রাস্তার পাশে ধান ক্রয়ের আড়ত, যানজটে আটকে মারা গেলেন শ্বাসকষ্টের রোগী

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক শ্বাসকষ্টের রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে পৌরশহরের ভোগাই ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার গুজাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. আবদুল রউফের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন আমিনুল। হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ভ্যানগাড়িতে করে নালিতাবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু আড়াইআনী এলাকা থেকে তারাগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটে আটকে পড়ে ভ্যানটি। প্রায় এক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকায় সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে চিকিৎসা না পেয়েই ভ্যানগাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শহরের আড়াই আনী বাজার হতে তারাগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত ধান ক্রয়ের আড়ত বসানোর কারনে এই রাস্তায় প্রায় সময়ই ছোট বড় যানবাহনের ভীড় লেগেই থাকে। অনেক সময় জরুরী প্রয়োজনে এই সড়কে যাতা

রাস্তার পাশে ধান ক্রয়ের আড়ত, যানজটে আটকে মারা গেলেন শ্বাসকষ্টের রোগী

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক শ্বাসকষ্টের রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে পৌরশহরের ভোগাই ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার গুজাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. আবদুল রউফের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন আমিনুল। হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ভ্যানগাড়িতে করে নালিতাবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু আড়াইআনী এলাকা থেকে তারাগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটে আটকে পড়ে ভ্যানটি। প্রায় এক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকায় সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে চিকিৎসা না পেয়েই ভ্যানগাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শহরের আড়াই আনী বাজার হতে তারাগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত ধান ক্রয়ের আড়ত বসানোর কারনে এই রাস্তায় প্রায় সময়ই ছোট বড় যানবাহনের ভীড় লেগেই থাকে। অনেক সময় জরুরী প্রয়োজনে এই সড়কে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে আমিনুলের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।

প্রত্যক্ষদর্শী জিহাদ হাসান বলেন, “চোখের সামনে দেখলাম, যানজটের কারণে লোকটিকে হাসপাতালে নেওয়া গেল না। ভ্যানগাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হলো। সেখানে যদি একজন ট্রাফিক পুলিশ থাকত। তাহলেও তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যেত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নালিতাবাড়ী শহরে প্রায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বাজার এলাকা ও ব্যস্ত সড়কে, ধান মহাল, অবৈধ পার্কিং, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি জরুরী রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতের ফুফাতো ভাই রাসেল বলেন, “হাসপাতাল থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে প্রায় এক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। পায়ে হেঁটে নেওয়ারও সুযোগ ছিল না। এতে ভ্যানেই আমিনুলের মৃত্যু হয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। তবে বাজার এলাকায় ধানের হাট এবং মালবাহী ট্রাক যত্রতত্র পার্কিং করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow