শিক্ষা অফিসের গাফিলতিতে দেড়মাসেও আসেনি ইংরেজি ভার্সনের বই

পাঠদান শুরুর দেড় মাস পার হয়ে গেলেও পাবনা সদর উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের কয়েকশ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছায়নি ইংরেজি ভার্সনের পাঠ্যবই। উপজেলা শিক্ষা অফিসের চরম অবহেলা ও সময়মতো চাহিদা না পাঠানোর কারণে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনের বই সরবরাহ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বছরের শুরুতে পরবর্তী বছরের জন্য প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ভুল তালিকা পাঠানোর কথা। কিন্তু পাবনা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের সঠিক তালিকা বা চাহিদা যথাসময়ে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জেলাজুড়ে বাংলা ভার্সনের নতুন বইয়ে পাঠদান চললেও ইংরেজি ভার্সনের কয়েকশ শিক্ষার্থী এখনো শূন্য হাতে স্কুলে যাচ্ছে। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এ বিষয়ে ইংরেজি ভার্সনের পাবনা স্কয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহনাজ সুলতানা বলেন, ‌‘আমরা চতুর্থ ও পঞ্চ

শিক্ষা অফিসের গাফিলতিতে দেড়মাসেও আসেনি ইংরেজি ভার্সনের বই

পাঠদান শুরুর দেড় মাস পার হয়ে গেলেও পাবনা সদর উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের কয়েকশ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছায়নি ইংরেজি ভার্সনের পাঠ্যবই। উপজেলা শিক্ষা অফিসের চরম অবহেলা ও সময়মতো চাহিদা না পাঠানোর কারণে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনের বই সরবরাহ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বছরের শুরুতে পরবর্তী বছরের জন্য প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ভুল তালিকা পাঠানোর কথা। কিন্তু পাবনা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের সঠিক তালিকা বা চাহিদা যথাসময়ে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জেলাজুড়ে বাংলা ভার্সনের নতুন বইয়ে পাঠদান চললেও ইংরেজি ভার্সনের কয়েকশ শিক্ষার্থী এখনো শূন্য হাতে স্কুলে যাচ্ছে। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।

এ বিষয়ে ইংরেজি ভার্সনের পাবনা স্কয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহনাজ সুলতানা বলেন, ‌‘আমরা চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই পেয়েছি। তবে প্রতি ক্লাসে ৫৯ জন হিসেবে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘চলতি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য গতবছর আমরা শিক্ষার্থীদের বইয়ের চাহিদাপত্র জমা দিয়েছি। বছরের শুরুতে বই পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো তিনটি শ্রেণির বই আসেনি। এ কারণে অনলাইন থেকে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অধ্যায়ভিত্তিক ফটোকপি সরবরাহ করে পাঠদান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে বই আসতে বিলম্ব হচ্ছে, সেটি জানা নেই। সঠিক পাঠদানে দ্রুত বই প্রয়োজন।’

নর্থপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিউর রহমান বলেন, ‘প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বই পেলেও গণিত বইটি আমরা পাইনি। পুরোনো বই ও ফটোকপি দিয়ে পাঠদান চলছে। তবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বই আসবে বলে শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।’

ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবক জানান, সন্তানকে ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি করিয়ে এখন তারা বিপাকে পড়েছেন। ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চললো অথচ বাচ্চার হাতে এখনো বই নেই। স্কুল থেকে বলছে, শিক্ষা অফিস বই দেয়নি। অফিসের গাফিলতির দায় আমাদের বাচ্চারা কেন নেবে? এমন প্রশ্নও করছেন তারা।

স্কয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজন্যার মা নুজহাত তুষ্টি জাগো নিউজকে বলেন, ‘যারা পুরোনো স্টুডেন্ট তারা না হয় সিনিয়রদের থেকে বা কোনোভাবে বই সংগ্রহ করে কোনোমতে পড়াশোনা চালাচ্ছেন। কিন্তু আমরা যারা নতুন বাচ্চা ভর্তি করিয়েছি, তাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বই ছাড়া বাচ্চাদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তারা এতটা উদাসীন কীভাবে হতে পারেন?’

শিক্ষা অফিসের গাফিলতিতে দেড়মাসেও আসেনি ইংরেজি ভার্সনের বই

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নর্থপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘বছরের শুরুতে নতুন বই নিয়ে নতুন উদ্দীপনায় স্কুলে যাবে বাচ্চারা। কিন্তু সেটি না করতে পেরে তাদের মন খারাপ। অনলাইন বা ফটোকপিতে পড়তে অনীহা দেখায়। বারবার বইয়ের কথা জিজ্ঞেস করে।’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্যান্য বছর চাইলেও চলতি বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য গতবছর বইয়ের চাহিদাপত্র চায়নি শিক্ষা অফিস। ফলে নর্থপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ চাহিদাপত্র পাঠায়নি। তবে নিজ তাগিদেই চাহিদাপত্র জমা দিয়েছে স্কয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস সে চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বছরের শুরুতে বই না পেয়ে স্কুল দুটি শিক্ষা অফিসের দ্বারস্থ হলে টনক নড়ে শিক্ষা অফিসের। এরপর এই দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বই চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, সঠিক সময়ে চাহিদাপত্র না দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীদের বই মুদ্রণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে একটি বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় বাফার থেকে বই সংগ্রহ করতে বলা হয়।

নিজেদের ভুল শিকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবির বলেন, ‘চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল। তবে চাহিদাপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার ফলে সেটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। এজন্য সময়মতো বই পাওয়া যায়নি। তবে আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। সর্বোচ্চ আগামী দুদিনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বই পেয়ে যাবে।’

পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, অবহেলা বা ভুল করার সুযোগ নেই। কেন শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে বই পায়নি, সেটি আমি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞাসা করবো। গাফিলতি পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow