রমজানের ২৭তম রাত্রিই কি শবেকদর? যা বলা হয়েছে হাদিসে

শবেকদর ফারসি, আরবিতে লাইলাতুল কদর, মানে কদরের রাত। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত বা শবেকদর। আল্লাহ বলেন, ‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এক লাইলাতুল মোবারকে (সৌভাগ্যের রাত্রিতে)। আমি তো সতর্ককারী। এ-রাত্রিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আদেশ তো আমারই। আমিই রাসুল পাঠিয়ে থাকি, এ তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে অনুগ্রহ। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।’ (সুরা দুখান : ১-৬) ঠিক কোন রাতে শবেকদর কোরআনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের অনেকে মনে করেন, শবেকদর রমজানের সাতাশতম রাতে হয়ে থাকে। তাই প্রশ্ন জাগে, আসলেই কি ২৭-এর রাতে শবেকদর? শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি আছে? এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, অনেকের মনে এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, সাতাশের রাতই হচ্ছে শবেকদর। এই ধারণা ঠিক নয়। সহিহ হাদিসে এসেছে যে, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লাইলাতুল কদর কোন রাত তা জানানো হয়েছিল। তিনি তা সাহাবিদেরকে জানানোর জন্য আসছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদ

রমজানের ২৭তম রাত্রিই কি শবেকদর? যা বলা হয়েছে হাদিসে

শবেকদর ফারসি, আরবিতে লাইলাতুল কদর, মানে কদরের রাত। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত বা শবেকদর।

আল্লাহ বলেন, ‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এক লাইলাতুল মোবারকে (সৌভাগ্যের রাত্রিতে)। আমি তো সতর্ককারী। এ-রাত্রিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আদেশ তো আমারই। আমিই রাসুল পাঠিয়ে থাকি, এ তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে অনুগ্রহ। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।’ (সুরা দুখান : ১-৬)

ঠিক কোন রাতে শবেকদর কোরআনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের অনেকে মনে করেন, শবেকদর রমজানের সাতাশতম রাতে হয়ে থাকে। তাই প্রশ্ন জাগে, আসলেই কি ২৭-এর রাতে শবেকদর? শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি আছে?

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, অনেকের মনে এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, সাতাশের রাতই হচ্ছে শবেকদর। এই ধারণা ঠিক নয়।

সহিহ হাদিসে এসেছে যে, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লাইলাতুল কদর কোন রাত তা জানানো হয়েছিল। তিনি তা সাহাবিদেরকে জানানোর জন্য আসছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের ওই ঝগড়র কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে সে রাতের ইলম উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ কথাগুলো সাহাবিদেরকে জানানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হতে পারে, এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। এখন তোমরা এ রাত (অর্থাৎ তার বরকত ও ফজিলত) রমজানের শেষ দশকে অন্বেষণ করো। (বোখারি : ২০২০, মুসলিম : ১১৬৫/২০৯)

অন্য হাদিসে বিশেষভাবে বেজোড় রাতগুলোতে তালাশ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৭৪)

তাই সাতাশের রাতকেই সুনির্দিষ্টভাবে লাইলাতুল কদর বা শবেকদর বলা উচিত নয়। খুব বেশি হলে এটুকু বলা যায় যে, এ রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow