শনির বলয় থেকে বৃহস্পতির ঝড়, সৌরজগতের বিস্ময়কর রহস্য

  শনির বলয় পৃথিবী সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায় আরেকটি আশ্চর্যের নাম জুপিটার গ্রেট রেড স্পট ৫০০ বছর পরে সূর্য শুধু একটা সাদা তারা থাকবে অলিম্পাস মনস আছে মঙ্গল গ্রহে পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের আর কোথাও এত তরল পানি নেই সৌরজগতে গ্রহ আছে ৮ টি শনির বলয় শনির বলয়কে শনির ক্রাউন বলা হয়। শনির বিস্তৃত রিং সিস্টেম ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবতার কল্পনা ধারণ করেছে। এই বলয় কী দিয়ে তৈরি? শত কোটি বরফ আর পাথরের কণা দিয়ে তৈরি এই বলয়। এই বলয়ের রহস্যভেদ করা খুব সহজ নয়। ক্যাসিনি স্পেস প্রোব শনির বলয় আর গ্রহের মাঝের ফাঁকা স্থানে গিয়েছিল। শনির আয়তনের ৭ হাজার গুণ বড় এই বলয়। কিন্তু এই বলয়ের পাশের স্তর খুব পাতলা। পৃথিবী, সূর্য আর চাঁদের ঘূর্ণন। পৃথিবী সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায় পৃথিবী সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ, যেখানে সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায়। চাঁদ পৃথিবী থেকে ৪০০ গুণ কাছে সূর্যের তুলনায়। চাঁদের ব্যাস সূর্যের তুলনায় ৪০০ গুণ ছোট। গ্রহাণু বেল্ট আরেকটি আশ্চর্য। জুপিটার বা বৃহস্পতি আর মার্স বা মঙ্গলের মাঝে আছে গ্রহাণু বেল্ট। এই বেল্টে লাখ লাখ কোটি কোটি গ্রহাণু আছে। অন্তত ৭ হাজার গ্রহাণু আছে এই বেল্টে। এই বেল্

শনির বলয় থেকে বৃহস্পতির ঝড়, সৌরজগতের বিস্ময়কর রহস্য

 

  • শনির বলয়
  • পৃথিবী সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায়
  • আরেকটি আশ্চর্যের নাম জুপিটার গ্রেট রেড স্পট
  • ৫০০ বছর পরে সূর্য শুধু একটা সাদা তারা থাকবে
  • অলিম্পাস মনস আছে মঙ্গল গ্রহে
  • পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের আর কোথাও এত তরল পানি নেই
  • সৌরজগতে গ্রহ আছে ৮ টি

শনির বলয়

শনির বলয়কে শনির ক্রাউন বলা হয়। শনির বিস্তৃত রিং সিস্টেম ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবতার কল্পনা ধারণ করেছে। এই বলয় কী দিয়ে তৈরি? শত কোটি বরফ আর পাথরের কণা দিয়ে তৈরি এই বলয়। এই বলয়ের রহস্যভেদ করা খুব সহজ নয়। ক্যাসিনি স্পেস প্রোব শনির বলয় আর গ্রহের মাঝের ফাঁকা স্থানে গিয়েছিল। শনির আয়তনের ৭ হাজার গুণ বড় এই বলয়। কিন্তু এই বলয়ের পাশের স্তর খুব পাতলা। পৃথিবী, সূর্য আর চাঁদের ঘূর্ণন।

পৃথিবী সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায়

পৃথিবী সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ, যেখানে সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায়। চাঁদ পৃথিবী থেকে ৪০০ গুণ কাছে সূর্যের তুলনায়। চাঁদের ব্যাস সূর্যের তুলনায় ৪০০ গুণ ছোট। গ্রহাণু বেল্ট আরেকটি আশ্চর্য। জুপিটার বা বৃহস্পতি আর মার্স বা মঙ্গলের মাঝে আছে গ্রহাণু বেল্ট। এই বেল্টে লাখ লাখ কোটি কোটি গ্রহাণু আছে। অন্তত ৭ হাজার গ্রহাণু আছে এই বেল্টে। এই বেল্ট ১৫ কোটি কিলোমিটারজুড়ে প্রসারিত। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বও অনেকটা একই।

আরেকটি আশ্চর্যের নাম জুপিটার গ্রেট রেড স্পট

জুপিটার গ্রেট রেড স্পট একটি সাইক্লোন, যেটি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় ঝড়, চলছে ৩০০ বছর ধরে। এই ঝড় এত বড় যে অন্তত ৩ টি পৃথিবী এই গ্রেট রেড স্পটে রাখা যাবে। নাসার জুনো স্পেসক্রাফট সাম্প্রতিক সময়ে এই ঝড়ের গতিবেগ বের করেছে। ঘণ্টায় এই ঝড়ের গতিবেগ ৬৮০ কিলোমিটার। ২০১২ সাল থেকে এই গ্রেট রেড স্পটের আয়তন কমছে। বছরে ৯০০ কিলোমিটার করে কমছে এই ঝড়ের আকার।

jagonews

সূর্য ৫০০ কোটি বছর পুরোনো

সূর্য, পৃথিবী কিংবা পৃথিবীতে জীববৈচিত্রের পেছনের কারণ, মহাজাগতিক এই বস্তু সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আশ্চর্য। সৌরজগতের মোট ভরের ৯৯.৯৬ শতাংশই সূর্য বহন করে। পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রেখেছে এই সূর্য। সূর্য ৫০০ কোটি বছর পুরোনো। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যেতে সূর্যের সময় লাগবে ২৫ কোটি বছর। সূর্য এরইমধ্যে নিজের জীবনের অর্ধেক সময় পার করে ফেলেছে। আরও ৫০০ বছর পরে সূর্য শুধু একটা সাদা তারা থাকবে। এর আগে রেড জায়ান্টে পরিণত হবে এই সূর্য। মারকিউরি আর ভেনাসকে গ্রাস করে ফেলবে সূর্য।

অলিম্পাস মনস আছে মঙ্গল গ্রহে

অলিম্পাস মনস সৌরজগতের বিশাল আগ্নেয়গিরির একটি। অলিম্পাস মনস আছে মঙ্গল গ্রহে। মনস সৌরজগতের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরির একটি। এই আগ্নেয়গিরি থেকে যেন পর্বত তৈরি হয়েছে সেটি ২১ কিলোমিটার লম্বা। যা মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি বড়। ৩ লাখ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই আগ্নেয়গিরি। এর আয়তন ইতালির চেয়েও বড়।

পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের আর কোথাও এত তরল পানি নেই

পৃথিবীর সমুদ্রগুলো সৌরজগতের আরেকটি আশ্চর্য, আমাদের সর্বোচ্চ সম্পদ। সমুদ্রগুলো পৃথিবীর স্থলভাগের ৭০ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত। সৌরজগতের আর কোথাও এত তরল পানি নেই। শুধু পানি না, পানির নিচে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র‍্যও আশ্চর্যের বিষয়। 

সৌরজগতে গ্রহ আছে ৮ টি

ছোট গ্রহ আছে আরও ৫টি। এরমধ্যে বুধ (মারকিউরি), শুক্র (ভেনাস), পৃথিবী ও মঙ্গল (মার্স) তুলনামূলক ছোট, স্থলভাব পৃথিবীর মতো পাথরে ঢাকা। এর বাইরে বৃহস্পতি (জুপিটার) আর শনি (স্যাটার্ন) গ্যাস দিয়ে পরিপূর্ণ। সূর্য থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে থাকায় ইউরেনাস আর নেপচুনকে আইস জায়ান্ট বা বরফের গ্রহ বলা চলে। প্লুটোকে এখন আর গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে পৃথিবীর মতোই সমগ্র সৌরজগতেও অনেক আশ্চর্য জিনিস ছড়িয়ে আছে। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০ বছর আগে পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্যকে নির্বাচিত করেছিলেন আন্টিপেটার অব সিডন। মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের অসংখ্য আশ্চর্য থেকে ভেবেচিন্তে সাতটি আশ্চর্যকে চিহ্নিত করেছেন।

jagonews

চলুন জানা যাক সৌরজগতের ৭টি আশ্চর্যের কথা-

১. সোলার ফ্লেয়ার

সূর্যের উপরিভাগে মাঝে মাঝে প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে তখন মহাকাশের লাখ লাখ মাইল এলাকাজুড়ে বিশাল আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এই শিখার তাপমাত্রা লক্ষ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। এই শিখা মূলত চার্জযুক্ত ইলেকট্রন, প্রোটন কণিকার স্রোত যা আলোর বেগে ছুটে চলে। এছাড়া এর মধ্যে থাকে প্রচন্ড শক্তিশালী বিভিন্ন রশ্মি। সৌরজগতের এই আশ্চর্য হলো সোলার ফ্লেয়ার বা সৌরঝলক। সূর্যের এই চার্জযুক্ত কণিকাগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের আয়নোস্ফিয়ারের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়। তখন হঠাৎ করে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীব্যাপী রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এছাড়াও রাডার যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

২. অলিম্পাস মনস

অলিম্পাস মনস হলো মঙ্গলের উচ্চতম পাহাড়। এটা সৌরজগতেরও সর্ববৃহৎ পাহাড়, যার উচ্চতা প্রায় ১৫ মাইল। যা কি না পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট থেকেও তিন গুণ উঁচু! এটা সৌরজগতের দ্বিতীয় আশ্চর্য। সর্ববৃহৎ গভীর গিরিখাতটিও এই গ্রহে যার নাম ভ্যালিস মেরিনারিস।

৩. মঙ্গলে দুইবার সূর্যোদয়

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য যে মঙ্গলগ্রহে দুইবার সূর্যোদয় ঘটে। আর এটিই সৌরজগতের তৃতীয় আশ্চর্য! অবশ্য এটি রোজ হয় না। দুইবার সূর্যোদয় সৌরজগতের আর কোনো গ্রহে হয় না।

৪. শনির বলয়

সৌরজগতের সবচেয়ে সুন্দর গ্রহ হলো শনি, এর কারণ গ্রহটিকে ঘিরে একটি বলয় আছে যার কারণে শনি এত সুন্দর। খালি চোখে এই বলয়টি দেখা যায় না, যার কারণে অনেক আগের জ্যোতির্বিদরা শনিকে চিনলেও এর বলয়টির কথা জনতেন না। এই বলয়টি প্রথম ধরা পড়ে বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিওর দূরবীনে। সৌরজগতের চতুর্থ আশ্চর্য শনি গ্রহকে কেন্দ্র করে। আর এটি হচ্ছে শনির ট্রেডমার্ক ‘শনির বলয়’। এই বলয়ের সবচেয়ে অবাক দিক হলো এটিকে যেদিক থেকে দেখা যাক না কেন, এ বলয়ের সৌন্দর্য অনন্য ও অসাধারণ দেখা যায়।

jagonews

৫. টাইটানের প্রাকৃতিক বৈচিত্র‍্য

টাইটানের প্রাকৃতিক বৈচিত্র‍্য ও ঋতু পরিবর্তন। সৌরজগতের অধিকাংশ উপগ্রহ খানাখন্দে ভরা এবং রুক্ষ। বাতাসের অস্তিত্ব নেই। টাইটানের নীলাকাশে মরচে রঙের মেঘ উড়ে বেড়ায়। মিথেনের নরম কাদায় ভাসে অ্যামোনিয়া বরফ। শনির এই উপগ্রহকে বলা হয় মহাকাশের মরূদ্যান। পৃথিবীর মতো ভারি এর আবহাওয়া।

৬. মঙ্গলের ম্যারিনাল ভ্যালি

মঙ্গলগ্রহের ম্যারিনাল ভ্যালি সৌরজগতের ষষ্ঠ আশ্চর্য। আমেরিকার গ্র‍্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়ে লম্বা চওড়ায় বহু গুণ বড়। এখানে আছে অসংখ্য গিরিখাত যেগুলো দেখলে মনে হয় অতীতে এখানে নদী ছিল। কয়েকটি গিরিখাত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার লম্বা। অনেক স্থানে এর গভীরতা প্রায় ৭০০ মিটার যা গ্রান্ড ক্যানিয়নের প্রায় ৪ গুণ। এ গ্রহে একটি গোলাকার খাদও আছে, যার নাম পাভোনিস মনস।

৭. বৃহস্পতির লাল টিপ

সৌরজগতের সপ্তম আশ্চর্য হলো বৃহস্পতির লাল টিপ। এ গ্রহের দক্ষিণ গোলার্ধে যে দীর্ঘস্থায়ী ঝড় হয়, সেই ঝড়োবাতাসে ধুলোর মতো উড়ে বেড়ায় কমলা-লাল রঙের অনেক হাইড্রোকার্বনের গুঁড়া। বহু দূর থেকে দেখলে লাল টিপ বলে মনে হয়। এই টিপ লম্বায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার এবং চওড়ায় প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow