ি কিনতে পারেন। ডিজিটাল প্রিন্ট ও এক রঙের থানের শাড়ি রয়েছে। সেখানে নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ তাঁতের শাড়ি পেয়ে যাবেন। যেগুলো মানিকগঞ্জে ও টাঙ্গাইল থেকে আসে। সাধারণত ৪৫০ টাকা থেকে শুরু হয় দাম। সর্বোচ্চ দাম হাজার–বারো শ টাকা। চাইলে দরদামও করতে পারেন।

>> সিল্কের শাড়ির জন্য বিখ্যাত রাজশাহী। রাজশাহীতে সপুরা সিল্ক মিলস সিল্কের শাড়ি উৎপাদনের জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়। শহরের বিসিক এলাকায় তাদের কারখানার সঙ্গেই রয়েছে বিশাল বিক্রয়কেন্দ্র যেখানে পিওর সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, বলাকা সিল্ক, ক্রেপ সিল্ক, তসর সিল্ক, সফট সিল্ক, ধুপিয়ান সিল্ক ইত্যাদি সিল্কের শাড়ি পাওয়া যায়।

যেভাবে কম বাজেটে শাড়ি কিনবেন

>> শহরের প্রদর্শনী বা ‘হস্তচালিত মেলা’ থাকলে সেখান থেকে কিনতে পারেন। এখানে কারিগরদের সঙ্গে সরাসরি দর কষাকষি করে কিনতে পারবেন। আসলে কেনাকাটার সময় দর কষাকষি করারও কিন্তু সঠিক নিয়ম আছে। কেনাকাটার সময় কিছুটা বার্গেনিং বা দর কষাকষি করলে মনে প্রশান্তি মেলে। দর কষাকষিকে লড়াই নয়, একটি বন্ধুত্বপূর্ণ খেলা হিসেবে ভাবুন।

>> বিনয়ী হয়ে ও ভদ্রভাবে বিক্রেতার সঙ্গে কথাবলে দামাদামি করুন। শাড়ি কেনার সময়ে কখনোই খুব বেশি আগ্রহ দেখাবেন না। যদি বিক্রেতা বুঝতে পারে আপনার শাড়ি বেশি পছন্দ হয়েছে তাহলে তিনি কিছুতেই দাম কমাবে না। তাই বেশি আগ্রহ নিজের মধ্যে রেখে দর কষাকষি করুন। দেখবেন ঠিকই বিক্রেতা দাম কিছুটা হলেও কমিয়ে আপনার কাছে শাড়িটি বিক্রি করবেন।

>> রাস্তা থেকে শাড়ি কিনলে দর কষাকষি করার সময়ে ৫০-৬০ ভাগ কম দামে বলবেন। মার্কেট হলে ২০-৩০ ভাগ কম দাম বলতে পারেন।

>> এক দোকান একাধিক শাড়ি কেনেন, তাহলে দর কষাকষি করে আপনি সহজেই সফল হতে পারবেন। এক্ষেত্রে বেশি শাড়ি বিক্রির আশায় দোকানীও আপনার দরেই দেবেন।

যেভাবে কম বাজেটে শাড়ি কিনবেন

>> দর কষাকষির সময়ে বিক্রেতা আপনার বলা দরে শাড়ি দিতে না চাইলে চলে যাওয়ার ভান করুন। দেখবেন যদি দেওয়ার হয়, তাহলে আপনাকে ঢেকে দিয়ে দেবে। এছাড়া দর কষাকষি শুরু করার আগে বাজার সম্পর্কে গবেষণা করুন। অন্যান্য দোকানী বা প্রতিযোগীরা কী কী অফার দিচ্ছে আর আপনি কী চাচ্ছেন, ওই পণ্যের যুক্তিসঙ্গত মূল্য কী হবে সে সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করুন।

যে শাড়ি গুলো বেশি দামি দেখায়

>> গাঢ় মেরুন, নেভি, পান্না, বেইজ এবং ধূসর রঙের সস্তা কাপড়েও বেশি দামি দেখায়। তাই চেষ্টা করুন এই রঙের শাড়িগুলো কিনতে।

>> বড় প্রিন্টের উপর ছোট মোটিফের শাড়ি গুলো দীর্ঘ সময় ধরে মার্জিত দেখায়। তাই এই মোটিফের শাড়িগুলো বেছে নিতে পারেন। এছাড়া আকর্ষণীয় বর্ডার একটি সাধারণ শাড়িকে ব্যয়বহুল দেখাতে পারে। তাই শাড়ি কেনার আগে অবশ্যই শাড়ির বর্ডার দেখে নিতে পারেন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই/জেএস/এমএস

Read Entire Article