সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত টিকটকার লায়লা আখতার ফরহাদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় আরেক টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত মামলার বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। তবে এদিন তার জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন আদালত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। শুনানিকালে মামুন ও লায়লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
- আরও পড়ুন:
- বিয়ে না করে আড়াই বছর একসঙ্গে ছিলেন লায়লা-মামুন
ভোতা অস্ত্র দিয়ে লায়লাকে জখম করেন প্রিন্স মামুন
টিকটকার প্রিন্স মামুনের পক্ষে তসলিমা নাসরিন
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় লায়লার। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে লায়লার বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়। তখন থেকে প্রিন্স মামুন লায়লার বারিধারা ডিওএইচএসের বাসায় বসবাস করতে থাকেন। এরপর থেকে প্রিন্স মামুন বিভিন্ন অজুহাতে লায়লার কাছ থেকে টাকা নিতেন। প্রায় সময় মাদকসেবন করে গভীর রাতে বাসায় আসতেন। অশ্লীল ভাষায় কথা বলতেন। এমনকি মাঝে মধ্যে লায়লাকে মারপিট করতেন। বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি আদায়ের পাঁয়তারা করতেন মামুন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর উত্তরায় একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে বাসায় ফেরেন তারা। এ সময় মামুনসহ আরও দুজন মদপানের জন্য মিরপুরে যাওয়ার পরামর্শ করেন। লায়লা তাকে নিষেধ করেন এবং বাধা দেন। এতে মামুন উত্তেজিত হয়ে লায়লাকে গালি দেন। গালি দিতে নিষেধ করলে মামুন লায়লাকে মারধর করেন ও হত্যার চেষ্টা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। পরে ওই বছরের ৩ জুন চার্জশিট আমলে গ্রহণ করেন আদালত। এছাড়াও একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আরকটি মামলা করেন লায়লা।মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ বিচারাধীন।
এমআইএন/এসএনআর/জেআইএম