রমজান সামনে রেখে খাগড়াছড়ি বাজারে বিশেষ অভিযান: মূল্য স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কৃত্রিম সংকট রোধে খাগড়াছড়ি বাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রধান বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের বাজার দর তদারকি কমিটি (জেলা টাস্কফোর্স) এই অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন সিআরবির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ, বাজার কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল জলিলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।অভিযান চলাকালে মাছ, মুরগি, গরুর মাংস, শাক-সবজি, ফলমূল, চাল-ডাল-তেলসহ বিভিন্ন মুদি পণ্যের দোকান পরিদর্শন করা হয়। ব্যবসায়ীদের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য তালিকা যাচাই, পণ্যের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি দোকানে মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করা এবং পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে অসামঞ্জস্যের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।অভিযানকালে কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি রমজানের প

রমজান সামনে রেখে খাগড়াছড়ি বাজারে বিশেষ অভিযান: মূল্য স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কৃত্রিম সংকট রোধে খাগড়াছড়ি বাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রধান বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের বাজার দর তদারকি কমিটি (জেলা টাস্কফোর্স) এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন সিআরবির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ, বাজার কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল জলিলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে মাছ, মুরগি, গরুর মাংস, শাক-সবজি, ফলমূল, চাল-ডাল-তেলসহ বিভিন্ন মুদি পণ্যের দোকান পরিদর্শন করা হয়। ব্যবসায়ীদের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য তালিকা যাচাই, পণ্যের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি দোকানে মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করা এবং পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে অসামঞ্জস্যের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

অভিযানকালে কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তারা বলেন, রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এ সময়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে অতিরিক্ত লাভ করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়িত্ব।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকেও বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিআরবির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ বলেন, কিছু দোকানে দ্রব্যমূল্যের গড়মিল পাওয়া গেছে। অনেকের মূল্য তালিকা ছিল না। বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি কিংবা কারসাজির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হবে। সাধারণ ভোক্তাদেরও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সকাল ও বিকেল—দুই সময়েই পৃথক দল বাজার তদারকিতে নামবে। পাশাপাশি পাইকারি আড়ত ও গুদামেও নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে যাতে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। সতর্কতামূলক এই অভিযানের পরও যদি কোনো ব্যবসায়ী নির্দেশনা অমান্য করেন, তবে আগামীকাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানা আরোপ করা হবে।

বাজারে অভিযান পরিচালনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি থাকলে বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং রমজানে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow