লাইসেন্স ছাড়াই দুই দশক ব্যবসা চালালো স্টার সিনেপ্লেক্স
রাজধানীর বিনোদন জগতের এক ঝলমলে নাম, পান্থপথের বসুন্ধরা শপিংমলে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স। যেখানে দুই দশক ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান, এবার সেই জায়গাকে ঘিরেই উঠেছে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্সটি নাকি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সামনে এসেছে এই বিস্ময়কর তথ্য, যা মুহূর্তেই নড়েচড়ে বসিয়েছে পুরো শোবিজ অঙ্গনকে। চকচকে পর্দার আড়ালে এমন অনিয়ম— এ যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি নাটকীয় এক চিত্রনাট্য! এখন প্রশ্ন একটাই, কীভাবে এতদিন ধরে নজরের বাইরে ছিল এই বিষয়টি, আর এর পেছনে দায় কার? জানা যায়, অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি এনওসি (অনাপত্তি পত্র) দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেন, ‘আজকের অভিযানে প্রত্যেকেই দেখলেন উনারা একটি প্রেক্ষাগৃহ চালাচ্ছেন লাইসেন্স ছাড়া। যদি আপনি কোনো প্রেক্ষাগৃহ চালান সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইসেন্স নিতে হয় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বা ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে।’ ‘উনাদের এনওসি নেওয়া আছে তাও ২০০৪ সালে,
রাজধানীর বিনোদন জগতের এক ঝলমলে নাম, পান্থপথের বসুন্ধরা শপিংমলে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স। যেখানে দুই দশক ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান, এবার সেই জায়গাকে ঘিরেই উঠেছে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্সটি নাকি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সামনে এসেছে এই বিস্ময়কর তথ্য, যা মুহূর্তেই নড়েচড়ে বসিয়েছে পুরো শোবিজ অঙ্গনকে।
চকচকে পর্দার আড়ালে এমন অনিয়ম— এ যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি নাটকীয় এক চিত্রনাট্য! এখন প্রশ্ন একটাই, কীভাবে এতদিন ধরে নজরের বাইরে ছিল এই বিষয়টি, আর এর পেছনে দায় কার?
জানা যায়, অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি এনওসি (অনাপত্তি পত্র) দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেন, ‘আজকের অভিযানে প্রত্যেকেই দেখলেন উনারা একটি প্রেক্ষাগৃহ চালাচ্ছেন লাইসেন্স ছাড়া। যদি আপনি কোনো প্রেক্ষাগৃহ চালান সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইসেন্স নিতে হয় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বা ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে।’
‘উনাদের এনওসি নেওয়া আছে তাও ২০০৪ সালে, উনারা কোনো লাইসেন্স নেননি। একদিক থেকে চিন্তা করলে উনারা একটা লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা চালাচ্ছেন। আর উনাদের মাদার যে কোম্পানি সেটা হচ্ছে শোমোশন লিমিটেড। কিন্তু উনারা যে স্টার সিনিপ্লেক্স চালাচ্ছেন এটার কোনো জায়গাতে মেনশন নাই যে সোমোশন লিমিটেড।’
লাইসেন্স জটিলতার পাশাপাশি গ্রাহকদের টিকিট কেনা নিয়ে ভোগান্তির বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে অনেকের টাকা কেটে নিলেও টিকিট প্রিন্ট হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত জানান, ‘আরেকটা সমস্যা হচ্ছে কি যে, আপনারা জেনে থাকবেন অনেক মানুষ টিকিট কাটতেছে কিন্তু উনাদের এসে এখানে প্রিন্ট দিতে পারতেছে না এবং তাদের টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে উনাদের সাথে আমরা কথা বলেছি। উনারা জানিয়েছে সাত কর্মদিবসের ভিতরে এই টাকা আবার রিফান্ড হবে।’
সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি তাদের কারিগরি বা সফটওয়্যারজনিত সমস্যা। আদালত এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘এটা তাদের সফটওয়্যারের একটা সমস্যা। এটা আমরা যখন অন্যান্য জায়গাতেও পোস্ট দিয়ে কোনো কিছু পারচেজ করতে যাই তখন টাকা কেটে নেয় কিন্তু পেমেন্ট হয় না। এই জিনিসটা হয়। উনারা এটা ইনসিওর করছে, সাত কর্মদিবসের ভিতরে যারা এই প্রবলেম ফেস করতেছেন তাদের টাকা রিফান্ড হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভোক্তাদের একটাই সমস্যা যারা অনেক দূর থেকে আসছেন কিন্তু মুভি দেখতে পারছেন না।’
‘এ ব্যাপারে আমরা উনাদের সতর্ক করেছি— যত দ্রুত সম্ভব সফটওয়্যারের যে সমস্যা এটা যেন সলিউশনের দিকে নিয়ে যায়। সবাইকে আমরা আর্থিক জরিমানা আজকে করিনি, আমরা অভিযানে এসেছিলাম উনাদের সাথে কথা বলছি এবং যে সিচুয়েশন সে অনুযায়ী উনাদের একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
What's Your Reaction?