রাত ১০টার পর ঢাবির ছাত্রীদের ‘অপরাধ’ কী?
রাত ১০টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভোর ৬টা পর্যন্ত হলের বাইরে থাকা কোনো ছাত্রী চাইলেও হলে ঢুকতে পারেন না। আবার হলের ভেতরে থাকা কোনো শিক্ষার্থীর জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও তাকে পড়তে হয় প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ বিধিনিষেধকে ‘সান্ধ্য আইন’ হিসেবে অভিহিত করছেন আন্দোলনকারীরা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের হল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও ছাত্রীদের জন্য রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চলাচলে বিধিনিষেধ কেন- এ প্রশ্ন সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছেন ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা। ‘অবরোধবাসিনী’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে চলা আন্দোলনে এরই মধ্যে গ্রাফিতি, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ও সংহতি সমাবেশের মতো কর্মসূচি হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশের সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে বক্তব্য রাখছেন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অবস্থান কর
রাত ১০টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভোর ৬টা পর্যন্ত হলের বাইরে থাকা কোনো ছাত্রী চাইলেও হলে ঢুকতে পারেন না। আবার হলের ভেতরে থাকা কোনো শিক্ষার্থীর জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও তাকে পড়তে হয় প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায়।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ বিধিনিষেধকে ‘সান্ধ্য আইন’ হিসেবে অভিহিত করছেন আন্দোলনকারীরা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের হল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও ছাত্রীদের জন্য রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চলাচলে বিধিনিষেধ কেন- এ প্রশ্ন সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছেন ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা।
‘অবরোধবাসিনী’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে চলা আন্দোলনে এরই মধ্যে গ্রাফিতি, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ও সংহতি সমাবেশের মতো কর্মসূচি হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশের সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনে বক্তব্য রাখছেন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক
আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কেন ‘সান্ধ্য আইন’ নিয়ে এত প্রশ্ন?
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির প্রথমটি হলো- ছাত্রী হলের ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় দাবিতে বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের যে কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের যুক্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। শিক্ষার্থীদের চলাচল বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
‘অবরোধবাসিনী’র সংগঠক ও শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিলা রহমান প্রভা বলেন, টিউশন শেষ হতে দেরি হওয়া, যানজট, চিকিৎসার প্রয়োজন, একাডেমিক বা সাংগঠনিক কাজ কিংবা দূরপাল্লার যাত্রা শেষে রাতে ক্যাম্পাসে ফেরার কারণে শিক্ষার্থীদের দেরি হতে পারে। কিন্তু রাত ১০টার পর গেট বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়।
রোকেয়া হলের প্রধান ফটক
তার প্রশ্ন, মাঝরাতে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বের হওয়ার প্রয়োজন হলেও যদি প্রভোস্টের অনুমতি লাগে এবং সেই সময়ে প্রভোস্ট হলে না থাকেন, তাহলে জরুরি চিকিৎসা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নারীদের চলাচল সীমিত না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নিয়ম কেন?
এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো- একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন নিয়ম কেন?
সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস রুকু খাতুন বলেন, আগে ছাত্রী হলের গেট রাত ৮টায় বন্ধ করা হতো। পরে সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদের হলগুলোতে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তার প্রশ্ন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার পরও নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা নিয়ম কেন থাকবে? রুকু খাতুনের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের চলাচল বন্ধ করা নয়।
তিনি বলেন, তিন দফা দাবি নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
গেট বন্ধ থাকলে নিরাপদ কোথায়?
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকও মনে করেন, ২৪ ঘণ্টা হল খোলার সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো ছাত্রী উত্তরায় টিউশনি করান। পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত সময় পড়াতে গিয়ে তার ফিরতে দেরি হলো। তখন হলের গেট বন্ধ থাকলে তিনি কোথায় যাবেন?
শামসুন নাহার হলের গেট
আবার কোনো শিক্ষার্থীর আত্মীয় পুরান ঢাকায় থাকলে রাতে সেখানে গিয়ে থাকা কি ছাত্রী হলের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি নিরাপদ-এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, শিক্ষার্থীদের চলাচল বন্ধ না করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু গেট খোলা নয়, হয়রানি বন্ধের দাবিও
আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু রাতের বেলা গেট খুলে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। হলের গেটে শিক্ষার্থীদের অযথা জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও জার্নালিজম বিভাগের মাইশা মালিহা বলেন, বৈধ ‘লেট পারমিশন’ থাকার পরও অনেক সময় রাতে হলে ফিরলে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তারমতে, ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ নিয়েও প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করা প্রয়োজন।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক ইশরাত জাহান ইমু বলেন, ছাত্রীদের রাতের চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সাংবাদিকতা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডেও নারীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এটিকে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডাকসুর হেমা চাকমা: ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখার পক্ষেই আছি
চলমান আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা।
হেমা চাকমা বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সমান অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের শিকার করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীরা হয়রানি বা হলসংক্রান্ত সমস্যায় পড়লে তিনি তাদের পাশে থেকেছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
চলমান আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন বলেও জানান। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি মুক্ত জায়গা হওয়া উচিত যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করা আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের সহযোগিতায় যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করাই মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনের অবস্থান কী?
আন্দোলনকারীরা গত ৯ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপাচার্য তাদের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে শিগগির প্রভোস্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ নিয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা হবে এবং এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
রোকেয়া হলের প্রভোস্ট হোসনে আরা বেগম বলেন, দাবিগুলো অনেক। প্রভোস্টদের সভায় সবাই মিলে আলোচনা করে কোন কোন বিষয় রাখা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সভার আগে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, মিটিং হওয়ার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট নাসরিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও জানিয়েছেন, এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, হল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে কি না- এ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ নেবে। শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক কি না, তা পর্যালোচনা করার পর সিদ্ধান্ত হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রক্টর বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি তাদের সাধ্যমতো দায়িত্ব পালন করছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো গাফিলতি না করার চেষ্টা করছে।
অনাবাসিক ছাত্রীদের সমস্যাও বড়
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সমস্যা শুধু আবাসিক ছাত্রীদের রাতের গেট বন্ধ থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নারী শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধার বাইরে থাকেন। নিয়মিত হল ফি পরিশোধ করেও তাদের কেউ কেউ নিজ হলে প্রবেশ, বিশ্রাম, খাবার খাওয়া বা ক্যান্টিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া এক হলের ছাত্রী অন্য হলে যাওয়া কিংবা কোনো আবাসিক ছাত্রীর মা, বোন ও নারী স্বজনের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাই তাদের মতে, তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে শুধু রাতের গেট খোলার সমস্যাই নয়, নারী শিক্ষার্থীদের হলকেন্দ্রিক আরও কয়েকটি বৈষম্য কমবে।
আন্দোলনে বাড়ছে সংহতি
‘অবরোধবাসিনী’র আন্দোলনে এরই মধ্যে বিভিন্ন ছাত্র, নারী, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষক সংগঠন সংহতি জানিয়েছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর অ্যাসোসিয়েশন, রোকেয়া হল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি নিবেশ, শিক্ষক নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
১০ আগস্টের সংহতি সমাবেশে নারী মুক্তি সংগঠন, রেড ফেমিনিস্ট ব্লগ, নারীপক্ষ, নারী অঙ্গন, বিপ্লবী নারী মুক্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি জানান।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদীও শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশের কথা বলা হলেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বিধিনিষেধ এখনো থাকা দুঃখজনক। ক্যাম্পাসের বাইরে একজন নারী রাত ১১টা, ১২টা বা ১টার পর বাড়ি ফিরতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন ফিরতে পারবেন না—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
‘সান্ধ্য আইন’ শুধু গেটের বিষয় নয়
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের দাবি শুধু রাতের বেলা ছাত্রী হলের গেট খোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সমান অধিকার, স্বাধীন চলাচল, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন।
বিপ্লবী নারী মুক্তির তাসনিয়া নেবুলা সান্ধ্য আইনকে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, নারীদের চলাচল সীমিত করার পরিবর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের।
আন্দোলনের সাল উল্লেখ না করে নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগেও ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। তখন সন্ধ্যা ৬টার বিধিনিষেধ পরিবর্তন করে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়। তবে মূল বৈষম্য দূর হয়নি।
ফলে কয়েক দশক পর একই দাবি আবার সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে- শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা কি এবার বাস্তবায়িত হবে?
৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর কী?
১০ আগস্টের সমাবেশ থেকে ‘অবরোধবাসিনী’ জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তারা অবস্থান কর্মসূচিসহ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে এখন নজর প্রভোস্টদের বৈঠক ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা- এই আট ঘণ্টার বিধিনিষেধ ঘিরে প্রশ্ন একটাই: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করতেই হবে, নাকি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেই ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর দীর্ঘদিনের এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে, নাকি পরিবর্তনের পথে যাবে।
এমএএইচ/
What's Your Reaction?




