রেশম লতার একগুচ্ছ কবিতা
ঝিনুকের মাড় আমারে দে একখান পুরনো কাবারদানি— তার ভিত্রে থকথকা নুনভেজা সময় তোরা সব ওলটরস খা— না গোধূলীর আগুনঠেলাঠেলি নয়, গেরস্তবাড়ির মাচায় যেই সব অর্ধমরা স্মৃতি ঝুলে তারাই আমার গর্ভদংশা বেদনার খয়রা বালিশ। ওহে পাটকলের ভাঙা সাইরেন, বাজ— দে একখান অন্ধকারে চুবোনো বালতি আমি চুপ থাহি আর শ্বাস ছাড়ি নীলচে আখরোটভেজা বাতাসে। আহ্, কী গোবরেসময়! বড় স্বপ্নকাঁটা প্রেমিকেরা জীবনের পাটালি গুড় মুখে ধইরা বলে— আবুর মা তোরে ভুইলা থাহন যায় না! ছিঃ কী মিছা বয়ান! ওলো মিতুদি, আমারে একখান ঢেউভর্তি ঝিনুক খুলি দে, থেঁতো করি, গিলে ফেলি ঘুমাই তারপর ডুইবে মরি প্রেমের জলমগ্ন পক্ষাঘাতে। বেন্নাবেলা মড়ার মতন শান্ত এক বাক্য আওড়াই --- বিষ না— মাটি খাই। পিইষে মরি ঝিনুকের মাড়পুরা মোহনার গায়ে! ২. নাইল্লার মুড়া আমার হৃদয় তারে ছাড়া আর কাউরে খুশি করতে শেখে নাই কখনো। তার নামে হাঁটে শৈল্লের সমস্ত রক্তসঞ্চালন, গোপন বিপ্লব। হুনছি, পাথরের চেয়েও একগুঁয়ে সে; যুক্তির বদলে শিরাতে জমায় ধুলা। আমার চোক্কে আকাশ এহন স্লোগান ছাওয়া ছাদ! জানো কলির মা, সূর্য এইখানে নিষিদ্ধ শব্দ, উচ্চারণ করলেই জরিমানা। প্র
ঝিনুকের মাড়
আমারে দে একখান পুরনো কাবারদানি—
তার ভিত্রে থকথকা নুনভেজা সময়
তোরা সব ওলটরস খা—
না গোধূলীর আগুনঠেলাঠেলি নয়,
গেরস্তবাড়ির মাচায় যেই সব অর্ধমরা স্মৃতি ঝুলে
তারাই আমার গর্ভদংশা বেদনার খয়রা বালিশ।
ওহে পাটকলের ভাঙা সাইরেন, বাজ—
দে একখান অন্ধকারে চুবোনো বালতি
আমি চুপ থাহি আর শ্বাস ছাড়ি নীলচে আখরোটভেজা বাতাসে।
আহ্, কী গোবরেসময়!
বড় স্বপ্নকাঁটা প্রেমিকেরা
জীবনের পাটালি গুড় মুখে ধইরা বলে—
আবুর মা তোরে ভুইলা থাহন যায় না!
ছিঃ কী মিছা বয়ান!
ওলো মিতুদি, আমারে একখান ঢেউভর্তি ঝিনুক খুলি দে, থেঁতো করি, গিলে ফেলি
ঘুমাই
তারপর ডুইবে মরি প্রেমের জলমগ্ন পক্ষাঘাতে।
বেন্নাবেলা মড়ার মতন শান্ত এক বাক্য আওড়াই ---
বিষ না—
মাটি খাই।
পিইষে মরি ঝিনুকের মাড়পুরা মোহনার গায়ে!
২.
নাইল্লার মুড়া
আমার হৃদয় তারে ছাড়া আর কাউরে খুশি করতে শেখে নাই কখনো।
তার নামে হাঁটে শৈল্লের সমস্ত রক্তসঞ্চালন, গোপন বিপ্লব।
হুনছি, পাথরের চেয়েও একগুঁয়ে সে; যুক্তির বদলে শিরাতে জমায় ধুলা।
আমার চোক্কে আকাশ এহন স্লোগান ছাওয়া ছাদ!
