রামিসা হত্যা মামলার রায় দৃষ্টান্ত হবে, ভবিষ্যতে কেউ সাহস পাবে না
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার বিচারকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, এ মামলার রায়ের মাধ্যমে এমন বার্তা যাবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।’ শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, ঘরের ভেতরে রক্তের আলামত পাওয়া এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার বিচারকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, এ মামলার রায়ের মাধ্যমে এমন বার্তা যাবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।’
শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, ঘরের ভেতরে রক্তের আলামত পাওয়া এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
এ সময় আদালত আসামিদের কাছে সাক্ষীদের বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং মামলার বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা আছে কি না- তা জানতে চান।
আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে আসামি সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’
তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’
এছাড়া তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা ছাওয়াল আছে, স্যার। মাফ করে দেন।’
অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
শুনানির পুরো সময় সোহেল রানাকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট ছিল। তবে স্বপ্না আক্তারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট খোলা অবস্থায় রাখা হয়।
পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘মামলাটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য আইন অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আজ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে, যারা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করেছেন। মামলায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেটও সাক্ষ্য দিয়েছেন।’
পিপি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই মামলাটি একটি দৃষ্টান্তমূলক মামলা হিসেবে থাকবে। ভবিষ্যতে দেশে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে এবং কেউ যেন এমন অপরাধ করার সাহস না পায়, এই মামলার রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা যাবে। আদালতে সব কিছু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলছে। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।’
এমডিএএ/এসএইচএস
What's Your Reaction?