শিশুর ডাইনোসর-প্রীতি নিয়ে যা বলছে নিউরোসায়েন্স
হঠাৎ করে আপনার সন্তান ডাইনোসরের নাম মুখস্থ করছে, কোনটা মাংসাশী আর কোনটা তৃণভোজী - এ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছে? অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তা - এটা কি অতিরিক্ত আসক্তি? কিন্তু আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, এই ডাইনোসর-প্রীতি মোটেও সময় নষ্ট নয়। বরং এটি শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের একটি স্বাস্থ্যকর ইঙ্গিত। ইউনিভার্সিটি অব ইন্ডিয়ানার ইন্টারেস্ট-ড্রিভেন লার্নিং ইন চিলড্রেন গবেষণা এবং আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর শিশু মনোযোগ ও আগ্রহ বিষয়ক রিভিউ থেকে জানা গেছে মজার কিছু তথ্য। কেন ডাইনোসর শিশুকে এত টানে? ডাইনোসর বড়, রহস্যময়, ভয়ংকর আবার কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু আসল আকর্ষণটা অন্য জায়গায়। শিশুরা যখন কোনো একটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ বোধ করে, তখন তাদের মস্তিষ্কের একাধিক অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়। নিউরোসায়েন্স গবেষণা বলছে, এমন গভীর কৌতূহল - >> শিশুর মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায় >> স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী করে >> সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে >> কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়ায় ডাইনোসর নিয়ে বারবার ভাবা, প্রশ্ন করা, তুলনা করা - সবই মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল সার্কিট তৈরি করতে সাহায্য করে। শিশু যখন ডাইনোসরের বিষয়ে বিভিন্ন তথ
হঠাৎ করে আপনার সন্তান ডাইনোসরের নাম মুখস্থ করছে, কোনটা মাংসাশী আর কোনটা তৃণভোজী - এ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছে? অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তা - এটা কি অতিরিক্ত আসক্তি?
কিন্তু আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, এই ডাইনোসর-প্রীতি মোটেও সময় নষ্ট নয়। বরং এটি শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের একটি স্বাস্থ্যকর ইঙ্গিত।
ইউনিভার্সিটি অব ইন্ডিয়ানার ইন্টারেস্ট-ড্রিভেন লার্নিং ইন চিলড্রেন গবেষণা এবং আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর শিশু মনোযোগ ও আগ্রহ বিষয়ক রিভিউ থেকে জানা গেছে মজার কিছু তথ্য।
কেন ডাইনোসর শিশুকে এত টানে?
ডাইনোসর বড়, রহস্যময়, ভয়ংকর আবার কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু আসল আকর্ষণটা অন্য জায়গায়। শিশুরা যখন কোনো একটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ বোধ করে, তখন তাদের মস্তিষ্কের একাধিক অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়।
নিউরোসায়েন্স গবেষণা বলছে, এমন গভীর কৌতূহল -
>> শিশুর মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়
>> স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী করে
>> সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে
>> কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়ায়
ডাইনোসর নিয়ে বারবার ভাবা, প্রশ্ন করা, তুলনা করা - সবই মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল সার্কিট তৈরি করতে সাহায্য করে।
শিশু যখন ডাইনোসরের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানে। যেমন - কোনটা কত বড়, কোন যুগে ছিল, কোথায় বাস করত। এসময় শিশু একসঙ্গে মনোযোগ, তথ্যের মিল খোঁজার দক্ষতা, ও ক্রিটিক্যাল থিংকিং ব্যবহার করছে।
গবেষকরা বলেন, স্নায়ুতন্ত্র বারবার এমন গভীর শেখার অভিজ্ঞতা পেলে সেটাতে ভালো সাড়া দেয়। ফলে শেখার ক্ষমতা আরও শক্ত হয়।
শুধু জ্ঞান নয়, বাড়ে পড়াশোনার ভিত্তিও
ডাইনোসর বিষয়ে আগ্রহ শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি স্বাভাবিকভাবেই অন্য দক্ষতাগুলোও জাগিয়ে তোলে। যেমন -
গণিত: আকার, সংখ্যা, সময়কাল তুলনা করা
স্থানিক বুদ্ধিমত্তা: মানচিত্র, কঙ্কালের গঠন বোঝা
ভাষার দক্ষতা: বই, নাম, তথ্য পড়া
সামাজিক দক্ষতা: অন্যদের সঙ্গে ডাইনোসর নিয়ে কথা বলা, খেলায় যুক্ত হওয়া
এ কারণেই গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু কোনো একটি বিষয়ে গভীর আগ্রহ ধরে রাখতে পারে, তারা ভবিষ্যতে পড়াশোনায়ও তুলনামূলক ভালো করে। এতে শিশুর মস্তিষ্ক শুধু তথ্য শেখে না, শেখার আনন্দও তৈরি হয়। এই আনন্দই ভবিষ্যতের লাইফলং লার্নিং এর ভিত্তি।
তাই বিষয়টি শুধু ডাইনোসর না, শিশু গভীর মনোযোগ দিয়ে যেকোনো বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেই এই সবকিছু ঘটতে পরে। কারণ গভীর আগ্রহের এই অভ্যাসটাই শিশুকে ভবিষ্যতে আরও সক্ষম করে তোলে।
সূত্র: ইউনিভার্সিটি অব ইন্ডিয়ানা, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন
এএমপি/জেআইএম
What's Your Reaction?