রাজকোষের মঞ্চে নাট্য মহড়া

এক দেশে ছিল এক মহামহিমান্বিত রাজকোষ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো- ভেতরে নীতি, শৃঙ্খলা আর অর্থনীতির কঠিন সমীকরণ নিয়ে গুরুগম্ভীর গবেষণা চলছে। কিন্তু সেদিন রাজকোষের ভেতরে যেন নাট্যমঞ্চ বসেছে। রাজকোষের প্রধান রক্ষক ছিলেন এক জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি নাকি রাজকোষের আওতায় থাকা খাজানাগুলো উজাড়ের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু রাজকোষের ভেতরের একদল প্রহরী ভাবলেন, ‘এভাবে নিয়ম-কানুন মানলে তো... আমাদের নাটক করার সুযোগ কোথায়!’ সকালে প্রহরীরা জড়ো হয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘আমরা স্বায়ত্তশাসন চাই!’  কেউ ফিসফিস করে বলল, ‘স্বায়ত্তশাসন মানে কী?’ উত্তর এলো, ‘যেটা আমাদের কথামতো চলবে!’ তিনজন প্রহরীকে বদলি করা হয়েছে। এ এক মহা অবিচার! বদলি তো এমন জিনিস, যা রাজ-দপ্তরে শতাব্দী ধরে ঘটে আসছে। কিন্তু এবার সেটা হলো ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’। রাজকোষের ভেতরে স্লোগান উঠল, সভা হলো, বিবৃতি হলো। যেন অর্থনীতি নয়, নাট্যচর্চার কেন্দ্র। উপায় না দেখে জ্ঞানী রক্ষক হরকরাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার দুই সেকেন্ড লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে।’ শুনে অনেকে ভাবলেন, ‘দুই সেকেন্ডে পদত্যাগ! তাহলে পাঁচ সেকেন্ডে কী হয়? র

রাজকোষের মঞ্চে নাট্য মহড়া

এক দেশে ছিল এক মহামহিমান্বিত রাজকোষ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো- ভেতরে নীতি, শৃঙ্খলা আর অর্থনীতির কঠিন সমীকরণ নিয়ে গুরুগম্ভীর গবেষণা চলছে। কিন্তু সেদিন রাজকোষের ভেতরে যেন নাট্যমঞ্চ বসেছে।

রাজকোষের প্রধান রক্ষক ছিলেন এক জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি নাকি রাজকোষের আওতায় থাকা খাজানাগুলো উজাড়ের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু রাজকোষের ভেতরের একদল প্রহরী ভাবলেন, ‘এভাবে নিয়ম-কানুন মানলে তো... আমাদের নাটক করার সুযোগ কোথায়!’

সকালে প্রহরীরা জড়ো হয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘আমরা স্বায়ত্তশাসন চাই!’ 

কেউ ফিসফিস করে বলল, ‘স্বায়ত্তশাসন মানে কী?’

উত্তর এলো, ‘যেটা আমাদের কথামতো চলবে!’

তিনজন প্রহরীকে বদলি করা হয়েছে। এ এক মহা অবিচার! বদলি তো এমন জিনিস, যা রাজ-দপ্তরে শতাব্দী ধরে ঘটে আসছে। কিন্তু এবার সেটা হলো ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’।

রাজকোষের ভেতরে স্লোগান উঠল, সভা হলো, বিবৃতি হলো। যেন অর্থনীতি নয়, নাট্যচর্চার কেন্দ্র।

উপায় না দেখে জ্ঞানী রক্ষক হরকরাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার দুই সেকেন্ড লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে।’

শুনে অনেকে ভাবলেন, ‘দুই সেকেন্ডে পদত্যাগ! তাহলে পাঁচ সেকেন্ডে কী হয়? রাজা বদল?’

তিনি আরও বললেন, ‘কোষাগারকে লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।’ এই কথাটাই বোধহয় কারও কারও কানে খুব বাজল।

এরপর যা হলো, তা ইতিহাসের পাতায় ‘মবীয় সংস্কৃতি ১০১’ নামে পড়ানো যেতে পারে। কয়েকজন প্রহরী মিলে রক্ষকের এক উপদেষ্টাকে এমনভাবে বের করে দিলেন, যেন তিনি অর্থনীতির শত্রু।

রাজকোষের করিডোরে তখন স্লোগান, উত্তেজনা, নাটকীয়তা; সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য।

স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যারা শৃঙ্খলা ভাঙে, তারা কোনো প্রকারের ভাবনা-ভাবনিতে নারাজ। ‘স্বায়ত্তশাসন আর স্বেচ্ছাচার এক জিনিস নয়’ এটি তাদের কানে দেওয়ার সাহস কার আছে?

অবশেষে ঘোষণা এলো, নতুন রক্ষক আসছেন। নাম তার ‘জ্ঞানী ব্যবসায়ী  রক্ষক’। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ী রাজকোষের শীর্ষে। মুদ্রা গোনার ১০১ কৌশল নিয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন। সেজন্য তাকে এক যুগ পড়ার টেবিলেই ঘুম বিসর্জন দিতে হয়। শুধু অর্থনীতির কাঠঠোকরা তিনি নন, বৈচিত্রময় কাজের কাজী তিনি।  

তাইতো সবাই বলল, ‘অভিজ্ঞ মানুষ!’

কেউ ফিসফিস করল, ‘দেখা যাক, কোষাগার এবার কার কথায় চলে।’

এত হৈহুল্লোড়ের মধ্যেও রাজকোষের এক কোণার নীরবতা ভাঙল না। কী হচ্ছে সেখানে?

ঢাল-তলোয়ার ছাড়া একদল প্রহরী রাজকোষের সিন্ধুকগুলো আড়াল করে রেখেছেন। তাদের একজনকে ফিসফিস করতে দেখে হরকরা চুপিচুপি এগিয়ে এলে শুনতে পেলেন, ‘রূপকথার এই রাজ্যে আসলে নায়ক কে? যিনি নিয়ম মানতে বলেন? নাকি যারা নিয়ম বদলাতে স্লোগান তোলেন?’

উপঢৌকনের উস্ফলনে হরকরা বলে উঠলেন, ‘আমি জানি, কিন্তু বলব না।’

[রম্যবেলার কোনো চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব কারও মিল খুঁজে পেলে সেটির দায়ভার পাঠক, লেখক বা দৈনিক কালবেলা  কর্তৃপক্ষের নয়।]

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow