শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক
রাজবাড়ীর পাংশায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে মো. তাছিন মুন্সী নামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. আহাদ হোসেন। তিনি বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক।
বেত্রাঘাতের শিকার ওই ছাত্র পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত শিক্ষার্থী মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে। সে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ক্লাস চলাকালে পড়া না পারার কারণে তাছিনকে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। পরে তাকে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফেলে অমানবিকভাবে পা দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখেন।
আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া বলেন, স্যার আমাদের পড়া না পারলে দুটা করে বেত মারেন। কিন্তু তাছিনকে অনেক বেশি মারেন। এসময় তাছিন তখন বলে, ‘ও
রাজবাড়ীর পাংশায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে মো. তাছিন মুন্সী নামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. আহাদ হোসেন। তিনি বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক।
বেত্রাঘাতের শিকার ওই ছাত্র পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত শিক্ষার্থী মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে। সে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ক্লাস চলাকালে পড়া না পারার কারণে তাছিনকে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। পরে তাকে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফেলে অমানবিকভাবে পা দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখেন।
আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া বলেন, স্যার আমাদের পড়া না পারলে দুটা করে বেত মারেন। কিন্তু তাছিনকে অনেক বেশি মারেন। এসময় তাছিন তখন বলে, ‘ওদের থেকে আমাকে বেশি মারলেন কেন?’ এরপর স্যার তাকে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে মারতে থাকেন। পরে মেঝেতে ফেলে লাথিও মারেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরও মারেন।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন বলেন, পড়া না পারার কারণে প্রথমে তাছিনকে মারি। পরে সে আমার মাকে নিয়ে গালাগাল করলে আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলি। তবে বুঝতে পারিনি এমন পরিস্থিতি হবে। আমি অনুতপ্ত। আমার ভুল হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখি আমার ছেলের পিঠে একাধিক বেত্রাঘাতের দাগ। কয়েকটি স্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। ছেলেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। আমি জানতে চাই, আমার ছেলের অপরাধ কী? এভাবে মারতে হবে কেন?
মৌরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. শাজাহান মণ্ডল বলেন, খবর পেয়েই বিদ্যালয়ে যাই। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সবাইকে চলে যেতে বলা হয়েছে। যেহেতু প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করেছেন, তাই সবাইকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষককে বাড়িতে চলে যেতে বলেছি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, যে কারণেই হোক, একজন শিক্ষকের এভাবে শিক্ষার্থীকে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।