শিরীন শারমিন চৌধুরীর আলোচিত জীবনের অজানা অধ্যায়
বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তার দীর্ঘ ১৭ মাসের আড়ালে থাকা জীবনের নানা অজানা অধ্যায়। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। দীর্ঘ ১৭ মাসের নিখোঁজ অধ্যায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জনসম্মুখে আর দেখা যায়নি সাবেক এই স্পিকারকে। ওই দিন দুপুরে সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে সপরিবারে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে দ্রুত বের হয়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয় নানা রহস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে—এমন বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা তাদের কাছে ছিল না। অবশেষে ১৭ মাস পর রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— তাহলে কি এতদিন তিনি গোপনেই
বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তার দীর্ঘ ১৭ মাসের আড়ালে থাকা জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
দীর্ঘ ১৭ মাসের নিখোঁজ অধ্যায়
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জনসম্মুখে আর দেখা যায়নি সাবেক এই স্পিকারকে। ওই দিন দুপুরে সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে সপরিবারে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে দ্রুত বের হয়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয় নানা রহস্য।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে—এমন বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা তাদের কাছে ছিল না। অবশেষে ১৭ মাস পর রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— তাহলে কি এতদিন তিনি গোপনেই ছিলেন?
ক্ষমতার শীর্ষ থেকে হঠাৎ পতন
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন চৌধুরী। সে সময় তিনি ছিলেন দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী এবং সর্বকনিষ্ঠ স্পিকার। তিনি টানা এক দশকের বেশি সময় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পরও তিনি পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত হন।
যদিও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্র নিয়েও সে সময় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়।
মামলা ও বিতর্ক
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় একই বছরের ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। যদিও ওই মামলার অগ্রগতি বা তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্য
১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার বাবা রফিকুল্লাহ চৌধুরী নোয়াখালী জেলার চাটখিলের সিএসপি অফিসার ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ছিলেন। আর মা ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য প্রফেসর নাইয়ার সুলতানা। তার নানা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি সিকান্দার আলী। তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির পরামর্শক। তাদের সংসারে এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম এবং এইচএসসিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করে উভয় ক্ষেত্রেই কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল সাংবিধানিক আইন ও মানবাধিকার।
আইনজীবী থেকে রাষ্ট্রের শীর্ষপদে
এলএলএম পাশ করার পর তিনি ১৯৯২ সালেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে ১৫ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সেইসঙ্গে সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন।
নতুন প্রশ্ন, নতুন জল্পনা
দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিকের হঠাৎ আড়ালে চলে যাওয়া এবং পরে গ্রেপ্তার—দুটি ঘটনাই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন সবার নজর ডিবির পরবর্তী বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে— যেখানে হয়তো সামনে আসতে পারে শিরীন শারমিন চৌধুরীর সেই অজানা অধ্যায়ের আরও বিস্তারিত তথ্য।
What's Your Reaction?