লাইসেন্স বাতিল: আদ-দ্বীন হাসপাতাল কি নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে?

রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হচ্ছে। গোটা হাসপাতাল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা ও চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে লাইসেন্স বাতিল করার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আপিল করতে পারবে বলে বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে আপিল করবে বলে জানিয়েছেন। তবে যতক্ষণ না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আপিল করে অধিদপ্তরের আদেশের ওপর কোনো ‘স্থিতাবস্থা’ (স্ট্যাটাসকো) বা ‘স্থগিতাদেশ’ (স্টে অর্ডার) নিয়ে আসতে পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত টেকনিক্যালি লাইসেন্স ছা

লাইসেন্স বাতিল: আদ-দ্বীন হাসপাতাল কি নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে?

রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হচ্ছে। গোটা হাসপাতাল জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা ও চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে লাইসেন্স বাতিল করার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আপিল করতে পারবে বলে বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে আপিল করবে বলে জানিয়েছেন। তবে যতক্ষণ না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আপিল করে অধিদপ্তরের আদেশের ওপর কোনো ‘স্থিতাবস্থা’ (স্ট্যাটাসকো) বা ‘স্থগিতাদেশ’ (স্টে অর্ডার) নিয়ে আসতে পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত টেকনিক্যালি লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল চালানো বা নতুন রোগী ভর্তি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চিকিৎসাধীন রোগীদের মানবিক বিবেচনায় আপাতত চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।                                                                                                                     
গত ২৭ মে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এক বা দুদিন বয়সী এসব নবজাতক পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনা তদন্তে ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এলে গত ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রথমে ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পর সময়সীমা ৯ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে ৯ জুন আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে লিখিত জবাব ও ব্যাখ্যা দেয়, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১১ (২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow