শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

পটুয়াখালীতে শাশুড়ি ও মেয়ে জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক ও অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় স্বর্ণা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি মুনজুমা বেগম, ননদ জামাই সৌরভসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বর্ণার স্বামী রাকিবকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের সি-কেওয়াবুনিয়া বাজারে মানববন্ধন করেন নিহত গৃহবধূ স্বর্ণার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শাশুড়ি মুনজুমার মেয়ে মারুফা প্রবাসে থাকার সুযোগে মেয়ে জামাই ও শাশুড়ির মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জেনে ফেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্বর্ণা। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, এ পরিবারটা খুবই অসহায়। তবে ওরা অত্যন্ত ভদ্র একটা পরিবার। মেয়েটা অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন। নিহত স্বর্ণার বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার কবর স্থানের পাশে মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছেন তার মা। স্

শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

পটুয়াখালীতে শাশুড়ি ও মেয়ে জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক ও অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় স্বর্ণা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি মুনজুমা বেগম, ননদ জামাই সৌরভসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বর্ণার স্বামী রাকিবকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের সি-কেওয়াবুনিয়া বাজারে মানববন্ধন করেন নিহত গৃহবধূ স্বর্ণার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শাশুড়ি মুনজুমার মেয়ে মারুফা প্রবাসে থাকার সুযোগে মেয়ে জামাই ও শাশুড়ির মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জেনে ফেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্বর্ণা। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, এ পরিবারটা খুবই অসহায়। তবে ওরা অত্যন্ত ভদ্র একটা পরিবার। মেয়েটা অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন।

নিহত স্বর্ণার বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার কবর স্থানের পাশে মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছেন তার মা।

স্বর্ণার মা রিনা বেগম কান্না বিজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমি ওই বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। তখন স্বর্ণা আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে বলে, মা এখানে আমার ভালো লাগে না। আমারে ১০ হাজার টাকা দিবা? আমি তোমার জামাইরে নিয়ে ঢাকা যাব। কারণ জানতে চাইলে স্বর্ণা বলে, মা তোমার কাছে বলতে আমার লজ্জা লাগে তবুও বলছি। আমার শাশুড়ি আর আমার ননদের জামাই অবৈধ সম্পর্ক করে, আমি দুই-তিন দিন দেখছি। এ কথা বলার সময় তার শাশুড়ি তা শুনে ফেলে। পরের দিন তার শাশুড়ি আমাকে জোর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পরই শুনি আমার মেয়ে নাকি গলায় ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আশপাশের লোকজন বলছে, তারা কেউ ওরে গলায় ফাঁস পরা অবস্থায় দেখে নাই। আমার মেয়েটারে শাশুড়ি ও তার মেয়ের জামাই মারছে। আমার এতো আদরের মেয়েটা এভাবে চলে গেল। প্রশাসনের কাছে আমি এর বিচার চাই।

স্বর্ণার বাবা কাঠমিস্ত্রি কামাল হাওলাদার কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি লোকজনের কাছে হাত পেতে টাকা তুলে মেয়েটারে বিয়ে দিয়েছিলাম। কে জানত এমন করে ওরা আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলবে। আমার অনেক কষ্টের মেয়ে। ওরে সবসময় পর্দায় রাখছি, ওরা এভাবে মেরে ফেলল, মানতে পারি না। ঘাতকদের বিচার চাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১০ জুন) স্বামীর বাড়ি পশুরীবুনিয়া এলাকা থেকে গুরুতর অবস্থায় স্বর্ণাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। ঘটনার পর স্বর্ণার স্বামীকে আটক করা হলেও অভিযুক্ত শাশুড়ি মুনজুমা ও ননদ জামাই সৌরভ পলাতক রয়েছেন। স্বর্ণার শ্বশুর খালেক মিরা পূর্ব থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাশুড়ি ও ননদ জামাইয়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে শ্বশুর খালেক মিরার মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তারের পরে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow