স্বাধীনতা মানে
স্বাধীনতা মানে ঐক্য-শান্তি
এ জীবনটাকে গড়া,
সুখে, দুঃখে থাকা চারপাশ জুড়ে
সঙ্গী-সাথীতে ভরা।
স্বাধীনতা মানে হাসি, হাসিমুখে
ফুলের বাগানে যাওয়া,
ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ নিতে নিজে
জীবনের গান গাওয়া।
স্বাধীনতা মানে মুক্তির খোঁজে
ছোটা সবুজের টানে,
স্বাধীনতা মানে লাল ও সবুজ
সুশীল সমাজ জানে?
স্বাধীনতা মানে অনেক হারিয়ে
শান্তির খোঁজ পাওয়া,
স্বাধীনতা মানে যুদ্ধের শেষে
ফুরফুরে এক হাওয়া।
আমার ছোট্ট গাঁও
সবুজ শ্যামল দৃশ্য ভরা আমার ছোট্ট গাঁও
এসে দেখো কী অপরূপ, সুবাসটুকু নাও।
গাঁয়ের পথে দাঁড়িয়ে থাকে মেঘ সুন্দর গাছ
দেখতে পাবে বিকেল হলে উঠান জুড়ে নাচ।
খেতের সোনার ফসল, নদীর ইলিশ ছড়ায় রূপ
বৃষ্টি হলে পুকুর পারে দস্যি ছেলের ডুব।
বর্ষাতে ব্যাঙ খেলা করে নতুন পানির তলে
আসবে সবাই কাজ শেষে তা দেখতে দলে দলে।
পুরান দিঘির নতুন পানি সারি বাঁধা পুঁটি
বায়না ধরে ছোট্টরা সব আজ আমাদের ছুটি।
দেখলে তুমি খুশি হবে আমার ছোট্ট গাঁও
এসো আমার মায়া ভরা গ্রামটা দেখে যাও।
তুমি আমার
তুমি আমার রক্তে লেখা লাল-সবুজের দেশ
কত দারুণ তুমি, তোমার রূপের তো নেই শেষ।
তোমার তরে শান্তি যে পাই, পাই অমলিন সুখ
ঠেকাই মাথা সারে আমার মনের সকল দুখ।
রূপে-গুণে মুগ্ধ হয়ে মিলাই দুটি আঁখি
তোমার শীতল আঁচল তলে থাকে কত পাখি!
তুমি আমার সোনা, হিরা, মুক্তার চেয়ে দামি
তুমি আমার ভালোবাসা জানে ভবের স্বামী।
তুমি হলে সাত রাজার ধন, আগলে রাখি আমি
তোমার মাটি, আমার ঘাঁটি সবার চেয়ে দামি।
ছেলেবেলার খেলার সাথী
ছেলেবেলার খেলার সাথী আঁখির কথা কই
বলব তবে শর্ত আছে চুপটি করে রই।
সকাল বেলার মিষ্টি রোদে গল্প হতো রোজ
স্কুলে না গেলে, আঁখি করত আমার খোঁজ।
নিত্য নতুন গল্প হতো, হইচই আর খেলা
খুনসুটি, রঙ তামাশায় কাটত সারাবেলা।
বৃষ্টি এলে আসত আঁখি আমার কুঁড়েঘর
মুড়িমাখা খেয়ে আঁখি বলত আমায় পর।
ঢং দেখে ওর কান্না আসে চোখের পানি ফেলি
হাসি দিয়ে বলত আবার, আয় না পুতুল খেলি।
কোথায় গেল দিনগুলো সেই কোথায় গেল সাথী
সেসব স্মৃতি ভেবে এখন কাটাই সারা রাতি।
দিন চলে যায়
দিন চলে যায় বছর আসে, আসে নতুন দিন
সকলকিছুই ক্ষয় হয়ে যায় বাড়তে থাকে ঋণ।
হুক্কা হুয়া যায় না শোনা আগের দিনের মতো
দিন বদলের অগ্নিমাশুল দিচ্ছি অবিরত।
মনে পড়ে আগের দিনে জোছনা রাতের বেলা
দল বেঁধে সব দিন কাটাতাম খেলে নানান খেলা।
গোল্লাছুট আর কানামাছি, হাডুডু, কিতকিত
টঙে বসে কাটত সময় গেয়ে ভাটির গীত।
বানের জলে তুমুল সাঁতার কলাগাছের ভেলা
হই-হুল্লোড় হাসিখুশি কাটত সারাবেলা।
বাড়ি, বাড়ি পিঠার দাওয়াত আনন্দ হইচই
স্বপ্নমাখা দিনগুলি হায় পালিয়ে গেল কই!
মুঠোফোনে মাথা নিচু কুঁজো পিঠের হাড়
কেমন করে উঁচু মাথার গড়বে জাতি আর!
ঘুমপাড়ানির দল
আমার গাঁয়ের গল্প শোনো— দেখতে অপরূপ
বৈরী হাওয়ায় দোল খেতে রোজ ডাহুকের গুবগুব।
বিকেল বেলা খেলার মাঠে দেখতে পাবে সব
খেলায়, খেলায় নৃত্য কত উঠবে কলরব।
সন্ধ্যা হলে আপন মনে জোনাক পোকার দল
উড়ি, উড়ি, ঘুরি ঘুরি, করে কোলাহল
রাত্রি হলে শিয়াল মামার হুক্কাহুয়া গান
ঘরে শুয়েই শুনতে পাবে মন করে আনচান।
ঘুম আসে না মনটা ভারি রবে টলোমল
আসবে ছুটে ঘুম পাড়াতে ঘুম পাড়ানির দল।
সকাল বেলা উঠতে দেরি চিন্তা মনে খুব
কিচিরমিচির শব্দে জেগে দিঘির জলে ডুব।
জীবন আমার
জীবন আমার বিষের বাঁশি
ফুরায় দুঃখের হালে
শান্তি বুঝি খুঁজে পাব
শুকনো পাতার ডালে।
সকাল, বিকাল ছুটে চলি
গুবরে পোকার গাঁয়
শান্তি খুঁজতে মেঠোপথে
বেলা ফুরে যায়।
আকাশ আবার করছে আড়ি
মনে ভীষণ জ্বালা
গুবরে পোকার গাঁয়ে যেতে
ধরল জোনাক খালা।
কী করি আর ভেবে-চিন্তে
দিলাম একটা ঘুম
সকাল বেলা উঠেই খাচ্ছি
সূর্যি মামার চুম।
শিয়াল ও ঘোড়া
শিয়াল বলে, ঘোড়া তোমার এত কেন কষ্ট
পরের কাছে বন্দি থাকো হয় মাথা খুব নষ্ট।
তোমার গায়ে শক্তি নাই তাই এমন করে থাকো
অকর্মা কাপুরুষ তুমি এখান থেকে ভাগো!
আমায় যদি তোমার মতো রাখত এমন করে
লজ্জায় মুখ দেখাতাম না যেতাম আমি মরে।
এমন করে থাকো যে তোমার লজ্জা বুজি নাই
অলস তুমি, পাড়াপড়শি তা বলে সবাই।
ঘোড়া বলে, শোনো শিয়াল কর্ম আমি করি
তাই মানুষের সাথে আমি নতুন জীবন গড়ি।
রাতের বেলা ঘুমাই আমি দিনে থাকি কাজে
সারাক্ষণতো ছুটে বেড়াও, তুমি হলে বাজে।
পরের ওপর টেক্কা মেরে প্যাঁচ লাগিয়ে দাও
সত্যি করে বলো দেখি একটু শান্তি পাও?
দেখলে তোমায় লাঠি নিয়ে সবাই তেড়ে আসে,
কিন্তু আমায় আদর করে সবাই ভালোবাসে।
হতাশ তুমি কবে যাবে চলে
লাল নীল সাদা-কালো জীবনের কাহিনি
মরে গেলে বেঁচে যাই, ধরো লাল বাহিনী।
রং-মাখা ছবি আঁকা বাবুইয়ের দল কানা
ঢিল ছুড়ে আশেপাশে মারে শুধু হানা।
দিনরাত ছোটাছুটি মনে হয় বুঝি মরি
কেউ এসে আশা দিয়ে বলে যায় সরি।
ছলেবলে লুটপাট করে শুধু খুটখাট
হতাশায় কষ্ট তরী-ভরা জীবনের লাট।
চোখ মেলে তাকালেই চারদিকে মরুময়
আলো কেটে আঁধারেই নেমে আসে ক্ষয়।
হতাশ, হতাশ তুমি কবে যাবে চলে
চুপিসারে এসে ভাই যাও তুমি বলে।
ঝুমকোলতার গাঁয়
মেঘলা আকাশ বইছে বাতাস ধুলোয় মাখা ঘাট
গাঁয়ের মেয়ের ঝুমুর নৃত্য দেখায় আশার মাট।
বুড়া-বুড়ির পান খাওয়া আর গুড়ুম গুড়ুম গীত
ছোট্ট ছেলে মেয়ের ভেলায় উঠতে লাগে ভীত।
আবার দেখো কিশোর দল বসায় খেলার আসর
পুতুল বিয়ে ধুমধামে! করায় মনের বাসর।
ইচিং বিচিং গোল্লাছুটে কাটায় সারাক্ষণ
দেখতে দেখতে উদাস বেলা শান্তি আনে মন।
পানকৌড়িরা নাও নিয়ে ফেরে যখন ঘাটে
দৌড়ে যায় সবে তখন কেউ থাকে না মাঠে।
এমন করে আমার পিছু আয়রে খুকি আয়
মনের কথা বলব খুলে ঝুমকোলতার গাঁয়।
আমার ইচ্ছে জাগে
আমার খুব ইচ্ছে জাগে, পেতে আগের দিন
নাচব, গাইব, খেলব বাজাব সুখের বিন।
কলার পাতার ঘর বানিয়ে খেলতাম টুনির সনে
বৃষ্টিতে নাচ রোদ্রে ঘুড়ি শুধু পড়ে মনে।
ঝড় এলে আম কুড়াতাম সবে মাথায় দিয়ে টিন
সকলে ভাগ করে নিতাম একে অন্যের ঋণ।
স্কুল গিয়ে টিফিন খেতাম সারিবদ্ধ হয়ে
আনন্দময় দিনগুলো খুব ভাসে স্বপ্ন হয়ে।
পাখির ছোট্ট ছানা দলবেঁধে খুঁজতাম সবসময়
কল্পনার ইচ্ছের কথাগুলো করতে হবে জয়।
সেই হাসিমাখা দিনগুলো ফিরে পেতে চাই
ইচ্ছের কথা ভাবতে, ভাবতে স্বপ্নে চলে যাই।
বেদের মেয়ে জোছনার বিয়ে
ঘুম থেকে উঠে দেখি বেদের মেলা
হচ্ছে কী সব আরে বাবা
কী কলরব চশমাটা নাই
আচমকা ভাব খুঁজে বেড়াই,
সাধুর বাসায় সকাল সকাল সাপের খেলা।
বাদ্য বাজে তালে তালে নাচন আবার
উঠান জুড়ে সাপের খেলা
নাচন পুরে পুতুল সেজে
বেদেরা কি যাচ্ছে নেচে
সবাই খাচ্ছে বেদের মেয়ের বিয়ের খাবার।
তাইতো বুঝি এলো ওরা
কিছুইতো বুঝি না
বেদের মেয়ের বিয়ে হবে
নতুন শাড়ি পরছে তবে
গোমোরতো খুঁজি না।
কই গেলো তার বেদের মেলা
ফুরায় গেলো সাপের খেলা
বর কোথায় দেখছি নাতো
বলছে ওরা তোমার মতো
আসুক কাজি বসনার
সাধুর বাসায় বিয়ে
বেদের মেয়ে জোছনার।
কবি পরিচিতি : গাইবান্ধা জেলার অন্তর্গত শ্রীকলা গ্রামে পহেলা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকেই লেখালেখি করেন। সব বিষয়ে লেখালেখি করলেও ছড়া, কিশোর কবিতা, শিশুতোষ গল্প, অর্থাৎ শিশুসাহিত্যে বেশি চর্চা করেন।
বাংলাদেশের জাতীয় পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিন এবং বাইরের দেশের পত্রিকাতেও লেখালেখি করছেন নিয়মিত। দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রবস্থায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ৪৩ তম জাতীয় বিঙান ও প্রযুক্তি সেমিনারে বিঙান বিষয়ক বক্তৃতায় ২য় স্থান অধিকার করে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।
বর্তমানে সরকারি সাত কলেজের কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা, ইতিহাস বিভাগে অধ্যয়নরত। সম্পাদনা করছেন শিশুদের পত্রিকা- টমটম। প্রথম বই পিঁপড়া ও দুই ছানা।