রাজপথের আন্দোলনে স্বস্তি ছিল, বর্তমানে অস্বস্তিতে ছাত্রদল নেতা

আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়ে আলোচনায় এসেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার সাবেক এক ছাত্রদল নেতা। উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. ফয়সাল খন্দকার বলেছেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতেই তিনি স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার পর দলীয় কর্মকাণ্ডে অনুপ্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে ফয়সাল খন্দকার আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে লেখেন, অসংখ্য রাত নির্ঘুম কেটেছে তাদের। পুলিশি গ্রেফতার, নির্যাতন, ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলা—সবকিছুর মধ্যেও তাদের একমাত্র প্রার্থনা ছিল স্বৈরাচার সরকারের বিদায় ও গণতন্ত্রের মুক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজপথে ঝরানো রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। পোস্টে তিনি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের নানা নির্যাতন ও হামলার বর্ণনাও তুলে ধরেন। দাবি করেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে তাকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘর্ষে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে আহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে ও জুলাইয়ে পৃথক ঘটনায় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত

রাজপথের আন্দোলনে স্বস্তি ছিল, বর্তমানে অস্বস্তিতে ছাত্রদল নেতা

আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়ে আলোচনায় এসেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার সাবেক এক ছাত্রদল নেতা। উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. ফয়সাল খন্দকার বলেছেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতেই তিনি স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার পর দলীয় কর্মকাণ্ডে অনুপ্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে ফয়সাল খন্দকার আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে লেখেন, অসংখ্য রাত নির্ঘুম কেটেছে তাদের। পুলিশি গ্রেফতার, নির্যাতন, ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলা—সবকিছুর মধ্যেও তাদের একমাত্র প্রার্থনা ছিল স্বৈরাচার সরকারের বিদায় ও গণতন্ত্রের মুক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজপথে ঝরানো রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

পোস্টে তিনি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের নানা নির্যাতন ও হামলার বর্ণনাও তুলে ধরেন। দাবি করেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে তাকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘর্ষে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে আহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে ও জুলাইয়ে পৃথক ঘটনায় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন বলেও দাবি করেন ছাত্রদল নেতা ফয়সাল।

ফয়সাল খন্দকার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও গ্রুপিংয়ের কারণে আগের কমিটিতে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তার কর্মীরা বিভিন্ন কমিটিতে পদ পেলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাকে হতাশ করেছে। তার ভাষ্য, গণতন্ত্র ফিরে আসার পর কিছু নেতা নিজেদের গ্রুপ শক্তিশালী করতে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকাসক্তদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। তার মতে, আন্দোলনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন করা হলে অনুপ্রবেশকারীরা সুযোগ পাবেন না এবং তৃণমূল ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফয়সাল খন্দকার বলেন, ‌‘রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই স্বস্তি ছিল। এখন মাদকাসক্ত ও অনুপ্রবেশকারীদের কারণে অস্বস্তিতে আছি। ত্যাগী ও যোগ্য ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে দল আরও সুসংগঠিত হবে।’

শরীফুল ইসলাম/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow