শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অশিক্ষিত’ মানুষের খবরদারি মেনে নেবো না
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অশিক্ষিত’ মানুষের খবরদারি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি। দেলোয়ার হোসেন আজিজী লিখেছেন, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। তিনি লেখেন, ‘আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশিক্ষিত মানুষের খবরদারি কোনোভাবেই মেনে নেবো না। সংশ্লিষ্ট সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’ এর আগে ১০ মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, গভর্নিংবডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজকে হতাশ করেছে। ওইদিন তিনি আরও বলেন, ‘গভর্নিং বডির মাধ্যমে পরিচালিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অশিক্ষিত’ মানুষের খবরদারি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি।
দেলোয়ার হোসেন আজিজী লিখেছেন, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
তিনি লেখেন, ‘আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশিক্ষিত মানুষের খবরদারি কোনোভাবেই মেনে নেবো না। সংশ্লিষ্ট সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’
এর আগে ১০ মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, গভর্নিংবডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজকে হতাশ করেছে।
ওইদিন তিনি আরও বলেন, ‘গভর্নিং বডির মাধ্যমে পরিচালিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে এসে নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও টাকা-পয়সা আয় করবে। আত্মীয়-স্বজনকেও সুযোগ দেবে। অধিকাংশ জায়গায় এ উদ্দেশ্যে আসে। কিছু জায়গায় ভালোও আছে।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, নিয়োগ সরকারের মাধ্যমে হলে এখানে আসার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিরা আসতে চাইবেন না। কারণ তখন তাদের এখানে স্বার্থ থাকবে না।
গত অক্টোবরে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও উৎসবভাতা বাড়ানোর দাবিতে টানা আন্দোলন করে আলোচনায় আসেন অধ্যক্ষ আজিজী। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’ শিক্ষকদের সবচেয়ে সক্রিয় ও কার্যকর সংগঠন বলে বিবেচিত।
জানা গেছে, ১০ মার্চ দুপুরে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিংবডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪’ রিভিউ সংক্রান্ত এক সভা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক।
সভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রবিধানমালায় থাকা ‘ন্যূনতম স্নাতক পাস’ শিক্ষাগত যোগ্যতা বাতিল করে আগের নিয়মে ফেরানো হবে। অর্থাৎ কমিটির সভাপতি বা বডির চেয়ারম্যান হতে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হবে না।
২০২৪ সালের মে মাসের আগে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিংবডির সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হতো না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের মে মাসে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪’ প্রণয়ন করে।
ওই প্রবিধানমালায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছিল, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ কোনো ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না।
এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রবিধানমালা সংশোধন করে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করে গেজেট জারি করে।
সেই নিয়ম বাতিল করে ২০২৪ সালের আগের নিয়মে ফিরতে চাচ্ছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা!’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করে অসংখ্য নেটিজেন এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। শিক্ষাবিদরাও বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন। অবশ্য সমালোচনার মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এএএইচ/এমআইএইচএস
What's Your Reaction?