রোজায় ডাবের পানিতে ভেজানো চিয়া সিড স্বাস্থ্যের কতটা উপকারী?

  রোজার সময় শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখা খুবই জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে এমন কিছু খাওয়া দরকার, যা একদিকে শক্তি জোগাবে, অন্যদিকে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করবে। এই দিক থেকে ডাবের পানি ও চিয়া সিডের সংমিশ্রণ হতে পারে আদর্শ একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। অনেকেই চিয়া সিড খাওয়ার আগে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। একইভাবে ডাবের পানিতেও চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখা যায়। খাওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা আগে কাচের পাত্রে ডাবের পানির মধ্যে এক থেকে দুই চামচ চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখুন। ইফতারে এটি পান করতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারে পান করলে কী উপকার পাবেন- পানিশূন্যতা রোধে করবেডাবের পানিতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। এগুলো শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে চিয়া সিড নিজের ওজনের প্রায় ১০ গুণ পানি শোষণ করে জেলির মতো গঠন তৈরি করে। ফলে এই পানীয় শরীরকে দীর্ঘ সময় আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমায়। হজমশক্তি উন্নত করেডাবের পানি পেট ঠান্ডা রাখে এবং গ্যাস, বদহজম ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সহায়ক। চিয়া সিডে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার, যা

রোজায় ডাবের পানিতে ভেজানো চিয়া সিড স্বাস্থ্যের কতটা উপকারী?

 

রোজার সময় শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখা খুবই জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে এমন কিছু খাওয়া দরকার, যা একদিকে শক্তি জোগাবে, অন্যদিকে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করবে। এই দিক থেকে ডাবের পানি ও চিয়া সিডের সংমিশ্রণ হতে পারে আদর্শ একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়।

অনেকেই চিয়া সিড খাওয়ার আগে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। একইভাবে ডাবের পানিতেও চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখা যায়। খাওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা আগে কাচের পাত্রে ডাবের পানির মধ্যে এক থেকে দুই চামচ চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখুন। ইফতারে এটি পান করতে পারেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারে পান করলে কী উপকার পাবেন-

পানিশূন্যতা রোধে করবে
ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। এগুলো শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে চিয়া সিড নিজের ওজনের প্রায় ১০ গুণ পানি শোষণ করে জেলির মতো গঠন তৈরি করে। ফলে এই পানীয় শরীরকে দীর্ঘ সময় আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমায়।

হজমশক্তি উন্নত করে
ডাবের পানি পেট ঠান্ডা রাখে এবং গ্যাস, বদহজম ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সহায়ক। চিয়া সিডে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার, যা হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে অন্ত্রের কার্যক্রম ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।

oi

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
চিয়া সিড ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ডাবের পানিতে ক্যালোরি তুলনামূলক কম, তাই উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত বা চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে এটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়
ডাবের পানি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই দুই উপাদান একসঙ্গে গ্রহণ করলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

শক্তি ও সতেজতা বৃদ্ধি করে
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ডাবের পানি ও চিয়া সিড প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। ইফতারে খালি পেটে এটি খেলে শরীর দ্রুত এনার্জি ফিরে পেতে পারে এবং সারাদিন চাঙ্গা থাকতে সাহায্য করে।

ত্বক ও চুলের উপকার করে
চিয়া সিডের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সহায়ক। ডাবের পানি শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেট করে, যা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তবে সবকিছুই পরিমিত মাত্রায় খাওয়া উচিত। যাদের নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা আছে, তারা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। সঠিক নিয়মে ডাবের পানি ভেজানো চিয়া সিড রোজার সময় হতে পারে একটি পুষ্টিকর ও সতেজ পানীয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:
রোজায় গ্যাস্ট্রিক ও পেটের যত্নে মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ 
পানিশূন্যতায় কি ব্লাড সুগার বেড়ে যায় 

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow