শাহজালালের ওরস নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নতুন বার্তা

হজরত শাহজালাল (র.) এর ওরস নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে মাজারে গিলাফ না ছড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি। তার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শাহজালাল (র.) মাজারের ভক্ত, অনুরাগী ও সিলেটের সচেতন মহল। ভক্তরা বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে গরুসহ অন্যান্য উপহার পাঠিয়েছেন সেখানে পুলিশ কমিশনার ওরসে অনুষ্ঠান করতে নিরুৎসাহিত করছেন। ৭০০ বছরের ইতিহাসে মাজারে ওরসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সেখানে কমিশনার ভুয়া যুক্তি দিচ্ছেন। হজরত শাহজালালের (র.) এর ৭০৭তম ওরস নিবিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত সোমবার (৪ মে) মাজার এলাকা পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। এ সময় তিনি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। ওরসের নামে মাজার এলাকায় সব ধরনের ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পুলিশ কমিশনার বলেন, মাজারে ওরস উপলক্ষে গিলাফ ছড়ানো হয়। সেই গিলাফ আসে নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে। এসময় ঢোলসহ বিভিন্ন ধরনের বাধ্যযন্ত্র বাজানো হয়

শাহজালালের ওরস নিয়ে পুলিশ কমিশনারের নতুন বার্তা

হজরত শাহজালাল (র.) এর ওরস নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে মাজারে গিলাফ না ছড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি। তার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শাহজালাল (র.) মাজারের ভক্ত, অনুরাগী ও সিলেটের সচেতন মহল।

ভক্তরা বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে গরুসহ অন্যান্য উপহার পাঠিয়েছেন সেখানে পুলিশ কমিশনার ওরসে অনুষ্ঠান করতে নিরুৎসাহিত করছেন। ৭০০ বছরের ইতিহাসে মাজারে ওরসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সেখানে কমিশনার ভুয়া যুক্তি দিচ্ছেন।

হজরত শাহজালালের (র.) এর ৭০৭তম ওরস নিবিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত সোমবার (৪ মে) মাজার এলাকা পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। এ সময় তিনি বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। ওরসের নামে মাজার এলাকায় সব ধরনের ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, মাজারে ওরস উপলক্ষে গিলাফ ছড়ানো হয়। সেই গিলাফ আসে নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে। এসময় ঢোলসহ বিভিন্ন ধরনের বাধ্যযন্ত্র বাজানো হয়। ভক্তরা নেচে গেয়ে গিলাফ নিয়ে আসেন। শেষ হয় একেবারে মাজারের ভেতরে গিয়ে। এতে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। এটা করা যাবে না। নাইওরপুল থেকে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে গেয়ে আসা যাবে তবে, মাজারের প্রধান প্রবেশ পথের আগে এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সবাই একসাথে মাজারেও ঢুকতে পারবে না।

ওরসে আসা ভক্তদের যানবাহন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে না রাখারও আহ্বান জানান তিনি। এর বদলে সেগুলো এমসি কলেজ মাঠ এবং শাহি ঈদগাহ এলাকায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, এতে যানজটের ঝামেলা থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবেন এবং ভক্ত আশেকানরা স্বাচ্ছন্দ্যে মাজারে যাতায়াত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ওরসকে কেন্দ্র করে অনেক সময় দু’একজন গাঁজা নিয়ে আসেন এবং সেবন করেন। এ জাতীয় ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের অপচেষ্টা কেউ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মাজার এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সাদা পোশাকেও পুলিশ ও গোয়েন্দারা সতর্ক অবস্থান নিবেন। আপনারা যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন তারা সবাই সতর্ক থেকে পুলিশের সহযোগিতা নিবেন।

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সিলেট জেলা সদস্য -সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা দল সিলেট জেলার সদস্য মো. নোমান উদ্দিন রিপন কালবেলাকে বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের গিলাফ চড়ানোকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ঢোল-বাদ্যসহ লোকসংস্কৃতির চর্চা হঠাৎ করে বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। এসব কার্যক্রমকে ‘অনৈসলামি’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও শতবর্ষের ঐতিহ্য থেকে কেউ সত্ত্বেও আসবে না।

তিনি বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত ছাড়া গান-বাজনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে এতে সংস্কৃতির ওপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি অনৈতিক কাজ করলে তার দায় ব্যক্তির, পুরো বাউল সম্প্রদায়ের নয়।

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান কালবেলাকে বলেন, গিলাফ চড়ানোর সময় ঢোল বাজানো ও বাদ্যযন্ত্রসহ শোভাযাত্রা করা একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, যা নাইওয়রপুল থেকে মাজার পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পালন হয়ে আসছে। তিনি বলেন, এটি নতুন কিছু নয়, বরং পুরনো প্রথারই ধারাবাহিকতা।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-এর ওরস প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য, যা বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি ও লোক আচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, এসব অনুষ্ঠান মাদকমুক্ত পরিবেশে হওয়া উচিত, তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতা হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব বা উচিত নয়, বরং সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গিলাফ চড়ানোর সময় ঢোল-বাদ্যযন্ত্র বাজানো হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই অংশ। এসব প্রথায় পরিবর্তন আনতে হলে হুট করে সিদ্ধান্ত নয়, বরং আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে করা উচিত, অন্যথায় তা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখা যাবে।

ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই যেন স্বাভাবিকভাবে ওরসে অংশ নেয়। কেউ বাধা দিলে প্রশাসনের উচিত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow