রামুতে বন্যহাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের রামুতে লোকালয়ে ঢুকে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার একটি কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন খুনিয়াপালংয়ের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার রোহিঙ্গা মো. একরামের স্ত্রী ছেমন আরা বেগম (২৭) এবং তার আড়াই বছর বয়সী মেয়ে আসমা আক্তার। পরিবারটি বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক জুবাইরুল ইসলাম জানান, মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘর থেকে বের হন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী। তাদের সঙ্গে ছিল দুই সন্তান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে ছেমন আরা ও তার ছোট মেয়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ করে বন্যহাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে দেয়। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, হাতির পালে তিনটি

রামুতে বন্যহাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের রামুতে লোকালয়ে ঢুকে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার একটি কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন খুনিয়াপালংয়ের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার রোহিঙ্গা মো. একরামের স্ত্রী ছেমন আরা বেগম (২৭) এবং তার আড়াই বছর বয়সী মেয়ে আসমা আক্তার। পরিবারটি বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক জুবাইরুল ইসলাম জানান, মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘর থেকে বের হন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী। তাদের সঙ্গে ছিল দুই সন্তান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে ছেমন আরা ও তার ছোট মেয়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ করে বন্যহাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে দেয়। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, হাতির পালে তিনটি হাতি ছিল এবং সেগুলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করে। হঠাৎ সামনে পড়ে যাওয়ায় মা-মেয়ের পালানোর সুযোগ হয়নি। পরে হাতিগুলো ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছের ফল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল হক জানান, হঠাৎ করে বন্যহাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে ঘরবাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাতির আক্রমণে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই হাতির পালটি তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠানো হয়েছে। বন্যহাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, খুনিয়াপালংয়ে বন্যহাতির আক্রমণে মা-মেয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন করে পরিবারের সিদ্ধান্তে মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow