সৌদি সফর বাতিল, ‘শত্রু’ দেশে খেলতে নিষেধাজ্ঞা ইরানের
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে- যেসব দেশকে তারা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করে, সেসব দেশে আর কোনো ক্রীড়া দল পাঠানো হবে না। তেহরানে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে সামনে থাকা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশে ইরানি খেলোয়াড় ও দলীয় সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং যেগুলো শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে বিবেচিত, সেসব দেশে জাতীয় ও ক্লাব দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।’ এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরানের ক্লাব ট্রাক্টর সাজিক এফসির ওপর। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের শেষ ষোলো পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ শাবাব আল আহলি এবং ম্যাচটি এপ্রিল মাসে জেদ্দাহতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবে এই ম্যাচ খেলতে যেতে পারবে না ট্রাক্টর সাজিক। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে পশ্চিম অঞ্চলের প্লে-অফ ম্যাচগুলো পুনঃনির্ধারণ করে ১৩-১৪
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে- যেসব দেশকে তারা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করে, সেসব দেশে আর কোনো ক্রীড়া দল পাঠানো হবে না। তেহরানে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে সামনে থাকা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশে ইরানি খেলোয়াড় ও দলীয় সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং যেগুলো শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে বিবেচিত, সেসব দেশে জাতীয় ও ক্লাব দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।’
এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরানের ক্লাব ট্রাক্টর সাজিক এফসির ওপর। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের শেষ ষোলো পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ শাবাব আল আহলি এবং ম্যাচটি এপ্রিল মাসে জেদ্দাহতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবে এই ম্যাচ খেলতে যেতে পারবে না ট্রাক্টর সাজিক।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে পশ্চিম অঞ্চলের প্লে-অফ ম্যাচগুলো পুনঃনির্ধারণ করে ১৩-১৪ এপ্রিল জেদ্দায় আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। একই শহরে ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ইরানের সিদ্ধান্তের ফলে এই সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে বিষয়টি এএফসিকে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে ম্যাচগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত। গত কয়েক মাসে এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা বিস্ফোরণের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে ইরান এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আসন্ন ৪৮ দলীয় বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যেতে আপত্তি জানিয়েছে ইরান। মেক্সিকো সিটিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তারা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে, যাতে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে আয়োজন করা যায়।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই আয়োজন করা হবে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এতে ইরানের চেষ্টায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
ইরানের সরকারি ও ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে চান না। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার ওপর, আর এর প্রভাব কতটা গভীর হবে—তা সময়ই বলে দেবে।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?