রাজশাহীর প্রাক্তন এসআইয়ের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার প্রাক্তন এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমানসহ অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজবাড়ীতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে শহরের একটি অফিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী আইনজীবী তার ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে আইনী লড়াইয়ের বর্ণনা তুলে ধরেন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আইনজীবী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলা আদালত চত্বরের পাশ থেকে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যান রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার তৎকালীন এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমান। এ সময় তার সাথে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিলেন, যাদের মধ্যে মোঃ জাহিদ উল আলম, শেখ আবদুল্লাহ এবং রোমান ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নারী আইনজীবী বলেন, মাইক্রোবাসের ভেতরে এবং পরে রিমান্ডের নামে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।এ ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচারের আশায় গত ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা (মিসপি-৩০/২০২৫) দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে রাজবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সং

রাজশাহীর প্রাক্তন এসআইয়ের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার প্রাক্তন এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমানসহ অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজবাড়ীতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে শহরের একটি অফিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী আইনজীবী তার ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে আইনী লড়াইয়ের বর্ণনা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আইনজীবী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলা আদালত চত্বরের পাশ থেকে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যান রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার তৎকালীন এসআই মোঃ মাহফুজুর রহমান।

এ সময় তার সাথে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিলেন, যাদের মধ্যে মোঃ জাহিদ উল আলম, শেখ আবদুল্লাহ এবং রোমান ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নারী আইনজীবী বলেন, মাইক্রোবাসের ভেতরে এবং পরে রিমান্ডের নামে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচারের আশায় গত ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা (মিসপি-৩০/২০২৫) দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে রাজবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয় (থানা মামলা নং-২৬, জিআর-২৬/২৫)।

তবে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আসাদুজ্জামান আসামিদের সাথে যোগসাজশ করে বাদী বা সাক্ষী কারো জবানবন্দি না নিয়েই একপাক্ষিক ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন (প্রতিবেদন নং-৫৬) আদালতে দাখিল করেন। এ পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৯ এপ্রিল রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ‘নারাজি পিটিশন’ দাখিল করেন ভুক্তভোগী আইনজীবী। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য ফরিদপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আইনজীবী চরম নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মূল আসামি এসআই মাহফুজুর রহমান তার পুলিশী প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন থানায় তার (বাদী) বিরুদ্ধে একাধিক হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। এমনকি বর্তমানেও তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ কঠিন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী আইনজীবী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি এবং পিবিআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow