‘শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার প্রভাব বিস্তৃত’
সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যের সীমান্ত নয় বরং বিশ্ব সিনেমার পরিসর জুড়েই তার প্রভাব বিস্তৃত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী পাওয়ান বঢ়ে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং ভারতরত্নে ভূষিত শ্রী সত্যজিৎ রায়কে আমরা আজ শুধু একজন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করতে একত্র হইনি বরং এমন এক মহিরুহ ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। যার কাজ আজও সীমান্ত পেরিয়ে শিল্পচিন্তা ও মানবিক উপলব্ধিকে প্রভাবিত করে চলেছে। তিনি বলেন, সত্যজিৎ রায় কেবল একজন পরিচালকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ সংবেদনশীল গল্পকার। তিনি এমন এক মানবতাবাদী, যার দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে দৈনন্দিন জীবনের নীরব মর্যাদা। তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন সেসব মানুষকে, যারা প্রায়শই অদেখা, অশ্রুত ও উপেক্ষিত থেকে যায়। তার গল্পগুলো ভৌগোলিক সীমা, ভাষা ও সময়কে অতিক্রম কর
সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যের সীমান্ত নয় বরং বিশ্ব সিনেমার পরিসর জুড়েই তার প্রভাব বিস্তৃত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী পাওয়ান বঢ়ে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং ভারতরত্নে ভূষিত শ্রী সত্যজিৎ রায়কে আমরা আজ শুধু একজন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করতে একত্র হইনি বরং এমন এক মহিরুহ ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। যার কাজ আজও সীমান্ত পেরিয়ে শিল্পচিন্তা ও মানবিক উপলব্ধিকে প্রভাবিত করে চলেছে।
তিনি বলেন, সত্যজিৎ রায় কেবল একজন পরিচালকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ সংবেদনশীল গল্পকার। তিনি এমন এক মানবতাবাদী, যার দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে দৈনন্দিন জীবনের নীরব মর্যাদা। তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন সেসব মানুষকে, যারা প্রায়শই অদেখা, অশ্রুত ও উপেক্ষিত থেকে যায়। তার গল্পগুলো ভৌগোলিক সীমা, ভাষা ও সময়কে অতিক্রম করে সরাসরি মানবজীবনের গভীর সত্যকে স্পর্শ করে— যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে বসে তাকে উদযাপন করা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাকে গড়ে তোলা সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ধারাগুলো আমাদের এই অঞ্চলের যৌথ ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ভারত ও বাংলাদেশের বাংলার প্রকৃতি, সাহিত্য এবং মানুষের জীবনযাপন— এসবই ছিল তার সৃষ্টির পটভূমি। তার কাজ দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে সাড়া জাগায়, আমাদের অভিন্ন সাংস্কৃতিক শিকড় ও অনুভূতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তার চলচ্চিত্র আজও আমাদের যৌথ আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ—দুই বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের প্রতিচ্ছবি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমি খুবই সৌভাগ্যবান সত্যজিৎ রায়ের একশ পাঁচতম জন্মদিন উৎসবে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের দেশের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে যারা কাজ করেন অথবা ফিল্ম নিয়ে কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষের মনোজগৎ তৈরি হয় সেগুলো সত্যজিৎ রায় থেকে অনুপ্রাণিত।
তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই যারা এই জগতে সুপ্ত আগ্রহী মনোজগতকে ধারণ করেন তাদের সঙ্গেও আপনাদের নিশ্চয়ই সংযোগ ঘটবে এবং সংযোগ ঘটলেই আপনারা ভবিষ্যতে সত্যজিৎ রায়দের হয়তো আপনারা পেয়ে যেতে পারেন এবং আমি সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সৃজনশীলতা চর্চা করার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে আমরা কোনো ধরনের কোনো চিন্তার কাঠামোকে কঠিনভাবে মনোযোগের মধ্যে আটকে ফেলেছি কিনা, নাকি চিন্তার জগৎটা উন্মুক্ত। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেহেতু দীর্ঘদিন এই পথে চলাফেরা করি সেহেতু দেশে বিদেশে অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সুযোগ আমার হয়েছে। আমাদের উপমহাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো আমাদের মনোজগতকে কিন্তু আটকে ফেলেছে। আমাদের সাহিত্য, আমাদের শিল্প, আমাদের চলচ্চিত্র আমাদের মনোজগৎ সংস্কৃতি সবকিছু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এছাড়া নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, চিত্র-সমালোচক ও গবেষক অধ্যাপক মঈনুদ্দিন খালেদ, অভিনেত্রী ও শিক্ষক ওয়াহিদা মল্লিক জলি, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম, চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক বিধান রিবেরুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?