শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
রংপুরে দেড় বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, সূচনা ঘোষ (৪০) ও তার ছেলে জয়দেব ঘোষ (১৬ মাস)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ মাস আগে ছেলে সন্তানের জন্মের পর থেকেই সূচনা ঘোষ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেতেন। এ ছাড়া প্রায়ই শিশু সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করার কথা বলতেন। নিহতের শাশুড়ি গীতা রাণী ঘোষ জানান, ছেলের বউ সূচনা ঘোষের মানসিক সমস্যার থাকায় তিনি নাতি জয়দেবকে চোখে চোখে রাখতেন। শনিবার দুপুরে তার কোল থেকে নাতিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য নিয়ে যান ছেলের বউ। বাচ্চাকে তার কাছে দিয়ে তিনি সংসারের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আধঘণ্টা পর তার বড় নাতনী এসে তার মাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু সাড়াশব্দ না পেয়ে আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। পরে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেখা যায়, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের উপর দিয়ে প্রবেশ করেন। তখন বিছানায় শিশুর লাশ আর ছেলের বউ সূচনা ঘো
রংপুরে দেড় বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, সূচনা ঘোষ (৪০) ও তার ছেলে জয়দেব ঘোষ (১৬ মাস)।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ মাস আগে ছেলে সন্তানের জন্মের পর থেকেই সূচনা ঘোষ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেতেন। এ ছাড়া প্রায়ই শিশু সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করার কথা বলতেন।
নিহতের শাশুড়ি গীতা রাণী ঘোষ জানান, ছেলের বউ সূচনা ঘোষের মানসিক সমস্যার থাকায় তিনি নাতি জয়দেবকে চোখে চোখে রাখতেন। শনিবার দুপুরে তার কোল থেকে নাতিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য নিয়ে যান ছেলের বউ। বাচ্চাকে তার কাছে দিয়ে তিনি সংসারের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
আধঘণ্টা পর তার বড় নাতনী এসে তার মাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু সাড়াশব্দ না পেয়ে আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। পরে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেখা যায়, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের উপর দিয়ে প্রবেশ করেন। তখন বিছানায় শিশুর লাশ আর ছেলের বউ সূচনা ঘোষের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
নিহত সূচনা ঘোষের ননদ সোমা ঘোষ বলেন, ভাবী সূচনা ও তার মেয়ে পূজা একইসাথে গর্ভবতী হন। মেয়ে এবং মা ১৫ দিন আগে ও পরে বাচ্চা প্রসব করেন। এ বিষয়টি সূচনা ঘোষ মানসিকভাবে মেনে নিতে পারতেন না। প্রায়ই তিনি বলতেন, ‘কেন বাচ্চা নিলাম, কেন এমন ভুল করলাম?’ এসব বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতেই তিনি ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ওষুধ খেতেন না। নিয়মমতো ঘুমাতেন না, ঠিকমতো খাবার খেতেন না এবং গোসলও করতেন না। এ নিয়ে পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন।
প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম বলেন, সূচনা ঘোষ খুব ভালো ছিল। কিন্ত বাচ্চা হওয়ার পর থেকে মাথায় সমস্যা হয়ে যায়। খালি বাচ্চাটাকে মেরে নিজে মরতে চাইতো।
রোববার দুপুরে সাজাপুর এলাকায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকার্ত পরিবেশ। লাশ সৎকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। সেখানে তার বাবা নিখিল ঘোষের সঙ্গে কথা হয়।
তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদেরকে ফোন দিয়ে জানানো হয় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তারা মেয়ের বাড়িতে চলে আসেন।
নিখিল বলেন, 'মেয়েটার মাথায় সমস্যা ছিল। ও এর আগেও কয়েকদিন বলছে যে আমি বাচ্চাকে মারবো, নিজেও মরবো।'
রংপুর মহানগর তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, মা ছেলের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও লাশের ময়না তদন্ত করে পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাজহাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
What's Your Reaction?