রোনালদোর অবসরে আর্থিক সঙ্কটে পড়বে পর্তুগাল!

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন মাঠ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন হয়তো তার চোখে ছিল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের আক্ষেপ। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালি ট্রফিটা আর ছোঁয়া হলো না। কিন্তু পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য সেই মুহূর্তের অর্থ ছিল আরও গভীর। কারণ, সেদিন শুধু একজন কিংবদন্তির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ হয়নি; শেষ হয়েছে এমন এক যুগ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজন রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচের পরই রোনালদো জানিয়ে দেন, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। ফলে নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে আরও কিছু ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার অধ্যায়ের ইতি টানা হয়ে গেছে। সেই সমাপ্তির পর পর্তুগালের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি কৌশলগত নয়, আবেগেরও নয়। প্রশ্নটি আরও বড়—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর পর্তুগাল নিজেদের কীভাবে নতুন করে পরিচয় করাবে বিশ্বের কাছে? কারণ, রোনালদো বহু আগেই শুধু জাতীয় দলের একজন ফুটবলার ছিলেন না। তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে

রোনালদোর অবসরে আর্থিক সঙ্কটে পড়বে পর্তুগাল!

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন মাঠ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন হয়তো তার চোখে ছিল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের আক্ষেপ। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালি ট্রফিটা আর ছোঁয়া হলো না। কিন্তু পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য সেই মুহূর্তের অর্থ ছিল আরও গভীর। কারণ, সেদিন শুধু একজন কিংবদন্তির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ হয়নি; শেষ হয়েছে এমন এক যুগ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজন রোনালদো।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচের পরই রোনালদো জানিয়ে দেন, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। ফলে নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে আরও কিছু ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার অধ্যায়ের ইতি টানা হয়ে গেছে।

সেই সমাপ্তির পর পর্তুগালের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি কৌশলগত নয়, আবেগেরও নয়। প্রশ্নটি আরও বড়—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর পর্তুগাল নিজেদের কীভাবে নতুন করে পরিচয় করাবে বিশ্বের কাছে? কারণ, রোনালদো বহু আগেই শুধু জাতীয় দলের একজন ফুটবলার ছিলেন না। তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড।

আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি, দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ—এসব অর্জন তাকে পরিসংখ্যানের বাইরে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কিন্তু মাঠের বাইরের প্রভাবটাও ছিল সমান শক্তিশালী।

পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ দানিয়েল সা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন স্পষ্ট ভাষায়, 'বিষয়টি শুনতে কিছুটা কঠোর মনে হতে পারে। তবে ব্র্যান্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্তুগাল জাতীয় দল এবং আরও অনেক দলকে একসঙ্গে মেলালেও তাদের চেয়ে এককভাবে অনেক বেশি বড় রোনালদো।'

এই একটি বাক্যই হয়তো রোনালদোর প্রভাবের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের জন্য রোনালদো মানে ছিল শুধু মাঠে গোল করা নয়। বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা দলটির জন্য এনে দিয়েছে অসংখ্য স্পন্সরশিপ, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নতুন বাজার। ইউরোপের বাইরের কোটি কোটি মানুষও পর্তুগালের খেলা দেখতে শুরু করেছিলেন মূলত একজন ফুটবলারের জন্য।

দানিয়েল সা মনে করেন, রোনালদো না থাকলে এই শূন্যতাটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, 'আমি কোনো খেলাধুলার বিশ্লেষণ করছি না, করছি ব্র্যান্ডের বিশ্লেষণ। তিনি যখন চলে যাবেন, তখন তা একটা বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়াবে। কারণ কী পরিমাণ প্রচার ও গণমাধ্যমের মনোযোগ আমরা হারাতে যাচ্ছি, তা মানুষ এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। আমরা যেন খুব দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকা কোনো চলন্ত সিঁড়ি থেকে ছিটকে পড়ব। বিগত ২০ বছর ধরে তিনি একাই পর্তুগালকে অসংখ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়েছেন এবং প্রচুর অর্থ উপার্জনে সহায়তা করেছেন।'
সুত্রঃ দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow