শিশুর মানবিকতায় রক্ষা পেল বসন্ত বৌরী পাখির সংসার
একটু সচেতনতা, একটু মমতা আর কয়েক শিশুর মানবিকতায় রক্ষা পেল একটি বসন্ত বৌরী পাখির পুরো সংসার। গাছ কাটার সময় ঝুঁকিতে পড়া বাসাটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়ায়, আবারও সেই বাসায় ফিরে ডিমে তা দিতে শুরু করে মা পাখিটি। কয়েকদিন পর ডিম ফুটে জন্ম নেয় ছানাগুলো। ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার বেলগাছি গ্রামে। সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ওই মাঠে গিয়ে পাখির বাসাটি দেখা গেলেও সদ্য ফোটানো বাচ্চা ও মা পাখিকে দেখা যায়নি। বাচ্চা ফুটিয়ে একটু বড় করে মা পাখিটি বাচ্চাগুলো নিয়ে নিরাপদে চলে গেছে। তবে গাছ কাটার ঘটনাটি কিছুদিন আগের। জানা যায়, বেলগাছি গ্রামের ক্লাস সেভেনের শিক্ষার্থী জিম আহমেদ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন, ক্লাস সিক্সের শিক্ষার্থী রহমত আলীসহ একদল শিশু মাঠে খেলতে গিয়ে দেখতে পায় একটি মহানিম গাছ কাটা হচ্ছে। গাছটির একটি ডালে বাসা বেঁধে ডিমে তা দিচ্ছিল একটি বসন্ত বৌরী পাখি (স্থানীয়রা যাকে বন টিয়া নামে ডাকে)। গাছ কাটার শব্দে ভীত হয়ে মা পাখিটি উড়ে গেলেও বারবার ফিরে এসে নিজের বাসার চারপাশে ঘুরতে থাকে। যেন নিজের অনাগত সন্তানদের হারানোর শঙ্কায় অস্থির হয়ে উঠেছিল ছোট্ট পাখিটি। দৃশ্যটি শিশুদের মন ছুঁয়ে যায়। ত
একটু সচেতনতা, একটু মমতা আর কয়েক শিশুর মানবিকতায় রক্ষা পেল একটি বসন্ত বৌরী পাখির পুরো সংসার। গাছ কাটার সময় ঝুঁকিতে পড়া বাসাটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়ায়, আবারও সেই বাসায় ফিরে ডিমে তা দিতে শুরু করে মা পাখিটি। কয়েকদিন পর ডিম ফুটে জন্ম নেয় ছানাগুলো।
ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার বেলগাছি গ্রামে। সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ওই মাঠে গিয়ে পাখির বাসাটি দেখা গেলেও সদ্য ফোটানো বাচ্চা ও মা পাখিকে দেখা যায়নি। বাচ্চা ফুটিয়ে একটু বড় করে মা পাখিটি বাচ্চাগুলো নিয়ে নিরাপদে চলে গেছে। তবে গাছ কাটার ঘটনাটি কিছুদিন আগের।
জানা যায়, বেলগাছি গ্রামের ক্লাস সেভেনের শিক্ষার্থী জিম আহমেদ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন, ক্লাস সিক্সের শিক্ষার্থী রহমত আলীসহ একদল শিশু মাঠে খেলতে গিয়ে দেখতে পায় একটি মহানিম গাছ কাটা হচ্ছে। গাছটির একটি ডালে বাসা বেঁধে ডিমে তা দিচ্ছিল একটি বসন্ত বৌরী পাখি (স্থানীয়রা যাকে বন টিয়া নামে ডাকে)। গাছ কাটার শব্দে ভীত হয়ে মা পাখিটি উড়ে গেলেও বারবার ফিরে এসে নিজের বাসার চারপাশে ঘুরতে থাকে। যেন নিজের অনাগত সন্তানদের হারানোর শঙ্কায় অস্থির হয়ে উঠেছিল ছোট্ট পাখিটি।
দৃশ্যটি শিশুদের মন ছুঁয়ে যায়। তারা গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাছে বাসাটি নষ্ট না করার অনুরোধ করে। একই সঙ্গে দ্রুত খবর দেয় চুয়াডাঙ্গার পরিবেশবাদী সংগঠন পানকৌড়ির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বখতিয়ার হামিদ বিপুলকে। বিপুলের বাড়ি ওই বেলগাছি গ্রামে।
খবর পেয়ে বিপুল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সহযোগিতায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাখির বাসাটি কাটা গাছ থেকে আলাদা করে কেটে পাশের একটি কড়ই গাছে বেঁধে দেন। কিছুক্ষণ পরই, মা পাখিটি নতুন স্থানে রাখা বাসাটি খুঁজে পেয়ে সেখানে ফিরে আসে এবং আবার ডিমে তা দেওয়া শুরু করে।
এর কয়েক দিন পর ডিম ফুটে জন্ম নেয় ছোট ছোট ছানা। বখতিয়ার হামিদ বিপুল নিয়মিত বাসাটির খোঁজখবর রাখতেন, যাতে কোনোভাবেই পাখিগুলো আবার বিপদের মুখে না পড়ে। কয়েকদিন আগেই পাখিটি বাচ্চা ফুটিয়ে সেগুলো কিছুটা বড় করে সেখান চলে গেছে।
স্থানীয়রা শিশুদের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশুদের এমন পশুপাখির প্রতি মায়া ও দায়িত্ববোধ সত্যিই অনুকরণীয়। একই সঙ্গে বিপুলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
পরিবেশপ্রেমীরা বলছেন, একটি পাখির বাসা রক্ষা করা শুধু একটি প্রাণ বাঁচানো নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধেরই এক সুন্দর উদাহরণ। ছোট্ট এই মানবিক ঘটনাই প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে মানুষ ও প্রকৃতি পাশাপাশি নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।
ক্লাস সেভেনের শিক্ষার্থী জিম আহমেদ বলেন, আমরা মাঠে খেলছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি মহানিম গাছ কাটা হচ্ছে এবং একটি ছোট্ট পাখি গাছের চারপাশে উড়ছে। কাছে গিয়ে বুঝতে পারি, গাছে পাখির বাসা আছে এবং মা পাখিটি ডিমে তা দিচ্ছিল। তখন খুব খারাপ লাগে। তাই আমরা গাছ কাটার শ্রমিকদের বাসাটি নষ্ট না করার অনুরোধ করি এবং দ্রুত বিপুল ভাইকে খবর দেই।’
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন বলেন, ‘পাখিটা যেভাবে নিজের বাসার জন্য বারবার ফিরে আসছিল, তা দেখে আমাদের খুব মায়া লাগে। আমরা চেয়েছি অন্তত পাখির ডিমগুলো যেন নষ্ট না হয়। পরে বাসাটি নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হলে খুব ভালো লেগেছে।’
বখতিয়ার হামিদ বিপুল বলেন, ‘একটি পাখির বাসা হয়ত অনেকের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু প্রকৃতির কাছে এটি একটি পরিবার। শিশুরা আমাকে খবর না দিলে হয়ত বাসাটি নষ্ট হয়ে যেত। তাদের এই সচেতনতা ও প্রাণের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমরা শুধু বাসাটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিয়েছি। সবচেয়ে বড় কাজটি করেছে শিশুরা। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমন মানবিকতা সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই প্রত্যাশা।’
হুসাইন মালিক/কেজে/জেআইএম
What's Your Reaction?