রমজানে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে টকদই কতটুকু খাবেন

রোজায় ইফতার বা সেহরির টেবিলে টকদই অনেকেরই প্রিয়। হালকা, পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য এই খাবারটি শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে টকদই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে-এমনই তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। টকদইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন ও নানা ভিটামিন। এসব উপাদান শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত টকদই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। একইভাবে আমেরিকা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নির্দেশিকাতেও দইকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে টকদই খান, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম। টকদই সুগার নিয়ন্ত্রণে যেভাবে সাহায্য করেটকদই মূলত ফার্মেন্টেড খাবার। এতে থাকে প্রোবায়োটিক-যা অন্ত্রে ভালো

রমজানে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে টকদই কতটুকু খাবেন

রোজায় ইফতার বা সেহরির টেবিলে টকদই অনেকেরই প্রিয়। হালকা, পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য এই খাবারটি শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে টকদই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে-এমনই তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়।

টকদইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন ও নানা ভিটামিন। এসব উপাদান শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত টকদই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। একইভাবে আমেরিকা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নির্দেশিকাতেও দইকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে টকদই খান, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম।

vKZ

টকদই সুগার নিয়ন্ত্রণে যেভাবে সাহায্য করে
টকদই মূলত ফার্মেন্টেড খাবার। এতে থাকে প্রোবায়োটিক-যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। সুস্থ অন্ত্র মানেই উন্নত বিপাক প্রক্রিয়া ও কম প্রদাহ। গবেষণা বলছে, নিয়মিত দই খেলে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে। অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন শরীরে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে না।

দইয়ের আরও উপকারিতা
টকদইয়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম-যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম জি আই খাবার ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ ছাড়ে, ফলে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া টকদই বিপাক ক্রিয়া সচল রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন শরীরকে শক্তিশালী রাখতেও সাহায্য করে।

rty

দিনে কতটা টকদই খাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ১০০-২০০ গ্রাম বা প্রায় এক কাপ ঘরে পাতা টকদই খাওয়াই যথেষ্ট। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে দই যেন অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফ্লেভারযুক্ত না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

টকদইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে পুষ্টিগুণ আরও বাড়বে। তবে যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা আছে বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনের সঙ্গে টকদই যুক্ত হলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ছোট একটি অভ্যাসই হতে পারে বড় সুরক্ষার চাবিকাঠি।

সূত্র: নিউজ মেডিকেল, ইন্ডিয়া টুডে, মিডিয়াম

আরও পড়ুন:
রক্তে সুগার কত হলে জীবন বাঁচাতে রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি 
রোজায় সুস্থ থাকার সহজ ৫ নিয়ম 

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow