রোহিঙ্গার বোঝা কতদিন বইবে বাংলাদেশ?

5 days ago 9

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগে যোগ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন। নানান দিক থেকেই এ প্রস্তাবনা আলোচনার দাবি রাখে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছায় ও টেকসইভাবে রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরিতে যৌথ প্রচেষ্টার লক্ষ্যে এই সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেন তিনি। বাস্তবতা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশে অবস্থান নানামুখী সংকট সৃষ্টি করছে। তাই অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে হবে। 

গতকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এদিন বেলা ১১টার দিকে তিনদিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। এতে মিয়ানমার ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা কেবল কথার জালে বন্দি থাকতে পারি না। এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও। সংকটের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবা এবং তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব।

রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাদের নিজ দেশে ফেরত নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে। যত দিন না প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হচ্ছে তত দিন তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি।

যত দিন পর্যন্ত রোহিঙ্গারা নিজেদের আবাসভূমিতে ফিরে যেতে না পারেন তত দিন পর্যন্ত তাদের বিষয়টি ও এর টেকসই সমাধানকে বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার জন্য জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে শুনেছি, রোহিঙ্গারা যত দ্রুত সম্ভব নিজ আবাসভূমিতে ফিরে যেতে চান। তিনি যথার্থই বলেছেন, কারণ কেউই পরবাসী হয়ে জীবন কাটাতে চায় না। শরণার্থী জীবন কোনোভাবেই মর্যাদাপূর্ণ নয়।

প্রফেসর ইউনূসের সাত দফা প্রস্তাব

প্রথমত. রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করতে হবে। কথার জালে আর বন্দি থাকা যাবে না।

দ্বিতীয়ত. ২০২৫-২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার অর্থ ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও মানবিক অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তা জরুরি।

তৃতীয়ত. রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এজন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, জীবিকা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ ঘরে ফিরতে দিতে হবে।

চতুর্থত, মিয়ানমারের ভেতরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাত নিরসনে সংলাপ প্ল্যাটফর্ম জরুরি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসতে হবে, যাতে পুনর্মিলন, অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।

পঞ্চমত, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অপরিহার্য। মানবপাচার, মাদকপাচার, ছোট অস্ত্রের চোরাচালানসহ সীমান্তবর্তী অপরাধ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ষষ্ঠত, জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। মিয়ানমার, আরাকান আর্মি ও অন্যান্য সংঘাতপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংকট নিরসনের স্বার্থে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সপ্তমত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় চলমান জবাবদিহি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে হবে। আইসিজের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাদের নিজ দেশে ফেরত নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে। যত দিন না প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হচ্ছে তত দিন তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন, যা কক্সবাজারকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে পরিণত করেছে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক জন্ম নিচ্ছে। অন্যদিকে, মিয়ানমারে এখনো পাঁচ লাখেরও কম রোহিঙ্গা রয়েছে। এই চিত্র স্পষ্ট করে যে অব্যাহত নিপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে যাচ্ছেন। গত আট বছরে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশাল ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, সমাজ ও শাসনব্যবস্থার ওপর এর বিরাট প্রভাব পড়েছে।

দুই.

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নানামুখী সংকটের সৃষ্টি করেছে। এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বিপুল জনসংখ্যাধিক্যের এদেশের জন্য সত্যিই দুরূহ ব্যাপার। সঙ্গত কারণেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের যে স্রোত বাংলাদেশে আসছে, সেটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্যাতিত মানুষের সঙ্গে মাদকের স্রোতও আসছে কি না এবং অস্ত্রের কোনো বিষয় যুক্ত হচ্ছে কি না, সেটা আরও বেশি উদ্বেগের বিষয়।

এমনিতেই বাংলাদেশ মাদক সমস্যায় জর্জরিত। টেকনাফ সীমান্তে মাদক চোরাচালানের বিষয়টি অনেকটা ওপেন সিক্রেট। উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ, কাটাবনিয়া, কচুবনিয়া, নয়াপাড়া, সাবরাং আলোগুলার প্রজেক্ট, টেকনাফ সদরের মহেষখালিয়া পাড়া, তুলাতলী, লম্বরী, হাবির ছড়ার নৌঘাট দিয়ে হ্নীলা, হোয়াইক্যং.বাহার ছড়া এলাকাসহ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এনে তা দেশের অভ্যন্তরে পাচার করছে বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সুযোগ নিয়ে মাদককারবারিরা যে আরও তৎপর হয়ে উঠছে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে মাদকের বিস্তার রোধে জোর নজরদারি রাখতে হবে।

নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য এবং বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। সত্যি বলতে কি দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন মাদককারবারের সাথে জড়িত। তারা বিভিন্ন কলাকৌশলের আশ্রয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। সত্যি বলতে কি দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গেও রয়েছে এদের শক্ত ও গভীর যোগাযোগ।

মাদকের রয়েছে বিভিন্ন রুট। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এর কিছু ধরা পড়ে। বাকিটা চলে যায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে। রাজধানীতেও মাদকব্যবসা রমরমা। মাদকের জগতে এক সময়  ‘হেরোইন’ নামক মরণ নেশা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। এ পদার্থটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ করে অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এটি খুব দামি বলে পরবর্তীসময়ে এর স্থান দখল করে নেয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা। বর্তমান নেশাসক্ত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ দুটি নেশাদ্রব্য বেশি জনপ্রিয়। একে ঘিরে দেশব্যাপী গড়ে উঠেছে বিশাল নেটওয়ার্ক। ফেনসিডিলের চেয়ে ইয়াবাই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও অমিত সম্ভাবনা। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অবক্ষয়, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা এবং মূল্যবোধের অভাবের সুযোগ নিয়ে মাদক তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণ সমাজের প্রতি। বেকারত্বও মাদকের বিস্তারে সহায়ক-এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা। এই মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা। এ অবস্থা চলতে থাকলে একটি সমাজের অন্ধকারের অতল গহŸরে হারিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি সহজলভ্য যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখজনক হচ্ছে, মাঝে মধ্যে ছোটোখাটো মাদককারবারি ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও তাদের মূল কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি এসব সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকায় তাদের টিকিটি স্পর্শ করতে পারে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।

মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতারও কোনো বিকল্প নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার উন্মেষ ঘটাতে হবে। যারা ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত হয়েছে তাদেরও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুস্থধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বাড়াতে হবে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যাও। সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সাথে মাদকের স্রোত আসছে কি না সেটি যেমন নজরে রাখতে হবে তেমনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও চালাতে হবে কূটনৈতিক তৎপরতাসহ সব ধরনের প্রচেষ্টা। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্রোত বয়েই চলছে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে তারা। বস্তুত রাখাইন রাজ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার।

অনেকদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকার নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেও তাদের অস্বীকার করা হচ্ছে। শুধু জাতিগত পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন করা হচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার যা করছে তা সভ্যতা-ভব্যতার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, তারা এখন দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে।

অবিলম্বে ক্ষুদ্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যা, জুলুম-নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করতে হবে। জাতিসংঘসহ বিশ্বমানবতাকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত অধিকার মেনে নিতেও চাপ প্রয়োগ করতে হবে। মিয়ানমার তো পৃথিবীর বাইরের কোনো দেশ নয়। তাদের যা খুশি তা করার অধিকার নেই। মিয়ানমারে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে সেটিও সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তার দায় রোহিঙ্গাদের ওপর চাপানো মোটেও সমীচীন নয়।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রোহিঙ্গা কমিশন রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে- এমন আশা আজ দুরাশায় পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ এখন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করছে। কিন্তু মিয়ানমারকে নির্যাতন বন্ধে কোনো চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশে ১৯৭০ সাল থেকে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে। এখন প্রায় ১৩  লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদের নিয়ে নানান সমস্যায় আছে জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ বাংলাদেশ। বিষয়টি মানবিক হলেও এরপর নতুন করে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য দুরূহ ব্যাপার।

সমস্যার সমাধান আসলে মিয়ানমারের হাতেই। আধুনিক সভ্যতায় কোনো জাতিগোষ্ঠীর অধিকার অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারেরই নাগরিক। তাদের দায়-দায়িত্ব মিয়ানমারকেই নিতে হবে।

আসলে বিশ্ব বিবেককেও জেগে উঠতে হবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে। রোহিঙ্গাদের এই বিপর্যয়ে মানবিক বিশ্ব এককাতারে দাঁড়াবে-এটিই কাম্য।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।

[email protected]

এইচআর/এমএফএ/জিকেএস

Read Entire Article