শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীর জন্য ইফতার আয়োজন করল ওশান প্যারাডাইস
কক্সবাজারের একাধিক প্রতিষ্ঠানের শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীকে অভিজাত ইফতারের স্বাদ আস্বাদন করালো দরিয়াপারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেড (হোটেল এন্ড রিসোর্ট) কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হোটেলের শাহসুজা হল রুমে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে সুবিধাবঞ্চিত এতিম শতাধিক শিশু-কিশোর কোরআন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতিম অতিথিদের দেখভাল করেন হোটেলের পরিচালক আবদুল কাদের মিশুসহ কর্মকর্তাগণ। এতিম শিশুদের ইফতার পার্টি নিয়ে আবদুল কাদের মিশু বলেন, সেবা-সংযম ও বৈষম্যহীনতার শিক্ষা দেয় পবিত্র রমজান। রোজার শেষভাগে সিংহভাগ মাদ্রাসা, এতিম ও হেফজখানাতে এক করুণ দৃশ্য দেখা যায়। অনেক এতিম শিশু বাবা-মা না থাকায় প্রতিষ্ঠানেই থেকে যায়- নিরবে কান্দে। বুদ্ধি বিকাশের পর থেকেই এসব দেখেছি- আরো দেখেছি- আমার বাবা-মা এতিমদের খোঁজ নিতেন। দানশীলদের সহযোগিতায় এতিমখানায় কমবেশি স্বাভাবিক ইফতার খাওয়া হয়। কিন্তু দামি হোটেলগুলোতে এতিমদের যাবার বা খাবারের সুযোগ হয় না। আমরা সারাবছর পর্যটন সেবী। রোজায় পর্যটক কম থাকার সুযোগে আশপাশের হেফজ ও এতিমখানার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের পর্যটকদের মতোই কর্পোরেট ইফতারের অতিথি করে আসছে ওশান প্যারাডাইস
কক্সবাজারের একাধিক প্রতিষ্ঠানের শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীকে অভিজাত ইফতারের স্বাদ আস্বাদন করালো দরিয়াপারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেড (হোটেল এন্ড রিসোর্ট) কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হোটেলের শাহসুজা হল রুমে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে সুবিধাবঞ্চিত এতিম শতাধিক শিশু-কিশোর কোরআন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতিম অতিথিদের দেখভাল করেন হোটেলের পরিচালক আবদুল কাদের মিশুসহ কর্মকর্তাগণ।
এতিম শিশুদের ইফতার পার্টি নিয়ে আবদুল কাদের মিশু বলেন, সেবা-সংযম ও বৈষম্যহীনতার শিক্ষা দেয় পবিত্র রমজান। রোজার শেষভাগে সিংহভাগ মাদ্রাসা, এতিম ও হেফজখানাতে এক করুণ দৃশ্য দেখা যায়। অনেক এতিম শিশু বাবা-মা না থাকায় প্রতিষ্ঠানেই থেকে যায়- নিরবে কান্দে।
বুদ্ধি বিকাশের পর থেকেই এসব দেখেছি- আরো দেখেছি- আমার বাবা-মা এতিমদের খোঁজ নিতেন। দানশীলদের সহযোগিতায় এতিমখানায় কমবেশি স্বাভাবিক ইফতার খাওয়া হয়। কিন্তু দামি হোটেলগুলোতে এতিমদের যাবার বা খাবারের সুযোগ হয় না। আমরা সারাবছর পর্যটন সেবী। রোজায় পর্যটক কম থাকার সুযোগে আশপাশের হেফজ ও এতিমখানার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের পর্যটকদের মতোই কর্পোরেট ইফতারের অতিথি করে আসছে ওশান প্যারাডাইস কর্তৃপক্ষ। মনের সেটিসপেকশনের জন্য হোটেলের চেয়ারম্যান এম. এন করিমের নির্দেশে দীর্ঘ একযুগ ধরে এ ধারা নিরবে চলে আসছে।
আদর্শগ্রাম এলাকার এতিমখানার পরিচালক মাওলানা ইরফান উল্লাহ বলেন, ঈদের ছুটিতে একদল বাচ্চাকে কেউ নিতে আসে না। এদের কারো বাবা-মা নেই। কারো বাবা নেই- মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। অনেকের মা নেই, বাবা বাচ্চার খোঁজ রাখে না। এদের মাঝে যারা ভাগ্যবান তাদের অন্য স্বজনরা এসে নিয়ে যায়। আর বাকীরা সারাদিন নিরবে কাঁন্দে। প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে কোলাহলে তারা শূণ্যতা অনুভব করতে পারে না। কিন্তু সহপাঠীরা যখন স্বজনদের সাথে বাসায় যায়, আর তাদের কেউ নিতে আসে না- তখনই তাদের ছোট্ট মনে 'এতিমতার' বেদনা শুরু হয়।
হোটেলের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক মো. মাহবুব ইসলাম বলেন, শুধু ইফতার নয়, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতেও শতাধিক এতিম শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী হোটেলে অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রণ পায়। বিরিয়ানি-পুলাওসহ নানা অভিজাত খাবারের স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয় এতিম শিশু-কিশোরদের। সবার এটা মনে রাখা দরকার, আজ আপনি বেঁচে না থাকলে কাল, আপনার ছোট সন্তান এতিম হিসেবেই গণ্য!
আয়োজনের খুদে অতিথিরা জানায়, চলে যাওয়া রমজানে চনা-মুরি-শরবত খেয়ে ইফতার সেরেছে। তাদের জন্যে জমকালো আয়োজনে বিফ হালিম, জিলাপি, খেজুর, আনারস, তরমুজ, আঙ্গুর, মুরগির কাবাব, পেপের জুস, চনা, পিয়াজু, মরিচ্চা, বেগুনিসহ নানা পদের ইফতার। মাগরিব নামাজের পর বিফ তেহেরি, কোল্ড ড্রিংক ও সালাদ খেয়েছি। কোরবানির ঈদেও আমরা এখানে গরুর মেজবান খেতে আসি। ওনারা আমাদের মতো এতিমদের মূল্যায়ন করে আসছেন, আল্লাহপাক ওনাদেরও সেভাবে প্রতিদান দিবেন-ইন শা আল্লাহ।
ইফতার পার্টিতে হিসাব বিভাগ প্রধান মোহাম্মদ আলমগীর, বিপনন বিভাগের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সুমেল, প্রকৌশলী আরাফাত, হাউস কিপিং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হোসাইন, ফুডস এন্ড বেভারেজের সহব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম, সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. জালাল উদ্দিন, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিক সায়ীদ আলমগীর, আইটি বিভাগের কর্মকর্তা জিসানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মজীবিগণ শিশু-কিশোর অতিথিদের সেবা দেন।
What's Your Reaction?