রূপপুর ঘিরে মহা কর্মব্যস্ততা, ঈদের ছুটি বাতিল
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন ঘিরে প্রকল্প এলাকায় বিরাজ করছে চরম কর্মব্যস্ততা। আগামী ৭ এপ্রিল দেশের প্রথম জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন হবে। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিট-১ এর সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং এবং জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। জ্বালানি লোডিং উদ্বোধনের পর চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন এবং এসময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকতে পারেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন ঘিরে প্রকল্প এলাকায় বিরাজ করছে চরম কর্মব্যস্ততা। আগামী ৭ এপ্রিল দেশের প্রথম জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন হবে। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিট-১ এর সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং এবং জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। জ্বালানি লোডিং উদ্বোধনের পর চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন এবং এসময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকতে পারেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আগামী ৭ এপ্রিল থেকে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। আমরা আশা করছি, জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি বজায় থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় শতভাগে পৌঁছাবে।
জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর অধীন কর্মরতদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
NPCBL-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, জ্বালানি লোডিং হলো রিয়্যাক্টরের কোরে পারমাণবিক জ্বালানি রড স্থাপনের প্রক্রিয়া। এসব রডে থাকা ইউরেনিয়াম পেলেট চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি করে, যা তাপ উৎপাদন করে এবং সেই তাপ থেকে উৎপন্ন বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ২০০০টি পরীক্ষার মধ্যে এরই মধ্যে ১৬৫০টি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। ছোট খাটো কিছু সমস্যা থাকলেও বড় কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি (BAERA) আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে। কর্মব্যস্ততার কারণে সকল কর্মকর্তাদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হতে আরও প্রায় দুই মাস সময় প্রয়োজন। ইউনিট-১ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে তার প্রায় এক বছর পর ইউনিট-২ একই সক্ষমতায় পৌঁছাবে। দুটি ইউনিট মিলিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ইউনিট-১ কমিশনিংয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউনিট-২ এর কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি লোডিং ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয় জনগণের বহুদিনের প্রত্যাশিত রূপপুর প্রকল্পে জ্বালানি লোডিং হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে শুনে আমি এবং আমার এলাকার জনগণ খুবই আনন্দিত। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এটি সময়োপযোগী ও গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।
জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল ওরফে লিচু কিতাব বলেন, রূপপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং করা হচ্ছে শুনে অত্যন্ত আনন্দ লাগছে। আমাদের দীর্ঘদিনের বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প নিয়ে অনেক বিরূপ কথা শুনেছি যে, আণবিকের কারণে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। আসলে বাস্তবতা কী সেটা আমরা এবারে উপলব্ধি করতে পারব, পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিশাল অরণ্যের মধ্যে কৃষিতে কোনো ক্ষতির কারণ না- বরং কৃষি বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে শুধু বিদ্যুৎই আসবে না, এখান থেকে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আমাদের কৃষিকে আরও উন্নয়ন করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।
ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক অনেক আকাঙ্ক্ষিত পারমাণবিক প্রকল্পে জ্বালানি লোডিং হতে যাচ্ছে শুনে খুবই আনন্দিত। বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হলে রূপপুর প্রকল্পে শুধু মাত্র ২,৪০০ মেগাওয়াট চালু করলেই হবে না। এখানে আরও ২,৪০০ মেগাওয়াট প্রকল্প নির্মাণের জায়গা রয়েছে। তাই রূপপুরে মোট ৪৮,০০ মেগাওয়াটের জন্য প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এতে রাশিয়ার ভিভিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। শুরুতে ২০২২ সালে চালুর কথা থাকলেও তিন বছর বিলম্বিত হয়। পরে বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সময়সীমা বাড়ায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটম। রিঅ্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণে সক্ষম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শেখ মহসীন/এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?