শিল্পের বিদেশি ঋণের সুদের উৎসে কর অর্ধেক হচ্ছে

দেশে শিল্প খাতে বিনিয়োগ ব্যয় কমাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর আরোপিত উৎসে করের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশি ঋণের সুদের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দিতে পারেন। নতুন অর্থবছরে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি প্রদান, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে উৎসে কর ও অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসার নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিদেশি ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়নের উৎস। তবে উচ্চ করহারের কারণে ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যায়, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের ব্যয় বা ‘কস্ট অব ফান্ড’ কমানোর লক্ষ্যে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের

শিল্পের বিদেশি ঋণের সুদের উৎসে কর অর্ধেক হচ্ছে

দেশে শিল্প খাতে বিনিয়োগ ব্যয় কমাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর আরোপিত উৎসে করের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশি ঋণের সুদের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দিতে পারেন।

নতুন অর্থবছরে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি প্রদান, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে উৎসে কর ও অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যবসার নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিদেশি ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়নের উৎস। তবে উচ্চ করহারের কারণে ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যায়, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের ব্যয় বা ‘কস্ট অব ফান্ড’ কমানোর লক্ষ্যে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিতে পারেন।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কর সুবিধার অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হতে পারে। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।

স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনার লক্ষ্যে এ খাতে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। সরকার মনে করছে, উচ্চ করহারের কারণে এই খাত এখনো অনেকাংশে অনানুষ্ঠানিক থাকায় সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক এবং ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং কম্পিউটার মনিটর আমদানির ওপর অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও কর-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়া রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের ওপর করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে করের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে।

শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসী করদাতাকে প্রদেয় অর্থের ওপর উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে। বিমা খাতে রি-ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ব্যয় কমাতে অনিবাসী করদাতাকে পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে।

এমএএস/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow