শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকলে নামাজ হবে কি?

প্রশ্ন: ট্যাটু আঁকার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকলে কি নামাজ হবে? উত্তর: শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা ইসলামে হারাম। রাসুল (সা.) শরীরে ট্যাটু আঁকতে নিষেধ করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ ওইসব নারীকে লানত করেছেন, যারা উল্কি অঙ্কন করে বা করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রূ উপড়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে; এরা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৪৮৮৬) ট্যাটু যদি শরীরের চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছার জন্য প্রতিবন্ধক হয়, তাহলে ট্যাটু থাকা অবস্থায় ওজু-গোসল শুদ্ধ হবে না। ফলে এই অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজও হবে না। তাই এ রকম ট্যটু শরীরে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তুলে ফেলতে হবে। যদি ট্যটু তুলে ফেলা সময়সাপেক্ষ, অসম্ভব বা দুঃসাধ্য হয়, ট্যাটু তুলে ফেলার খরচ বহন করার ক্ষমতা ওই ব্যক্তির না থাকে, তাহলে ট্যাটু তুলে ফেলার চেষ্টা করার পাশাপাশি ট্যাটু থাকা অবস্থায়ই নামাজও পড়তে হবে। উল্লেখ্য, ইসলাম নারী-পুরুষের স্বাভাবিক রূপচর্চা অনুমোদন করে। স্বাভাবিকভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়ার চেষ্টা করা, সুন্দর পোশাক-আশাক পরা জায়েজ তো বটেই, উত্তম কাজ বিবেচিত হয়। নামাজের সময় পরিপাটি হওয়ার ও

শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকলে নামাজ হবে কি?

প্রশ্ন: ট্যাটু আঁকার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকলে কি নামাজ হবে?

উত্তর: শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা ইসলামে হারাম। রাসুল (সা.) শরীরে ট্যাটু আঁকতে নিষেধ করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ ওইসব নারীকে লানত করেছেন, যারা উল্কি অঙ্কন করে বা করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রূ উপড়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে; এরা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৪৮৮৬)

ট্যাটু যদি শরীরের চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছার জন্য প্রতিবন্ধক হয়, তাহলে ট্যাটু থাকা অবস্থায় ওজু-গোসল শুদ্ধ হবে না। ফলে এই অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজও হবে না।

তাই এ রকম ট্যটু শরীরে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তুলে ফেলতে হবে। যদি ট্যটু তুলে ফেলা সময়সাপেক্ষ, অসম্ভব বা দুঃসাধ্য হয়, ট্যাটু তুলে ফেলার খরচ বহন করার ক্ষমতা ওই ব্যক্তির না থাকে, তাহলে ট্যাটু তুলে ফেলার চেষ্টা করার পাশাপাশি ট্যাটু থাকা অবস্থায়ই নামাজও পড়তে হবে।

উল্লেখ্য, ইসলাম নারী-পুরুষের স্বাভাবিক রূপচর্চা অনুমোদন করে। স্বাভাবিকভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়ার চেষ্টা করা, সুন্দর পোশাক-আশাক পরা জায়েজ তো বটেই, উত্তম কাজ বিবেচিত হয়। নামাজের সময় পরিপাটি হওয়ার ও সুন্দর পোশাক-আশাক পরার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা গ্রহণ কর, আর খাও এবং পান কর। তবে অপব্যয় করবেনা, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালবাসেননা। (সুরা আ’রাফ: ৩১)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার অন্তরে এক বিন্দু অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসুল! সবাই তো এটা পছন্দ করে যে, তার পোশাক ভালো হোক, জুতো জোড়া ভালো হোক, এসব কি অহংকারের মধ্যে পড়ে? রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তাআলা নিজেও সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দও করেন। আর অহংকার হলো হককে বাতিল করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা। (সহিহ মুসলিম: ১৪৭)

কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টি করা স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা করা যেমন দাঁত কেটে সরু করা, ভ্রু তুলে ফেলা, শরীরে উল্কি বা ট্যাটু আঁকা ইত্যাদি ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow