শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের অবিস্মরণীয় অবদান
জনপ্রশাসন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদকে ভূষিত প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আজীবন জনকল্যাণকামী মানুষ। তিনটি পতাকার নিচে যাপিত তাঁর সুদীর্ঘ ৯৩ বছরের জীবন। তিনি পরিশীলিত সমাজ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির স্বপ্ন দেখেন এখনো। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রাক্তন পরিচালক, স্বাধীনচেতা ও সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঔপনিবেশিক প্রশাসন সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক আসাদুজ্জামানের জন্ম মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুরে ১৯৩৩ সালের অক্টোবর মাসে। বাবা মরহুম হাজী আব্দুর রহমান রাঢ়ি এবং মা মরহুমা জোবেদা খাতুন। তিনি ইউনাইটেড ইসলামিয়া মাদারীপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মেট্রিক এবং মাদারীপুর কলেজ থেকে ১৯৫৪ সালে আইএ পাস করেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। ১৯৫৯ সালের জুলাই থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় একযুগ আসাদুজ্জামান বরিশাল বিএম কলেজে অধ
জনপ্রশাসন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদকে ভূষিত প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আজীবন জনকল্যাণকামী মানুষ। তিনটি পতাকার নিচে যাপিত তাঁর সুদীর্ঘ ৯৩ বছরের জীবন। তিনি পরিশীলিত সমাজ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির স্বপ্ন দেখেন এখনো। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রাক্তন পরিচালক, স্বাধীনচেতা ও সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঔপনিবেশিক প্রশাসন সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক আসাদুজ্জামানের জন্ম মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুরে ১৯৩৩ সালের অক্টোবর মাসে। বাবা মরহুম হাজী আব্দুর রহমান রাঢ়ি এবং মা মরহুমা জোবেদা খাতুন।
তিনি ইউনাইটেড ইসলামিয়া মাদারীপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মেট্রিক এবং মাদারীপুর কলেজ থেকে ১৯৫৪ সালে আইএ পাস করেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। ১৯৫৯ সালের জুলাই থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় একযুগ আসাদুজ্জামান বরিশাল বিএম কলেজে অধ্যাপনা করেন। এরপর রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি ১৯৮০ সাল থেকে মাদারীপুর সরকারি কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, নরসিংদী সরকারি কলেজ ও টাঙ্গাইল সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে তিনি জাতীয় শিক্ষা কমিশনে প্রধান প্রতিবেদক ও সম্পাদক হিসেবে কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ করেন। অবসর গ্রহণের পর ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে আসাদুজ্জামান কিছুদিন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজে অধ্যক্ষ ছিলেন। ১৯৯৩-১৯৯৪ সময়ে সরকার প্রস্তাবিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মরহুম ড. মো. ইয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। ১৯৮২-১৯৮৩ সালে এনসিটিবির সচিব ছিলেন এবং কিছুকাল চেয়ারম্যনের দায়িত্ব পালন করেন।
আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ব্যবস্থায় প্রচলিত কলোনিয়াল প্রথা-পদ্ধতি, নানা বৈষম্য ও অসংগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং একটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী আসাদুজ্জামান ১৯৮০ সালেই সরকারের কাছে নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরেন:
- ১. প্রতি জেলায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শাসন কায়েম
- ২. রাষ্ট্রস্বীকৃত নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রবর্তন
- ৩. জনস্বার্থে প্রশাসন থেকে বিচারিক ক্ষমতা পৃথকীকরণ
- ৪. জাতীয় সার্ভিস সিস্টেমকে দুইশ’ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার মানসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সমমানে ও সমমর্যাদায় (ইক্যুয়াল র্যাংক অ্যান্ড স্ট্যাটাস) বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্যাডার সার্ভিস গঠন
- ৫. সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে জনস্বার্থে তথ্য সেবাকেন্দ্র স্থাপন এবং একটি করে গণগ্রন্থাগার স্থাপন
- ৬. দারিদ্র্য বিমোচনে বেকারদের কর্মযোগ্য করে তোলার জন্য প্রতিটি জেলায় ১টি করে কারিগরি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন (দৈনিক সংবাদ, ১১ ডিসেম্বর ১৯৭৬)
