লাল চাঁদকে মাথা থেঁতলে হত্যা: আদালতে যে বর্ণনা দিলেন ৩ প্রত্যক্ষদর্শী
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন প্রত্যক্ষদর্শী। তারা আদালতের কাছে ঘটনার আগের বিরোধ, সোহাগকে দোকান থেকে টেনে বের করে মারধর এবং মিটফোর্ড হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়ার বর্ণনা তুলে ধরেন। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীরা হলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাবুল এবং সোহাগের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘সোহানা মেটাল’-এর কর্মচারী মো. হাসান ও মো. ইসমাইল। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গোডাউনের তালা নিয়ে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সাক্ষী মো. ইসমাইল বলেন, হত্যাকাণ্ডের দুদিন আগে, গত বছরের ৭ জুলাই সন্ধ্যায় রজনী বোস লেনে সোহাগের গোডাউন তালাবদ্ধ করে দেন কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান মঈন ও সারোয়ার হোসেন টিটুসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন ছিলেন বলে তিনি জানান।
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন প্রত্যক্ষদর্শী। তারা আদালতের কাছে ঘটনার আগের বিরোধ, সোহাগকে দোকান থেকে টেনে বের করে মারধর এবং মিটফোর্ড হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়ার বর্ণনা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীরা হলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাবুল এবং সোহাগের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘সোহানা মেটাল’-এর কর্মচারী মো. হাসান ও মো. ইসমাইল।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গোডাউনের তালা নিয়ে
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সাক্ষী মো. ইসমাইল বলেন, হত্যাকাণ্ডের দুদিন আগে, গত বছরের ৭ জুলাই সন্ধ্যায় রজনী বোস লেনে সোহাগের গোডাউন তালাবদ্ধ করে দেন কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান মঈন ও সারোয়ার হোসেন টিটুসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন ছিলেন বলে তিনি জানান।
এরপর সোহাগ তার দোকানে আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে আপোস-মীমাংসার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে সাক্ষ্য দেন ইসমাইল।
তিনি বলেন, ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোহাগের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সোহানা মেটালে বসে ছিলেন তিনি। এসময় মঈন, টিটুসহ আরও কয়েকজন দোকানের সামনে আসেন।
ইসমাইলের ভাষ্য অনুযায়ী, গোডাউনের তালা কে ভেঙেছে—এ নিয়ে সোহাগকে প্রশ্ন করা হয়। সোহাগ নিজের গোডাউন হওয়ায় নিজেই তালা ভেঙেছেন বলে জানালে তাকে গালিগালাজ করা শুরু হয়।
‘কলার ধরে দোকান থেকে বের করে নিয়ে যায়’
সাক্ষী ইসমাইল আদালতকে বলেন, একপর্যায়ে সোহাগ উঠে দাঁড়ালে মাহমুদুল হাসান মঈন তার জামার কলার ধরে টেনে দোকান থেকে বের করে দেন। এরপর উপস্থিত অন্যরাও তাকে মারধর করতে শুরু করেন।
তার দাবি, মারধর করতে করতেই সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। একপর্যায়ে আসামিরা তাকেও ভয় দেখিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাবুল ও সোহাগের দোকানের আরেক কর্মচারী মো. হাসানও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা জানান। তারাও ঘটনার বিষয়ে প্রায় একই ধরনের বর্ণনা দেন।
বোল্ডার দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সোহাগের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাদের কয়েকজন একসময় তার ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন। ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সেসময় ধারণা করা হয়েছিল।
২১ আসামির বিরুদ্ধে চলছে বিচার
এর আগে গত ৩ আগস্ট এ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন নিহত সোহাগের বড় বোন এবং মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগম আদালতে সাক্ষ্য দেন।
গত ১২ জুলাই একই আদালত ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলায় বর্তমানে ১০ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। আটজন পলাতক ও তিনজন জামিনে আছেন।
আগামী ২৩ আগস্ট মামলাটিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
এমডিএএ/এমকেআর
What's Your Reaction?