জানো কলির মা, সূর্য এইখানে নিষিদ্ধ শব্দ, উচ্চারণ করলেই জরিমানা।
প্রেমটারে তাই রাষ্ট্রবিরোধী চাক্ষুষ ঘোষণা কইরা দিছি।
তার নীরবতা নাকি দেশের একমাত্র গণভোট! করুক।
দেখছি... দেখছি... মানুষ তারে য্যামনে হাততালি দিছে অথচ তাগো হাত দুইটাই রাখছে শেকলে বান্ধা।
ওহ্ কী জ্যান্ত কালা শোষক!
শহরের দেয়ালে ঝুলাইছি তাই প্রতিশ্রুতির কঙ্কাল।
হৃদয় সত্যি হইলেই ইরানীয়গো মতো রাস্তায় নাইমা আইবো রক্তের মিছিল__
খাড়াও কই কি বেয়াই, তারে থামতে কও__
নইলে দেখবা কুরুশে এক্কান নাইল্লার মুড়া তিনরাস্তার মোড়ে ক্যামনে পুড়ে!
৩.
অনুমোদনহীন
রাষ্ট্রীয় অনুমোদনহীন একটা প্রেম করছিলাম
ভাবছিলাম সফল শাসনযন্ত্র দিয়া বেবাকরে পোষ মানাইমু...
পল্টিবাজ বেয়াইনে বেগড়া দিছে
দিছে নিরীহ জনতাও!
গতকাইল মাইজ্জামিয়ার একাডেমিত গেছিলাম ওয়ালীরে পড়তে—
বাংলায় ঢুইক্কা শুনি শিক্কিত বাক্যরা পুলিশ হইয়া গেছে
ব্যাকরণ হইছে লাঠি
মুষ্টিবদ্ধ হাতে ঘোষণা করলাম, যে শব্দ শোষণের পক্ষে দাঁড়ায় তাকে ছিঁড়া ফেলো—
আমি নির্দোষ হন্তাকারী কেননা শব্দ হত্যা কোনো অপরাধ নয়।
ঈশ্বরকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় তুলব। যদি তিনি নির্দোষ হন, তবে প্রমাণ দিক
না পারলে
নীরবতাও অপরাধ।
৪.
ক্ষমতার সিঁড়ি
বিদ্রোহ আমার শৈল্লের গোপন জ্বর
রক্তের ভিত্রে নীরব এক সংক্রমণ
রাইত হইলে কণ্ঠে জইমে ওঠে অঘোষিত কারফিউ,
শব্দেরা জানালায় ঠোকরায়, বায়রয়তে পারে না।
মঞ্চ নিইভে গেলে অন্ধকারে শুনি শালাগো স্বীকারোক্তি
অতীতের একনায়কের ভাঙা প্রতিধ্বনি
গানের ছদ্মবেশে আত্মপক্ষসমর্থন
আহা ওইসব নাটকের গুষ্টি চু!
আমি নিজেই নিজের বিরুদ্ধেই সাক্ষী,
ক্ষমতার সিঁড়িতে পা রাখলে সততা পিছলায়া যায়।
৫.
দিগন্তবাহা নৌকা
নিস্তব্ধ বিলের ঢেউয়ে থমকায় চাঁদের নোনা শ্বাস,
কোথাও নাই নয়াসুরুজের ছায়া, নাই কোমর ভাঙা সারসও! খালি ভাঙা বাঁশির গর্তে আজ গোধূলী লুকায়...
বারিখাঁ নিজের বুক ফুইলা খোঁজে পুরনো ঝড়ের স্বর।
হ, এই দেহটা ছিনতাই হইছে বহুদিন— কেউ ফেরত দেয় নাই!
তারাগুলা পাগলের মতো লাফাইয়া লাফাইয়া গালি ছোঁড়ে, রাত গভীর হলেই নাকি আত্মার রুগ্নতা বাড়ে।
চম্পাবনের শিশুরা ঘুমায় আগুনের মাথায়—
তাগো দাগগুলা মুছা দেয়া জরুরি
না হইলে পুরনো ক্ষত বাইন্ধা মইরা যাইব শেফালিরমা!
পৃথিবী যদি পুরা স্বপ্ন হইয়া যায়,
তহন কবিতার সিন্দুকও হোগলার পাটির মতো ভাসে জলে। সাহসী মন ভবিষ্যতের ধুলায় হাঁপাইয়া ফিইরা আহে—
হাতে কিছু নাই, শুধু লবণের রোইদ
আর দূরত্বের নুইরা পড়া কান্না।
দেখ বাজান, চোখ তুইলা দেখ—
সাঁঝবুড়িরা ডাইন হাতে ধইরা নত্তুর গান ধরছে
‘হেই, শুন, তোরা কই যাইতেছিস?
হামার আর রক্তে মুক্তি নাই রে পোলাপাইন,
তোগো স্বপ্নের দেহটা ঠাসা ফাটলে।
আর ওই যে দিগন্তবাহা নৌকা—
তোরা ভাবস না, ওটা তো তোরাই ভাসাইছস উঠানের ডুবো স্রোতে।
৬.
ঘাটশালা ১৭ নম্বর বর্ডারলাইনে
ঘাটশালা ১৭ নম্বর বর্ডারলাইনে
আইজ কুয়াশা ভিজা শিকারির দল ঘুইরা বেড়ায়,
তহন ভোরের লাল ফালি—
ধানক্ষেতে লতাপাতার গায়ে সেঁটে থাকা গুলির গন্ধ।
দৌলতপুর, কালীগঞ্জ, শালন্দা, বুড়িরচর
আরেক মাথায় কৈলাশপুর ক্যাম্পে
জ্যোৎস্না মন্ডল—
নজরবন্দি সিভিল-নার্স,
ওর হাতের কাঁচির ডগায় শুকায় দুই দিনের না খাওয়া রক্ত--
চৌকি নম্বর চৌত্রিশে
গোলন্দাজ বুট জোড়া ঘষে উঠে দাঁড়ায়,
একটুকু ফিসফাসেই
ডিপো-পারের বন্দুকের গ্রিল খুলে যায়;
পাঁচ মিনিটে বদলি হয় অভিযানের মানচিত্র।
মুজিবনগরের গলি, কালিবাড়ির বাঁক—
সবখানে টের পাই,
মাটির নিচে থরথর করছে সাবান-গন্ধে মোড়ানো দুঃস্বপ্ন।
ঝপাং ঝাং ৯০° শকওয়েভ,
য্যান কুছুমদ্দির আহত রাইতের নিঃশ্বাস।
গামছা, ডেগচি, বালতি, টিনের ঝাঁপি—
সব দুমড়ে— চিনচিনে রোদ্দুরে কেঁদে ওঠে।
বর্ডারগার্ডদের সাকরেদরা---
পূর্বের নিরিবিলি মাঠটা মাপজোখ কইরা দেখে,
মিনিটে মিনিটে তোলে নতুন খসড়া লিস্ট—
কার ঘর পুইড়া গেছে, কার আত্মা বেচারা
পথিমধ্যে ফসকাইছে।
খোঁজ লয়, গোঁজা অইয়া। ত্রাণের বারোটা বাজার আগেই কাইট্টা পড়ে।
৭.
দূরপাল্লার ট্রেন
উলঙ্গ দিঘীর লাহান খাইল্লা আকাশ
বকপক্ষী নাই, নাই উড়ুক্কু সাপও
দিনকানা জোনাকিরা মরুভূমির মইদ্যে বন খুঁজে
মৃদু সুরের গানে বসিরখাঁ হাত্তালী কুড়াইতে চায়
না, আমার ছাপান্ন হাজার গিরা দেহার কেউ নাই!
নক্ষত্রেরা একে অপরকে গালাগালে ব্যস্ত
বুকে যহন অশব্দ আগুন, তহন সমাধির পেরেক শক্ত করন জরুরি!
বিশ্ব যদি কবিতা হয়, কবির হোগলাঘরও একটা শিল্প
সাহসী আত্মারা জ্বরে আর উন্মাদনায় নামে পথে
শূন্য হাতে ক্লান্ত হয়ে ফিরা আহে ভবিষ্যতের ভেতর— তারা জানে না তার নিচে স্বাধীনতা
কষ্ট, দূরত্ব আর মৃত্যুর প্রতিধ্বনিতে নেয় পদক্ষেপ...
আয়, সীতাঠাম্মারে কই একখান গীত ধরতে...
'তোরা অন্ধ
রক্তেই মুক্তি ভাইবা মরিস
অথচ দূরপাল্লার ট্রেনটা তোগো উঠান হইয়াই ছোটে'।
৮. ফাও
একটা যুদ্ধ ক্লান্ত হইয়া এখন ঘরের অভিমুখে
আমি কিছু লু হাওয়া অভাবের সাতমাথা দেহি
নীল অন্ধকারে কাঁচা ফসল কাইটে ঝুলছে আসমানে
বুঝলাম, ওরা সমীকরণ বুঝে নাই...
আৎকা পাথরকুচি ফুলের গন্ধে কাঁধে তুলে আগুন
হাতে তামাকনেশা ফাও দিছে রক্ত; ওদের বুঝাবে কে!
আমি অতিশয় বৃদ্ধা...
বড়জোর মাত্রাহীন কিছু কাঠামো আড়াআড়ি তৈরি করে প্যারামিটার দেখাইতে পারি।
নাইজ্জাবুর আধ্যাত্মিকতার সিমুলেশন বা হলগ্রাফির টোটকা জগতে আটকায়া দিছে রাওহীন গপ্পরা!
ইঁন্দুর দৌড়ের মানসিকতা লইয়া রণদারা ক্যামেরা হয়
আর তোমাগের নডি আঁইটা জীবনে খালি ডাস্টবিনই খাইলা মিয়া!
৯.
একগাট্টি মুলা
পুড়ছে নাকি পোড়াচ্ছে!
কমলমিয়া কই তোমরা? আ-হ-না দেইখা যাও—
আমার সোনার দেশ পুইড়া কেমুন অঙ্গার হইতাছে ;
শ্যাষ! সব শ্যাষ বুঝলা আবুর মা!
তুমি মইরা বাঁইচা গেছ—
আমরা যামু কই?
‘সারাদেশে একযোগে জুলাই সনদ স্বাক্ষর উপলক্ষে অনুষ্ঠান সকলে চোখ রাখুন টিভির পর্দায়—
সাংবাদিকের ডাক।’
গণেশ'দা ডাকে ঈশ্বরকে
হায় ঈশ্বর! হয় দেশ বাঁচাও নয় আগুনের আগুন শক্তি কেড়ে নাও।
না কিছুই হয় না
যা হয় তা কেবল ছাই
নাই দায়! নাই দোষ কারোর?
চুপ কর শালারা আমার লেতা এহন নাকে তেল দিয়া ঘুমাইব ; কাইল তার বিদেশ সফর__
এয়ারপোর্টে হাত বান্ধিস একগাট্টি মুলা দিমুনে...
১০.
ঝিঙ্গার ঝোল
আগুনের গায়ে আগুন লাগনের ভয় নাই
এইমাত্র পরিষ্কার হয়ে উঠেই দেখি পাথুরে ডাস্টবিন
বুচ্ছি, এ শতকে এটা আর প্রজাপতি হইবো না!
যদিও আমি কিনা আবারো চৌদ্দ'শ দেহের রক্ত দিই!
সব বালুই এক— জলে গিয়া ঘোলা হয়
জঙ্গল কাইটা দিলেও দাগ কাটন সোজা না
দাগে জন্মায় কালো কালো ফুল আর ঠোঁটকাটা ঘাস।
নুরুদ্দীনগো মিছিল নদীরে উল্টো করে নিলেও
মন্ত্রের জপ তো আত্মগোপনকারীরা জপবেই...
চিড়ে চেপে ভাত করলেও মুড়ি চাইপা চাল করন যায় না
এসব স্বীকারোক্তির দায় কোনো চেগুভায়ার নেই
একই প্রতিবাদ আর কতবারই বা হতে পারে! বেয়াই।
দিলাম শরীরের ঘাম আর বাৎসরিক বেতন
তোমরা চাল ডাল কিন্না লইয়ো
শিলে বাঁটা মশল্লায় রাইন্ধো
একখান ঝিঙ্গার ঝোল...
লেখক পরিচিতি : রেশম লতার জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বুধি গ্রামে। তার পিতার নাম আছকর আলী ও মাতার নাম আসমা বেগম। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
তিনি ২০১৩ সালে পূর্বধলা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি, ২০১৫ সালে পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসি, ২০১৯ সালে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স ও ২০২০ সালে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ হতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হতে একই বিষয়ে পুনরায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধীনে এমফিল গবেষক হিসেবে অধ্যয়নরত। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি গাজীপুর অগ্রণী মডেল কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গাজীপুর সাইফুদ্দিন মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন।
তার ভূমিকা সম্বলিত প্রকাশিত দুটি গ্রন্থ হলো- মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘অহিংসা’ ও ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’। তার রচিত শতাধিক সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ, অনুবাদ, কবিতা ও গল্প দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘নতুন ধারা’র একজন অগ্রণী লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত। একজন বিপ্লবী লেখক হিসেবে তার সাহিত্যে নতুনত্বের ছাপ লক্ষ্য করা যায়।
What's Your Reaction?