শাসকের চেহারা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি : মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে ’২৪-এর ৫ আগস্ট নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করতে শুরু করেছিল। জুলাই বিপ্লবের পর আবার ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও গুন্ডামি থামেনি। সাধারণ ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষ ও ফুটপাতের হকাররা চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পায়নি। শাসকের চেহারা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি। আবার নতুন করে হেলমেট বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা দেশের মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তালদিঘি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে প্রায় ২১৪ বছরের সংগ্রাম রয়েছে। এ দেশের মানুষ প্রায় ১৯০ বছর ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে

শাসকের চেহারা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি : মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে ’২৪-এর ৫ আগস্ট নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করতে শুরু করেছিল। জুলাই বিপ্লবের পর আবার ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও গুন্ডামি থামেনি। সাধারণ ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষ ও ফুটপাতের হকাররা চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পায়নি। শাসকের চেহারা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি। আবার নতুন করে হেলমেট বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা দেশের মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তালদিঘি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে প্রায় ২১৪ বছরের সংগ্রাম রয়েছে। এ দেশের মানুষ প্রায় ১৯০ বছর ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এরপর কলকাতার দাদাবাবু ও হিন্দু জমিদারদের বৈষম্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। পরে পাকিস্তানের খান-পাঠান শাসকদের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এ দেশের মানুষ। এই ৩টি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই লাল-সবুজের পতাকা অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ’৭১ পর থেকে সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যখন শাসকগোষ্ঠী নির্মম পরিহাস শুরু করল, তখন বাংলার দামাল সন্তানরা জেগে উঠল। কোটি কোটি ছাত্র-জনতা স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্লোগান তোলে। এর জবাবে গর্জে ওঠে জালিমের বুলেট। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় রাজপথ রঞ্জিত হয় শহিদের রক্তে। দেড় হাজারের বেশি মায়ের বুক খালি হয় এবং ৩০ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধা আহত হন। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ ভেবেছিল, এ দেশের দুঃখ-কষ্টের অবসান হবে। আগে ছিল বিদেশি শাসক, যারা বৈষম্য ও জুলুম করত। স্বাধীনতার পর মানুষ আশা করেছিল, এখন দেশের মানুষই দেশ শাসন করবে, আর কোনো জুলুম বা বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরে শাসকের পরিবর্তন হলেও শাসনের পরিবর্তন হয়নি। বিদেশি শাসকের জায়গায় এসেছে দেশীয় শাসক, কিন্তু জুলুম ও বৈষম্য রয়ে গেছে। মামুনুল হক বলেন, ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে দেশের ১১টি রাজনৈতিক দল হাত মিলিয়েছে। আমরা শপথ করেছি। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম থেকে পিছপা হব না। এই ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow