রাজশাহীতে শহরের তুলনায় গ্রামে ভোটার উপস্থিতি বেশি, কারণ কী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজশাহীতে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তবে জেলার কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি; সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ৭০ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলায় মোট ২২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। তাঁরা ৭৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সব আসনেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি গ্রামপ্রধান গ্রাম ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে প্রায় ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে সর্বনিম্ন, প্রায় ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছে জেলা সদরের শহরকেন্দ্রিক রাজশাহী-২ আসনে। বাকি চারটি আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭১ থেকে ৭৪ শতাংশের মধ্যে। রাজশাহী-২ আসনের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরের কেন্দ্রগুলোতে দিনভর ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। নগরের উপশহর এলাকার রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র

রাজশাহীতে শহরের তুলনায় গ্রামে ভোটার উপস্থিতি বেশি, কারণ কী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজশাহীতে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তবে জেলার কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি; সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ৭০ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলায় মোট ২২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। তাঁরা ৭৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সব আসনেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি গ্রামপ্রধান গ্রাম ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে প্রায় ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে সর্বনিম্ন, প্রায় ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছে জেলা সদরের শহরকেন্দ্রিক রাজশাহী-২ আসনে। বাকি চারটি আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭১ থেকে ৭৪ শতাংশের মধ্যে।

রাজশাহী-২ আসনের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরের কেন্দ্রগুলোতে দিনভর ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। নগরের উপশহর এলাকার রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। সোপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুর রাজ্জাক।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের চিত্র ছিল ভিন্ন। রাজশাহী-৩ আসনের মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ। একই কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, তাঁর বুথেই ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। একই আসনের বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্তই প্রায় ৭১ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

শহর-গ্রাম ভোটার উপস্থিতির এ ব্যবধানের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, শহরাঞ্চলে তুলনামূলক কম উপস্থিতির নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রশাসনের কাছে নেই।

তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নাগরিক প্রতিনিধিরা এ প্রবণতার পেছনে কাঠামোগত ও আচরণগত বিভিন্ন কারণের কথা বলছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি দীপক দাস বলেন, শহরে ভোটার অনুপস্থিতি, পছন্দের প্রার্থী না থাকা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা ভোটার উপস্থিতি কমার অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব বৃদ্ধি এবং স্বল্পমেয়াদি সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতাও ভোটদানের আচরণে প্রভাব ফেলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow