শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি

সরকারি হিসেবে দেশে মূল্যস্ফীতির উত্তাপ কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। যা জুনে ছিল ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৪৬। জুলাইয়ে শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি ছিল।  মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জুলাইয়ের ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।  সিপিআইয়ের তথ্যানুসারে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো বেশি। মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যে পণ্য বা সেবা কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হতো, চলতি বছরের জুলাইতে সেই একই পণ্য কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৩২ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে একই পণ্য কিনতে খরচ বেড়েছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা। সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। সিপিআই সূচক অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শ

শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি

সরকারি হিসেবে দেশে মূল্যস্ফীতির উত্তাপ কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। যা জুনে ছিল ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৪৬। জুলাইয়ে শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি ছিল। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জুলাইয়ের ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। 

সিপিআইয়ের তথ্যানুসারে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো বেশি।
মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যে পণ্য বা সেবা কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হতো, চলতি বছরের জুলাইতে সেই একই পণ্য কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৩২ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে একই পণ্য কিনতে খরচ বেড়েছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। সিপিআই সূচক অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে। জুনে যা ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। 

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো বেশি। জুলাইয়ে এ খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অর্থাৎ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের বড় একটি অংশজুড়ে এখনো ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে। খাবারের বাইরে পোশাক, পরিবহন, শিক্ষা, বাসস্থান, যোগাযোগ, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে এই চাপ ছড়িয়ে আছে। জুলাইয়ে পোশাক ও জুতায় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পরিবহন খাতে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং শিক্ষায় ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। 

আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাতে। জুলাইয়ে এ খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বিবিধ পণ্য ও সেবায় মূল্যস্ফীতি আরও বেশি ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

জুলাই মাসে শহরের তুলনায় জুলাইয়ে গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি ছিল। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শহরে এ হার ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামীণ মানুষের জন্য খাবারের বাইরে অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়ার চাপ তুলনামূলক বেশি।

শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। শহরেও অবশ্য কয়েকটি খাতে মূল্যস্ফীতি জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাতে শহুরে মূল্যস্ফীতি ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং শিক্ষায় ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

দেশের বিভিন্ন বিভাগে মূল্যস্ফীতির চিত্রও এক নয়। জুলাইয়ে ঢাকা বিভাগে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। চট্টগ্রামে ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খুলনায় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। রংপুরে ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং বরিশালে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সিলেটে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ০২ শতাংশ। এর মধ্যে খুলনা ও রংপুরে মূল্যস্ফীতির হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি। বিপরীতে সিলেট ও চট্টগ্রামে জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে।

এদিকে, মাসের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে চাপ এখনও অব্যাহত রয়েছে। আগস্ট ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬—এই ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর আগের ১২ মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গড় মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের বেশি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow