শিক্ষকের টুপি থেকে ফিলিস্তিনের পতাকা কেটে ফেললো ইসরায়েলি পুলিশ

ইসরায়েলে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কিপ্পা বা ইহুদী পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী টুপি থেকে ফিলিস্তিনের পতাকা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের মোদিয়িন শহরে এই ঘটনা ঘটলেই বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)। জানা গেছে, ওই শিক্ষকের নাম অ্যালেক্স সিনক্লেয়ার। তিনি জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার কিপ্পাটি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করেছে। তিনি লেখেন, আমি মোদিয়িনে একটি ক্যাফেতে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। তখন এক ‘ধর্মপ্রাণ’ ব্যক্তি রাগান্বিত মুখে এসে চিৎকার করে বলেন, আমার কিপ্পা নাকি আইনের বিরুদ্ধে। সিনক্লেয়ার জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে আমি এমন একটি কিপ্পা পরে আসছি, যাতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন- দুই দেশের পতাকাই রয়েছে। আমি ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে এটি অবৈধ নয়। এই বিষয়ে আমি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করতে চাই, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ ডাকবেন বলে হুমকি দেন। শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে হাজির হন। তারা সঙ্গে সঙ্গে বলেন, আমার ক

শিক্ষকের টুপি থেকে ফিলিস্তিনের পতাকা কেটে ফেললো ইসরায়েলি পুলিশ

ইসরায়েলে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কিপ্পা বা ইহুদী পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী টুপি থেকে ফিলিস্তিনের পতাকা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের মোদিয়িন শহরে এই ঘটনা ঘটলেই বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)।

জানা গেছে, ওই শিক্ষকের নাম অ্যালেক্স সিনক্লেয়ার। তিনি জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার কিপ্পাটি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করেছে।

তিনি লেখেন, আমি মোদিয়িনে একটি ক্যাফেতে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। তখন এক ‘ধর্মপ্রাণ’ ব্যক্তি রাগান্বিত মুখে এসে চিৎকার করে বলেন, আমার কিপ্পা নাকি আইনের বিরুদ্ধে।

সিনক্লেয়ার জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে আমি এমন একটি কিপ্পা পরে আসছি, যাতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন- দুই দেশের পতাকাই রয়েছে। আমি ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে এটি অবৈধ নয়। এই বিষয়ে আমি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করতে চাই, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ ডাকবেন বলে হুমকি দেন।

শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে হাজির হন। তারা সঙ্গে সঙ্গে বলেন, আমার কিপ্পা আইনের বিরুদ্ধে ও তারা এটি জব্দ করবেন।

পুলিশ অ্যালেক্সকে তল্লাশি করে ও প্রায় ২০ মিনিট থানার একটি কক্ষে আটকে রাখে। ছেড়ে দেওয়ার সময় কিপ্পা ছাড়াই তাকে চলে যেতে বলা হয়। পরে তিনি কিপ্পাটি ফেরত চাইলে এক পুলিশ কর্মকর্তা সেটি ফিরিয়ে দেন, তবে তখন টুপিটি থেকে ফিলিস্তিনের পতাকার অংশ কেটে বাদ দেওয়া ছিল।

তিনি লেখেন, আমার ব্যক্তিগত একটি ধর্মীয় জিনিস, যা আমার কাছে খুবই মূল্যবান, তা কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তিনি টুপির আগের ও পরের ছবি প্রকাশ করেন।

এই ঘটনার পর তিনি নিজেকে ‘ভীত, ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ বলে উল্লেখ করেন। বলেন, এটি নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষয়ের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

তিনি বলেন, এ ধরনের কাজ সাধারণত ফ্যাসিবাদী শাসনে দেখা যায়। ইসরায়েল যেদিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও হতাশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য অভ্যন্তরীণ বিভাগে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তবে তারা আর কোনো মন্তব্য করেনি।

ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে কঠোরতা বাড়ছে

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনসমক্ষে ও ব্যক্তিগত পরিসরে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের ওপর ক্রমেই কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন-গভির, যিনি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জনসমাগমস্থল থেকে ফিলিস্তিনি পতাকা সরানোর নির্দেশ দেন।

গত মাসে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, নিজ বাড়ির ভেতরে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের অভিযোগে একজন ফিলিস্তিনি নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরিবারের দাবি, তাকে ফিলিস্তিনি পতাকার ওপর দাঁড়াতে বাধ্য করা হয় ও ইসরায়েলের পতাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের সংসদ সদস্য গিলাদ কারিভ বলেন, বিশ্বের অন্য কোথাও যদি কোনো ইহুদির কিপ্পা পুলিশ কেটে দিতো, তাহলে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হতো। এই ঘটনার জন্য ফৌজদারি তদন্ত ও দেওয়ানি মামলা হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা ইসরায়েলি পুলিশের ‘গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার’ ইঙ্গিত দেয় এবং কিছু পুলিশ সদস্য তাদের পেশাগত নৈতিকতা ও আইনের প্রতি আনুগত্য হারিয়ে ফেলেছেন।

এদিকে, ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল’ও ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি পুলিশ আবারও মন্ত্রীর এজেন্ডা অনুসরণ করে আইনের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা—সবই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনসমক্ষে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow