রামিসা হত্যা: আদালতে রক্তমাখা ছুরি-বালতিসহ জব্দ আলামত উপস্থাপন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।  মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসআই ইকবাল হোসেন আদালতকক্ষে মামলার জব্দকৃত আলামতগুলো একে একে উপস্থাপন করেন। আদালতে যেসব আলামত হাজির করা হয় রামিসার জুতা: ঘটনার দিন যে জুতা দেখে রামিসার মা নিশ্চিত হয়েছিলেন তার মেয়ে আসামি সোহেলের কক্ষে রয়েছে, সেই জুতাটি আদালতে দেখানো হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ওড়না: এসআই ইকবাল আদালতে একটি ছুরি ও ওড়না প্রদর্শন করে জানান, এই ওড়না দিয়ে রামিসার মুখ বেঁধে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে এই ছুরি দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মরদেহ লুকানোর বালতি: হত্যাকাণ্ডের পর শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা কেটে টয়লেটের যে বালতিতে রাখা হয়েছিল, সেটিও আদালতে হাজির করা হয়। অন্যান্য আলামত: রামিসার পরিধেয় জামা, হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি ছাড়াও ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য জানালার গ্রিল কাটার অংশ, গ্রিল কাটায় ব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ এবং মূ

রামিসা হত্যা: আদালতে রক্তমাখা ছুরি-বালতিসহ জব্দ আলামত উপস্থাপন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসআই ইকবাল হোসেন আদালতকক্ষে মামলার জব্দকৃত আলামতগুলো একে একে উপস্থাপন করেন।

আদালতে যেসব আলামত হাজির করা হয়
রামিসার জুতা: ঘটনার দিন যে জুতা দেখে রামিসার মা নিশ্চিত হয়েছিলেন তার মেয়ে আসামি সোহেলের কক্ষে রয়েছে, সেই জুতাটি আদালতে দেখানো হয়।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ওড়না: এসআই ইকবাল আদালতে একটি ছুরি ও ওড়না প্রদর্শন করে জানান, এই ওড়না দিয়ে রামিসার মুখ বেঁধে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে এই ছুরি দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

মরদেহ লুকানোর বালতি: হত্যাকাণ্ডের পর শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা কেটে টয়লেটের যে বালতিতে রাখা হয়েছিল, সেটিও আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যান্য আলামত: রামিসার পরিধেয় জামা, হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি ছাড়াও ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য জানালার গ্রিল কাটার অংশ, গ্রিল কাটায় ব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ এবং মূল ফটকের লকারসহ জব্দকৃত সব আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

এদিন রামিসার বাবা, মা, বোন, নিকটাত্মীয়সহ ম্যাজিস্ট্রেট, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সাক্ষ্য ও জবানবন্দি দেন।

এর আগে, সকাল পৌনে নয়টায় কড়া নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তাদের আদালত ভবনের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল এবং পরে এজলাসে তোলা হয়।

চলতি বছরের ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে।

পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে (চার্জশিট) উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি সোহেল রানা মাদকাসক্ত ছিল। ঘটনার দিন সে রামিসাকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় রামিসা চিৎকার শুরু করলে এবং বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে সোহেল ক্ষিপ্ত হয়ে তার মাথা ও হাত কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করতে এবং পালিয়ে যেতে সোহেলকে সরাসরি সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow