রবিন খুদা দেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেননি, কিন্তু কেন?
সানাউল হক সানী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যারা বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হন, পারিপার্শ্বিক নানা কারণে তাদের কাউকেই এ দেশের মূল অর্থনীতিতে বড় বিনিয়োগ করতে দেখা যায় না। অনেক বিলিয়নেয়ার হয়তো নিঃশব্দে দেশে আসেন, চেনা মানুষদের খোঁজ নেন, কেউ কেউ গোপনে বা প্রকাশ্যে বড় বড় দান-খয়রাতও করেন। দু-একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কেউ কেউ হয়তো আলোচনায় আসেন ঠিকই, কিন্তু এ দেশের বুকে তারা বড় কোনো শিল্প গড়েছেন বা মেগা বিনিয়োগ করেছেন, আহামরি এমন রেকর্ড আসলেই নেই। এই যেমন রবিন খুদা, অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী এবং হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার জায়ান্ট ‘এয়ারট্রাঙ্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তার কোম্পানি আজ অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। কিন্তু এত বড় তালিকায় বাংলাদেশের নামটা কোথাও নেই; এ দেশে তার কোনো দৃশ্যমান বিনিয়োগ নেই। আরও পড়ুনআমি আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছি না: গুলতেকিন খান অথচ তিনি এবার নতুন করে ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের ডাটা সেন্টার প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের। এর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকও
সানাউল হক সানী
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যারা বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হন, পারিপার্শ্বিক নানা কারণে তাদের কাউকেই এ দেশের মূল অর্থনীতিতে বড় বিনিয়োগ করতে দেখা যায় না।
অনেক বিলিয়নেয়ার হয়তো নিঃশব্দে দেশে আসেন, চেনা মানুষদের খোঁজ নেন, কেউ কেউ গোপনে বা প্রকাশ্যে বড় বড় দান-খয়রাতও করেন। দু-একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কেউ কেউ হয়তো আলোচনায় আসেন ঠিকই, কিন্তু এ দেশের বুকে তারা বড় কোনো শিল্প গড়েছেন বা মেগা বিনিয়োগ করেছেন, আহামরি এমন রেকর্ড আসলেই নেই।
এই যেমন রবিন খুদা, অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী এবং হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার জায়ান্ট ‘এয়ারট্রাঙ্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তার কোম্পানি আজ অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। কিন্তু এত বড় তালিকায় বাংলাদেশের নামটা কোথাও নেই; এ দেশে তার কোনো দৃশ্যমান বিনিয়োগ নেই।
অথচ তিনি এবার নতুন করে ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের ডাটা সেন্টার প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের। এর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিপুল অর্থ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করবে তার সংস্থা। রবিন খুদার এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি নিজে এক্স-এ (টুইটার) উচ্ছ্বসিত বিবৃতি দিয়েছেন, দেশীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন।
ভদ্রলোকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিন্তু আমাদের এই ঢাকা শহরেই। এখন বয়স মেরেকেটে ৪৭ কি ৪৮। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়েছেন রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুল থেকে। আর ১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে। এরপরই মূলত অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়তে তার অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানো।
জন্ম, শৈশব, বেড়ে ওঠা কিংবা প্রথম কৈশোরের সোনালি দিনগুলো—সব তো এই ঢাকাতেই কেটেছে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে খাঁটি আর নিবিড় বন্ধুত্বগুলো তো তৈরি হয় ওই এসএসসি আর এইচএসসির দিনগুলোতেই। রবিন সাহেবেরও নিশ্চয়ই তেমন একঝাঁক বন্ধু আছে এই শহরে। ধমনিতে যেহেতু বাঙালি রক্ত, মাটির টানও তো থাকার কথা। খুব বেশি দিন তো হয়নি, ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো তো তিনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি!
তবুও রবিন সাহেব এই দেশে একটা টাকাও বিনিয়োগ করেননি। কেন করেননি? আসলে একটা চরম সত্য হলো—আবেগ আর বিজনেস বোধহয় কখনোই একসাথে চলে না। রবিন খুদাদের মাটির টান হয়তো আছে, কিন্তু এ দেশ আজ পর্যন্ত বিশ্বমানের কোনো বড় বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ, অবকাঠামো কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরি করে দিতে পারেনি। তাই আবেগ আড়ালে পড়ে থাকে, আর কোটি কোটি ডলার চলে যায় অন্য কোনো দেশে।
(লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে)
লেখক: সাংবাদিক।
এসইউ
What's Your Reaction?