লন্ডভন্ড পঞ্চগড়, মৃত ১
পঞ্চগড় আকস্মিকভাবে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছচাপায় এক বৃদ্ধা নিহত এবং দেয়াল ধসে স্বামী-স্ত্রী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বড় আকারের শিলা পড়তে শুরু করে। এরপর রাত ১২টার পর কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতা ও মেঘের গর্জন বাড়তে থাকে। ঝড়ের সময় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকার বাসিন্দা চাকাতি বালা নিজের ঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। প্রচণ্ড বাতাসের ঝাপটায় বসতঘরের পাশে থাকা একটি বিশাল গাছ উপড়ে সরাসরি তার ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা ইউনিয়নের স্টেশন এলাকায় ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ঝড়ের কারণে তাদের পাশে থাকা তিন তলা একটি বাড়ির ছাদের ইটের দেয়াল ভেঙে তাদের ঘরের চালার ওপর প
পঞ্চগড় আকস্মিকভাবে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছচাপায় এক বৃদ্ধা নিহত এবং দেয়াল ধসে স্বামী-স্ত্রী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বড় আকারের শিলা পড়তে শুরু করে। এরপর রাত ১২টার পর কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতা ও মেঘের গর্জন বাড়তে থাকে। ঝড়ের সময় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকার বাসিন্দা চাকাতি বালা নিজের ঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। প্রচণ্ড বাতাসের ঝাপটায় বসতঘরের পাশে থাকা একটি বিশাল গাছ উপড়ে সরাসরি তার ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা ইউনিয়নের স্টেশন এলাকায় ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ঝড়ের কারণে তাদের পাশে থাকা তিন তলা একটি বাড়ির ছাদের ইটের দেয়াল ভেঙে তাদের ঘরের চালার ওপর পড়ে। এ সময় টিনের চালা ভেঙে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তারা। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ের তীব্রতা ও শিলার আঘাতে অনেক জায়গাতেই টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর ও আটোয়ারী এবং বোদা উপজেলায় মাঠে থাকা বিভিন্ন রবিশস্য, বিশেষ করে ভুট্টা, গম এবং শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলা বৃষ্টির কারণে টিনের ঘর ছিদ্র হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেইসঙ্গে লিচু ও আমের মুকুলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মৌসুমি বায়ু হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠায় এই বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল জেলাজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে আরও প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
What's Your Reaction?