- ৭. বাংলাদেশের পরিচয়বর্জিত সরকারি ক্যালেন্ডারে বাংলা দিনক্ষণ, মাস-বর্ষ সংযোজন করা ( দৈনিক বাংলা, ২৪ জুলাই ১৯৮৬)
- ৮. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে প্যাকেজভিত্তিক পাস-ফেল রহিতকরণ (দৈনিক বাংলা, অভিমত, ১৯৯২)
- ৯. আন্তঃ ও বহিঃ পরীক্ষার গড় নম্বরে পরীক্ষার্থীর ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ
- ১০. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাকে বৈষম্যমুক্তকরণে সারাদেশের সব শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণীয় (একীভূত শিক্ষা) একই সিলেবাস সিস্টেমের প্রবর্তন।
প্রস্তাবসমূহ তিনি উত্থাপন করেন। এর প্রায় অধিকাংশই বিভিন্ন সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় এসবের বেনিফিসিয়ারি এখন দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ।
এ দেশে অতীতে তাঁর চেয়ে নামিদামি লোকের অভাব ছিল না, আজও নেই। কিন্তু ওপরে বর্ণিত যেসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি জনস্বার্থে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাধিকার অর্জন, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একান্ত অপরিহার্য এবং অতুলনীয়। তদুপরি স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তনের বছর ১৯৭৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪৯ বছরে আসাদুজ্জামানই একমাত্র ব্যক্তি; যিনি জনপ্রসাশনে এ পুরস্কার লাভে সক্ষম হন।
বাংলাদেশের প্রচলিত ঔপনিবেশিক প্রশাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ‘প্রশাসনিক কাঠামো ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের স্বীকৃতি মেলে সাপ্তাহিক রোববারের পরবর্তী সংখ্যায় ১৩ জানুয়ারি ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের এমএ শেষবর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার শামসুল হক রেজার লেখায়। তিনি লিখেছেন, (৬ জানুয়ারি ১৯৮০) ‘রোববার পত্রিকায় প্রকাশিত জনাব আসাদুজ্জামানের ‘প্রশাসনিক কাঠামো ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ লেখাটি পড়লাম। ঐতিহ্যগত ঔপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তন প্রসঙ্গে লেখাটিতে বেশ নতুনত্ব রয়েছে। বিশেষ করে তার লেখার মধ্যে তথাকথিত আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনিক পদ্ধতির পরিবর্তে গতিশীল এবং জনগণের শাসন কায়েমের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রয়েছে...।’
প্রশাসন সংস্কারের বিষয়টি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গোচরীভূত হয়। তাঁর নির্দেশে কেবিনেট সচিব মরহুম মাহাবুবুজ্জামান জেলা সমন্বয়কারীর পদ সৃষ্টি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের জন্য সমমানের ও সমমর্যাদায় বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক অর্থাৎ ২৪টি ক্যাডার সার্ভিস গঠন করেন, যেমন-সিভিল সার্ভিস (কৃষি), সিভিল সার্ভিস (হেলথ), সিভিল সার্ভিস (শিক্ষা), সিভিল সার্ভিস (পুলিশ), সিভিল সার্ভিস (পূর্ত), সিভিল সার্ভিস (বিচার) ইত্যাদি। এ বিষয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘ঔপনবেশিক প্রশাসন কাঠামো ও সিস্টেমের রূপান্তর: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। ২য় সংস্করণে এটি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। ৩য় পর্যায়ে নতুন টেকনিকে এই গ্রন্থের গুরুপত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছোট ছোট আকারে ৩৫টি পরিশিষ্টে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখকের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি’ প্রকাশিত হয় প্রকাশনা সংস্থা অনন্যা থেকে। ‘কোন চৈত্র মাসে বনের ঘাসে মনের কথার টুকরো আমার কুঁড়িয়ে পাবে কোন উদাসীন... সেই প্রত্যাশা নিয়েই তাঁর কবিমন অবিশ্রান্তভাবে গেঁথে গেছে এই স্মৃতিকথার মালা’। নবতীপর বৃদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক এই গ্রন্থের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বিগত শত বছরের চমকপ্রদ ইতিহাস, যেমন- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫), ১৯৪২ সালের মহাদুর্ভিক্ষ এবং অনাহারে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি, ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে কংগ্রেস-মুসলিম লীগের বিতর্ক, ১৯৪৬ সালে ব্রিটেন থেকে কেবিনেট মিশনের ভারতে আগমন, দেশবিভাগ, র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ এবং ১৯৪৭ সালের মধ্য-আগস্টে স্বাধীন ভারত ডোমিনিয়ন ও পাকিস্তানের জন্ম, পাকিস্তানের উভয় অংশের মধ্যে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে ও নানাবিধ বৈষম্যের কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়-ইত্যাদি এ স্মৃতিকথা গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
অনুবাদ সাহিত্যে আসাদুজ্জামানের অবদান বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ঢাকা প্রদেশের তৎকালীন সিভিল সার্জন জেমস টেলর ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের মেডিকেল বোর্ডের সচিব লর্ড হাসিনসনের নির্দেশে এদেশের রোগব্যাধি সংক্রান্ত টপোগ্রাফি লিখতে গিয়ে (১৮২৫-১৮৩৫) ঢাকা তথা বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, নদ-নদী, পশু-পাখি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বিভিন্ন জনপদ ও তাদের লোকায়ত জীবনধারার চমৎকার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। যা আজও পাঠককে নিবিড়ভাবে আকর্ষণ করে। জেমস টেলরের ‘টপোগ্রাফি অব ঢাকা’ আসাদুজ্জামান কর্তৃক ‘কোম্পানী আমলে ঢাকা’ শিরোনামে অনূদিত হয়ে বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপকভাবে পাঠকনন্দিত হয়। অন্য অনূদিত ড. রহিমের ‘সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল হিস্টোরি অব বেঙ্গল, ভলি ১-২’ বইটি ‘বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস ১ম ও ২য় খণ্ড’ শিরোনামে বাংলা একাডেমি থেকে আশির দশকে প্রকাশিত হয়।
অধ্যাপক আসাদুজ্জামানের উদ্যোগে নিজগ্রামে ‘এইচএন বালিকা বিদ্যালয়’ স্থাপিত হয় বিশ শতকের ষাটের দশকে। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সত্তর ও আশির দশকে ‘সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ’র প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান কলেজের উন্নয়নধারায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকার থেকে এডিবি ভবন, আইসিটি ভবন এবং একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়। তার সঙ্গে কলেজ গেট আন্তঃসড়ক নির্মিত হয়।
ত্রিশের দশকে মাদারীপুরের পুরান বাজারে ‘সাহিত্য মজলিশ’র স্থাপনা নদীর প্রবল স্রোতে বিলীন হয়ে গেলে ৫০০ বই ও ৫০০ টাকা মরহুম মুজির উদ্দীনের কাছে গচ্ছিত ছিল। পাবলিক স্কুলের পাশে পরিত্যক্ত কাদেরিয়া ইনস্টিটিউটটি লাইব্রেরির জন্য মরহুম মুজির উদ্দীনের কাছ থেকে ইউনাইটেড স্কুলের শেষবর্ষের ছাত্র আসাদুজ্জামান বরাদ্দ আনেন। পৌরসভা প্রদত্ত স্থানে ১৯৫১ সালে লাইব্রেরি নির্মিত হলে ফরিদপুরের তৎকালীন জেলা জজ ওবায়েদ সোবহান দ্বার উন্মোচন করেন। আশির দশকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে মাদারীপুরে আগত তৎকালীন ত্রাণমন্ত্রী মরহুম এরফান আলী ফকিরের সৌজন্যে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান ৮ হাজার ১২ মণ গম বরাদ্দ আনার ব্যবস্থা করেন। সাহেবরামপুরের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম গিয়াস উদ্দীন বাঘার হাতে বরাদ্দপত্র তুলে দেন। একটি স্বাধীন জাতিকে সম্মানিত জাতিসত্তায় রূপান্তরের লক্ষ্যে এ মহতি প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে অপূর্ব এবং অনবদ্য।
আসাদুজ্জামানের শৈশবকালে ৮৫ বছর আগে ১৯৪০ সালের ১২ জানুয়ারি সাহেবরামপুরে আসেন নিখিল বঙ্গের চিফ মিনিস্টার শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। তিনি ‘সাহেবরামপুর পঞ্চম জর্জ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরি’ এবং ফরিদপুর জেলা বোর্ডের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম খান সাহেব আলীমউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘সাহেবরামপুর চ্যারিটেবল ডিসপেন্সারির’ দ্বার উন্মোচন করেন। আসাদুজ্জামান দীর্ঘকাল এদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ ও চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে ছিলেন, এখনো আছেন। দীর্ঘ ৯৩ বছরে পদার্পণ করেও তিনি প্রতিনিয়ত সমাজকল্যাণের কথাই ভাবেন এবং কাজ করেন।
মানবদরদী আসাদুজ্জামান মনে করেন, ‘পরিশীলিত সুশীল সমাজ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে সকল নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা এবং সুসম্পর্ক স্থাপনের তাগিদ থাকা সবার নৈতিক দায়িত্ব।’ ইংরেজ কবি শেলীর স্কাইলার্ক পাখির মতো তিনি তাঁর প্রীতিসিক্ত দৃষ্টি নিরন্তর নিবন্ধ রেখেছেন গ্রামীণ স্নিগ্ধ শ্যামল মাটি আর মানুষের দিকে। মনোরম ব্যক্তিত্ব এবং পরকে আপন করার প্রবৃত্তি তাঁকে এনে দিয়েছে প্রিয় মানুষের খ্যাতি।
লেখক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
এসইউ/কেএসকে
What's Your Reaction?