৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মবের আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। তিনি বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মব কালচার না চলতো, তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীর লাঞ্ছিত হওয়া লাগতো না।
চবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাবি ছাত্রদল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে একই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে তারা। এসময় তাদের ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, ইন্টেরিম কী করে, চবিতে হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
গণেশ বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশকে নিজ হাতে মিষ্টি খাওয়ান। মিষ্টি বিতরণ করা তার কাজ নয়। আমাদের ভাইয়েরা যে মার খেলো এর দায়ভার তাকে নিতে হবে।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হামলার দাগ শুকানোর আগেই প্রকৃত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করুন। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
ডাকসুতে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, চবিতে আমাদের এক ছাত্রী বোন দেরিতে হলে প্রবেশ করায় দারোয়ান তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে, তার গায়ে হাত তুলেছে। কোনো বোনের গায়ে হাত তুললে ভাইয়েরা বসে থাকতে পারে না। চবির শিক্ষার্থীরাও বসে থাকেনি। তারা প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনো মরে যায়নি। আমরা চবি শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। অতি দ্রুত এই নৃশংস হামলার বিচার করতে হবে।
বিক্ষোভে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিম বলেন, এ দেশে শিক্ষার্থীরা আগেও মার খেত, এত রক্তের ওপর দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরও মার খাচ্ছে। চবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।
ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে জনগণ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছে, আপনাদের নামাতে তাদেরর বেশি সময় লাগবে না।
এফএআর/এমআইএইচএস/জিকেএস